পেল্লায় দুই স্যুটকেস টেনে হোটেলে ঢুকছিলেন সেনা-পোশাক পরা দুই ব্যক্তি। কিন্তু কিছুতেই রেজিস্টারে সই করতে না চাওয়ায় সন্দেহ হয় হোটেলের কর্মীদের। পরে জোড়়াসাঁকো থানার পুলিশ ওই হোটেলে এসে দু’টি স্যুটকেস থেকে একশো কেজির বেশি গাঁজা উদ্ধার করে। শুক্রবার সকালে গ্রেফতার করা হয় জিনেশ মোলাপি ও ধর্মালিঙ্গম নামে দক্ষিণ ভারতের ওই দুই বাসিন্দাকে। আজ, শনিবার ধৃতদের আদালতে হাজির করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার মহাত্মা গাঁধী রোডের একটি হোটেলে সেনা পোশাকে ঢোকেন ওই দু’জন। হাতে ছিল বড় দু’টি স্যুটকেস। ব্যাগের উপরে লেখা ‘আর্মি’। হোটেলকর্মীরা রিসেপশনের খাতা এগিয়ে দিতেই তর্কাতর্কি শুরু হয়। কিছুতেই সই করে হোটেলে ঢুকতে চাননি তাঁরা। সন্দেহ হওয়ায় তখন কথা না বাড়িয়ে একটি ঘরে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করে দেন হোটেলকর্মীরা। সেই সঙ্গে ফোনে পুলিশকে জানান।
পুলিশ হানা দিয়ে বড় স্যুটকেস দু’টিতে তল্লাশি চালিয়ে ছ’টি প্যাকেটে প্রায় ১০০ কেজির বেশি গাঁজা পায়। বেশ কয়েক দিন ধরেই কলকাতা পুলিশ মাদক চোরাচালান রুখতে তত্পর হয়েছে। এ পর্যন্ত গ্রেফতারও করা হয়েছে বেশ কয়েক জনকে। গত শুক্রবারই ক্রাইম কনফারেন্সে পুলিশ কমিশনার সুরজিত্ কর পুরকায়স্থ শহরে বাড়তে থাকা মাদক চোরাচালান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেই উদ্বেগের সত্যতাই ফের প্রমাণ করে দিল বৃহস্পতিবারের এই ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ধর্মালিঙ্গম আদতে চেন্নাইয়ের বাসিন্দা। অপর ধৃত কেরলের বাসিন্দা বছর আটত্রিশের জিনেশ মোলাপি এর আগেও গাঁজা পাচারের কাজে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন। জিনেশ অসম রাইফেলসের প্রাক্তন সেনাকর্মী হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই পুলিশের নজর এড়িয়ে যেতেন। এ বার তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে ধৃতদের ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছে ভারতীয় সেনার পোশাকও।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সাধারণত উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর থেকেই চোরাই মাদক এই রাজ্যে নিয়ে আসতেন ধৃতেরা। এই রাজ্যের বিভিন্ন হোটেলে থেকে যোগাযোগ করতেন মাদক পাচারের নানা এজেন্টদের সঙ্গে। জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ ধৃতদের মোবাইলগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে। শহরে মাদকের ব্যবসা রুখতে ধৃতদের জেরা করেই এ বার ওই এজেন্টদের কাছে পৌঁছতে চাইছে পুলিশ।