বেপরোয়া ভাবে স্কুটার চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক যুবকের। পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে ভবানীপুর থানা এলাকার শরৎ বসু রোড এবং চক্রবেড়িয়া রোডের সংযোগস্থলে দু’টি স্কুটারের মধ্যে ধাক্কা লাগে। সেই ধাক্কার অভিঘাতে বেশ কিছুটা দূরে ছিটকে পড়েন একটি স্কুটারের চালক ও আরোহী। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চালককে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। অন্য জন গুরুতর ভাবে জখম। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানায়, দু’জনের কারও মাথাতেই হেলমেট ছিল না।
পুলিশ জানায়, মৃত চালকের নাম সৈয়দ মহম্মদ ফরজানা সাকিব আলি (৩১)। তাঁর বাড়ি এন্টালি এলাকার সৈয়দ আহমেদ রোডে। জখম সঙ্গীর নাম সতীশ সিংহ।
তাঁর বাড়ি আমহার্স্ট স্ট্রিটের কালিদাস সিংহ লেনে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি। ঘটনার পরেই অন্য স্কুটারটি পালিয়ে যায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সেটির খোঁজ চালাচ্ছে ট্র্যাফিক বিভাগের ফেটাল স্কোয়াড।
পুলিশ সূত্রের খবর, এ দিন সকাল ৬টা নাগাদ ফরজানা এবং সতীশ কালীঘাট থেকে শরৎ বসু রোড ধরে বেপরোয়া গতিতে মিন্টো পার্কের দিকে যাচ্ছিলেন। অন্য স্কুটারটি চক্রবেড়িয়া রোড ধরে যাচ্ছিল পূর্ব দিকে। সতীশের দাবি, অন্য স্কুটারটির সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে ফরজানা আচমকা ব্রেক কষে নিজের স্কুটারের গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু দুই স্কুটারে ধাক্কা
এড়ানো যায়নি।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, ফরজানাদের গাড়ির গতি বেশি ছিল। এবং ট্র্যাফিক সিগন্যাল অমান্য করার ফলেই ওই ঘটনা ঘটেছে। তবে অন্য স্কুটারের চালককে পাওয়া গেলেই পুরো ঘটনা জানা যাবে বলে দাবি পুলিশের।
সূত্রের খবর, সতীশের সঙ্গেই একটি কাফেতে কাজ করতেন ফরজানা। কোনও বন্ধুর বাড়িতে পার্টি করে ফিরছিলেন দু’জনে। সতীশ পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁরা মত্ত অবস্থায় ছিলেন।
এ দিন ফরজানার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ভাই জানান, বাড়িতে মা-বাবা রয়েছেন। রাতে দাদা কোথায় গিয়েছিলেন এবং কী ভাবে ওই ঘটনা ঘটল, তা তাঁরা জানেন না।