শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরে চ্যালেঞ্জ ছিল গণনা কেন্দ্রে স্নায়ুর চাপ ধরে রাখা। রবিবার সেই মতো গণনা এজেন্টদের ভোকাল টনিক দিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। আর, গণনার আগের রাতে লুকিয়ে রেখেছিলেন দলের এজেন্টদের। যাতে কোনও ভাবেই গণনার ২৪ ঘণ্টা আগে তাঁদের নাগাল পেতে না পারে শাসকদল। সোমবার, দিনের শেষে ২০৪০০ ভোটে রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত।
বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুলের বাইরে বেরিয়ে সোমবার দুপুরে সেই গল্প শোনাচ্ছিলেন স্বপনের এজেন্ট সঞ্জয় সাহা। ঠান্ডা পানীয়ে চুমুক দিয়ে হাঁফ ছেড়ে স্বস্তি পাওয়ার মতো ভঙ্গিমায় সঞ্জয় জানাচ্ছিলেন, ২০২১ সালে কী ভাবে ওই গণনা কেন্দ্র থেকেই ধাক্কা দিয়ে তাঁদের বার করে দিয়েছিল তৃণমূলের এজেন্টরা। সঞ্জয়ের কথায়, ‘‘২০২১ সালেই জিততাম। সে বার গণনা চলার সময়ে আমাদের ভয় দেখিয়ে বার করে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার গণনা শুরুর ১২ ঘণ্টা আগে আমাদের মতো এজেন্টরা প্রার্থীর নির্দেশে বাড়ি ছেড়ে হোটেলে চলে যাই। তার পরে এ দিন সকালে গণনা কেন্দ্রে আসি। এজেন্টদের পুলিশ দিয়ে তুলিয়ে নেওয়ার সুযোগই পায়নি তৃণমূল।’’
এ দিন কার্যত সকাল থেকেই ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের থেকে এগিয়ে যেতে শুরু করেন স্বপন। তাঁর সমর্থকেরা জানান, রাসবিহারী কেন্দ্রের বস্তি এলাকা থেকেও স্বপন ভাল সংখ্যায় ভোট টেনেছেন। স্বপনের এজেন্টরা জানাচ্ছেন, এ দিন গণনা কেন্দ্রের ভিতরেও তৃণমূলের এজেন্টরা গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করেন। সঞ্জয়ের অভিযোগ, তাঁরা ঝামেলায় পড়তে পারেন, এমন কথা বলে তাঁদের ভয়ও দেখানো হয়।
স্বপনের কাউন্টিং এজেন্ট উপমন্যু ভট্টাচার্যের অভিযোগ, ‘‘গণনা কেন্দ্রে সকাল থেকে তৃণমূলের লোকজন বলা শুরু করেছিল, দুপুরের পরে শুধু কলকাতা পুলিশ থাকবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে যাবে। তবে, আমরা সবাই কোমর বেঁধেছিলাম।’’
রাজ্যে পালাবদলের পরে কলকাতা শহরের পরিবেশেও নানা ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। তার খানিক দেখা গেল বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুলের বাইরেও। সেখানে জড়ো হওয়া বিজেপি সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে গেলেন কলকাতা পুলিশের দুই আধিকারিকও। এক পুলিশকর্মীকে দেখা গেল, মোবাইলে কাউকে বলছেন, ‘‘এ বার যদি একটু সম্মান নিয়ে চাকরি করতে পারি।’’
বিকেল গড়াতে না গড়াতে ঢোল-তাসা, মালা আর হুড খোলা গাড়ি নিয়ে গণনা কেন্দ্রের সামনে দলে দলে জড়ো হতে শুরু করেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। লেক গার্ডেন্সের বাসিন্দা সুজয় দে হাসতে হাসতে বললেন, ‘‘এখানে এত লোক বিজেপি করে জানতাম না।’’ আর, নতুন বিধায়ক স্বপন শুধু বলেছেন, ‘‘এই জয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জয়। এই জয় শ্যামাপ্রসাদের আদর্শের। এই জয় মানুষের।’’
অন্য দিকে, সদ্য প্রাক্তন বিধায়ক দেবাশিস কুমার বিজেপির এই জয়কে ধর্মীয় মেরুকরণের ভোট বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘এই ভোট মেরুকরণের। তা ছাড়া, আমরা বার বার বলেছি, নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করেছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)