E-Paper

লিফ্ট সংস্থা কালো তালিকাভুক্ত, বহু হাসপাতালে এক সংস্থাকে দায়িত্ব?

যদিও সাত দিন পরেও সে দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মী বা সিআইএসএফ অফিসারদের কারও বিরুদ্ধেই কেন কোনওপদক্ষেপ করা হল না, সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:৩৬
ঘাতক লিফ্ট।

ঘাতক লিফ্ট। ফাইল চিত্র।

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লিফ্টের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বরাত পাওয়া সংস্থাকে। ওই হাসপাতালের লিফ্টে আটকে গিয়ে শরীর থেঁতলে যাওয়ায় কালিন্দীর বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনার সাত দিন পরে এমনই জানা যাচ্ছে। সেই সঙ্গেই জানা গিয়েছে, কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে কোনও একটি সংস্থাকে লিফ্ট রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এর জন্য পূর্ত দফতরের তরফে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। ওই দফতরের এক কর্তার দাবি, ‘‘যে সংস্থা আর জি করের লিফ্টের দায়িত্বে ছিল, তাদের কর্তব্য পালনে গাফিলতি হয়েছে। সেই কারণে ওই সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’’

যদিও সাত দিন পরেও সে দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মী বা সিআইএসএফ অফিসারদের কারও বিরুদ্ধেই কেন কোনওপদক্ষেপ করা হল না, সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। অভিযোগ, অরূপ ও তাঁর পরিবার লিফ্টে আটকে থাকলেও পুলিশ বা সিআইএসএফ-এর কেউই তালা ভেঙে তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করেননি। এরই মধ্যে আজ, শুক্রবার আর জি করের লিফ্ট-কাণ্ডে ধৃত তিন লিফ্টকর্মী ও দুই নিরাপত্তারক্ষীকে আদালতে তোলার কথা। তাঁরা আপাতত পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। আদালতে সওয়াল-জবাব কোন পথে গড়ায়, সে দিকে নজর থাকবে অনেকেরই।

বৃহস্পতিবার অরূপের স্ত্রী সোনালি দাবি করেন, ‘‘আমার স্বামীর মৃত্যুর পরেও কিছুই তেমন বদলায়নি দেখছি। এখনও লিফ্টে লিফ্টকর্মীদের দেখা যাচ্ছে না। অনেকে এখনও ডিউটিতে এসে ঘুমোচ্ছেন। এত বড়, গুরুত্বপূর্ণ একটি হাসপাতালে দিনের পর দিন এমনটা চলছে কী করে, ভেবে অবাক হচ্ছি।’’

সোনালি জানান, তিনি বুধবারই ছেলে আরুষকে নিয়ে রামপুরহাটে বাবা-মায়ের কাছে গিয়েছেন। সেখান থেকেই জানালেন, ২০২০ সালে দুই বাড়ির দেখাশোনার মাধ্যমে অরূপের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর।বর্ধমানের কলেজে পড়া সোনালি পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর করে সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। ২০২২ সালে আরুষের জন্মের পরে তাঁকে নিয়েই ব্যস্ততা বাড়ে সোনালির। বললেন, ‘‘আমার নিজেরবোনের ছেলের মুখেভাতের অনুষ্ঠান। সকলে মিলে রামপুরহাট যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তার মধ্যেই সব বদলে গেল। অরূপ আসতে পারল না। বোন ওর বাচ্চাকে শুধু ঠাকুরবাড়ির প্রসাদ মুখে দিয়ে দেবে বলে ঠিক করেছে। অনুষ্ঠানকরার মানসিকতা কারও নেই। আরুষ তো কিছুই বুঝছে না। ও দাদুর বাড়ি যাবে বলে বায়না ধরেছিল, তাই চলে এলাম।’’

এর পরে তাঁর মন্তব্য, ‘‘বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে আর নিজেকে বুঝিয়ে দিন কাটছে। কালিন্দীর বাড়িটায় টেকা যাচ্ছে না। শুধু মনে হচ্ছে, এত লোকের পাশে দাঁড়িয়েছে যে, তার সঙ্গেই এমনটা হল?’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

RG Kar Medical College And Hospital

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy