ফের লরির সঙ্গে স্কুলগাড়ির ধাক্কায় জখম পড়ুয়ারা। এ বার তেঘরিয়ার চিনার পার্কে। পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে ওই স্কুলগাড়ি এবং পাথরবোঝাই লরিটির সংঘর্ষে দুই পড়ুয়া জখম হয়। মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতে গিয়ে লরিটি রাস্তার উপরে উল্টে যায়। আহতদের আঘাত তেমন গুরুতর না হলেও এখনও আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। পড়ুয়াদের অভিভাবকেরা লরিচালকের বিরুদ্ধে থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের না করায় পুলিশও তাঁকে গ্রেফতার করেনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্কুলগাড়িটি সিগন্যাল ভাঙাতেই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ বছরেরই অগস্ট মাসে নিউ টাউনের আকাঙ্ক্ষা মোড়ের কাছে লরির ধাক্কায় ছাত্রবোঝাই একটি স্কুলবাস উল্টে গিয়ে ১৮ জন পড়ুয়া জখম হয়েছিল। ওই ঘটনার পরে অভিভাবকেরা প্রশ্ন তোলেন, সাতসকালে ওই রাস্তায় কী ভাবে লরি ঢোকে। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে ট্রাফিক পুলিশের কর্তারা তখন জানিয়েছিলেন, স্কুলে আসা-যাওয়ার সময়ে কমিশনারেটের রাস্তায় যাতে লরি না চলে, তার ব্যবস্থা হবে। সে চেষ্টা হলেও ওই সময়ে লরি চলাচল যে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি, এ দিনের ঘটনাই তার প্রমাণ।
বিধাননগর কমিশনারেটের ডিসি (ট্রাফিক) সি সুধাকর অবশ্য বলেন, ‘‘সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত লরি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আজকের দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সকাল ৬ টা ২০ মিনিটে। সারা দিন তো লরি চলাচল বন্ধ রাখা যাবে না।’’
অন্য দিকে, প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছেন— নিউ টাউন থেকে আটঘরার দিকে যাওয়ার পথে চিনার পার্কের কাছে স্কুলগাড়িটিই সিগন্যাল ভেঙে লরির প্রায় মুখোমুখি পড়ে যায়। লরিটি বিমানবন্দরের দিক থেকে নিউ টাউনের দিকে যাচ্ছিল। লরিচালক গাজলু শেখ বলেন, ‘‘স্কুলগাড়িটি সিগন্যাল না মেনে ঢুকে পড়েছিল। গাড়িটিকে বাঁচাতে গিয়ে আচমকা ব্রেক কষি। পাথর বোঝাই থাকায় আমার গাড়ি রাস্তার উপরে উল্টে পড়ে।’’
পুলিশ জানায়, স্কুলগাড়িতে ছিল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র কাব্য কাঞ্জিলাল ও প্রথম শ্রেণির ছাত্র সাগ্নিক রায়। সাগ্নিকের কথায়, ‘‘খুব জোরে আওয়াজ হয়েছিল। আমার বাঁ হাতে লেগেছে।’’ আর কাব্য বলে, ‘‘যে দিকে লরির সঙ্গে ধাক্কা লাগে, সে দিকেই বসেছিলাম। আমি লাফ দিয়ে চালকের পিছন দিকে চলে যাই।’’
আহত ছাত্রদের অভিভাবকেরাও জানান, দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা খবর পান, স্কুলগাড়িটিই সিগন্যাল অমান্য করে। স্কুলগাড়ির মালিক স্বপন ঘোষ অবশ্য বলেন, ‘‘চালকের সঙ্গে কথা হয়নি। কী করে দুর্ঘটনা ঘটল, কার দোষ, জানি না। পুলিশ শুধু দুর্ঘটনার কথা ছাড়া আর কিছু জানায়নি।’’