E-Paper

খেলা দেখাচ্ছে শীত, হু হু করে বিকোচ্ছে সোয়েটার-জ্যাকেট

কলকাতার ঠান্ডায় হালকা গরম জামাতেই চলে যেত। দুপুরে ভারী কিছু গায়ে রাখা যায় না, রীতিমতো গরম লাগে, এমনটাই জানতেন শহরবাসী। এ বার পুরো উল্টো চিত্র। দুপুরেও প্রায় কান-মাথা ঢেকে বেরোতে হচ্ছে।

মিলন হালদার

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৫
উষ্ণ স্পর্শ: জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েছে। ফুটপাতের এক দোকানে শীতবস্ত্র কেনার আগে পরখ করে নিচ্ছেন ক্রেতা।

উষ্ণ স্পর্শ: জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েছে। ফুটপাতের এক দোকানে শীতবস্ত্র কেনার আগে পরখ করে নিচ্ছেন ক্রেতা। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক।

পারদ নামায় হাসি চওড়া হচ্ছে শীতবস্ত্র বিক্রেতাদের।

জবুথবু করে দেওয়া এমন শীত গত বেশ কয়েক বছরে দেখেনি কলকাতা। কয়েক দিনের পরে বৃহস্পতিবার রোদ উঠলেও দিনেদুপুরেও কনকনে উত্তুরে বাতাস মালুম হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি থাকবে। তাই শীত মোকাবিলায় সোয়েটার, জ্যাকেট, হুডি কেনার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। গড়িয়াহাট থেকে ধর্মতলা, বা নিউ মার্কেট— দেদার বিকোচ্ছে শীতের পোশাক। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, অন্য বারের তুলনায় এ বার শীতের পোশাক বিক্রি অনেকটাই বেড়েছে। গড়িয়াহাটের একটি শীত-পোশাকের দোকানের মালিক মহম্মদ কাশেম বলছেন, ‘‘গত শীতে দিনে ১৫-২০টি শীতের পোশাক বিক্রি করেছিলাম। এ বার গত তিন-চার দিনেই সেই সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ ছুঁয়েছে।’’

কলকাতার ঠান্ডায় হালকা গরম জামাতেই চলে যেত। দুপুরে ভারী কিছু গায়ে রাখা যায় না, রীতিমতো গরম লাগে, এমনটাই জানতেন শহরবাসী। এ বার পুরো উল্টো চিত্র। দুপুরেও প্রায় কান-মাথা ঢেকে বেরোতে হচ্ছে। গত তিন-চার দিন রোদ ওঠেনি বললেই চলে। সেই সঙ্গে যেন হাড়ে এসে বিঁধছে ঠান্ডা হাওয়া। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আগামী কয়েক দিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করবে ১০-১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। ফলে, মোটা শীতের পোশাক কিনতে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ।

তেমনই এক জন যাদবপুরের শিবু দাস। পেশায় অনলাইনে খাবার সরবরাহকারী এই যুবক গড়িয়াহাটে এসেছিলেন হুডি কিনতে। দরদাম করে কেনার ফাঁকে বললেন, ‘‘অনেক রাত পর্যন্ত আমাকে বাইক চালিয়ে কাজ করতে হয়। এ বার এমন ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে যে, হুডি না হলে চলছে না।’’ শিবানী শিকারী নামে এক মহিলার কথায়, ‘‘ঠান্ডায় যেন হাত-পা চলছে না। ঘরে বসে তো রীতিমতো কাঁপছি। গড়িয়াহাটে তাই সোয়েটার কিনতে এসেছি।’’ বেশ কয়েক জন প্রতিবেশীও তাঁকে সোয়েটার কিনে আনার জন্য বলেছেন বলে জানান শিবানী।

আর একটি শীতবস্ত্রের দোকানের কর্মী পাপ্পু ভগৎ জানালেন, এ বার বিক্রি বেশি হচ্ছে। লোকজন বেশি নিচ্ছেন মোটা জ্যাকেট। বিকোচ্ছে কম্বলও। গড়িয়াহাটের কম্বল ব্যবসায়ী গৌতম সরকার বলেন, ‘‘গত শীতে দিনে ২-৩টি করে কম্বল বিক্রি করেছিলাম। এই শীতে দিনে সাত-আটটি কম্বল বিক্রি হচ্ছে।’’

গরম পোশাক বেশি বিক্রি হওয়ায় খুশি ধর্মতলার ব্যবসায়ী মহম্মদ রেজ্জাক। তিনি বলেন, ‘‘বেশি বিক্রি হচ্ছে জ্যাকেট আর ব্লেজ়ার। প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২টি করে জ্যাকেট বিক্রি হচ্ছে, যা ভাবাই যায় না। ব্লেজ়ারও কিনছেন অনেকে। গতকালই তো পাঁচটা ব্লেজ়ার বিক্রি করলাম।’’

শীত থেকে বাঁচতে ধর্মতলা চত্বরে মোটা জ্যাকেটের খোঁজ করছিলেন এক ব্যক্তি। এক দোকানদার একটি জ্যাকেট দেখাতে ওই ক্রেতা জানতে চাইলেন, ‘‘এর চেয়ে মোটা নেই?’’ বিক্রেতা ফের আর একটি জ্যাকেট দেখালেন। হাত দিয়ে সেটি পরীক্ষা করে ওই ব্যক্তি আবারও জানতে চাইলেন, আরও মোটা জ্যাকেট আছে কিনা। দোকানদার ‘‘না’’ বলায় অন্য দোকানের দিকে পা বাড়ালেন ওই ক্রেতা। বলে গেলেন, ‘‘যা ঠান্ডা পড়েছে, তা আটকাতে আরও মোটা জ্যাকেট দরকার।’’

ওই দোকানে তখন দরদাম করে সোয়েটার কিনতে ব্যস্ত উত্তরপাড়ার দম্পতি অনিল পাল এবং সুনন্দা পাল। নিউ মার্কেটে সোয়েটার কিনতে এসেছিলেন টালিগঞ্জের লিপি হালদার। দরদাম করে সাড়ে তিনশো টাকায় একটি সোয়েটার কিনে তিনি বললেন, ‘‘আগে কলকাতার শীতে রকমারি সোয়েটার পরতাম স্টাইল করার জন্য। এ বার পরতে হচ্ছে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

dress Gariahat Dharmatala New Market

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy