Advertisement
E-Paper

গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে উল্টে গেল মিনিবাস, মৃত তিন

জনবহুল রাস্তায় বেপরোয়া মিনিবাস। বিপজ্জনক ভাবে বারবার ওভারটেক করার চেষ্টা করছেন চালক। কয়েক বার বিফল হয়ে শেষে মরিয়া চেষ্টা। যার মাসুল দিতে হল তিনটে প্রাণকে। একটি গাড়ির সঙ্গে ওই মিনিবাসের মুখোমুখি ধাক্কায় মারা গেলেন তিন জন। আহত হলেন অনেকে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঘটনাটি ঘটেছে বেলেঘাটায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০১৪ ০৩:২১
বেলেঘাটায় দুর্ঘটনার পরে সেই গাড়ি ও মিনিবাস। শুক্রবার। —নিজস্ব চিত্র।

বেলেঘাটায় দুর্ঘটনার পরে সেই গাড়ি ও মিনিবাস। শুক্রবার। —নিজস্ব চিত্র।

জনবহুল রাস্তায় বেপরোয়া মিনিবাস। বিপজ্জনক ভাবে বারবার ওভারটেক করার চেষ্টা করছেন চালক। কয়েক বার বিফল হয়ে শেষে মরিয়া চেষ্টা। যার মাসুল দিতে হল তিনটে প্রাণকে। একটি গাড়ির সঙ্গে ওই মিনিবাসের মুখোমুখি ধাক্কায় মারা গেলেন তিন জন। আহত হলেন অনেকে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঘটনাটি ঘটেছে বেলেঘাটায়। এই অবস্থা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, কলকাতার রাস্তায় যান-চলাচলের অবস্থা। বেলেঘাটার মতো ব্যস্ত এলাকায় পুলিশের চোখ এড়িয়ে কী ভাবে এত বেপরোয়া বাস চলতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ জানায়, এ দিন বিকেলে বেলেঘাটা সরকারবাজারে সল্টলেক থেকে হাওড়াগামী একটি মিনিবাস বেপরোয়া ভাবে একটি গাড়িকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল। তখনই উল্টো দিক থেকে আসা অন্য একটি গাড়িকে মুখোমুখি ধাক্কা মেরে প্রথম গাড়িটির উপরেই উল্টে যায় মিনিবাসটি। দু’টি মোটরবাইকও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় মৃতদের নাম প্রদীপ গুড়ে (৪৬), মহম্মদ সালাউদ্দিন (৪০) ও বিজয়ানন্দ সাহা (৪২)। প্রদীপ ও সালাউদ্দিন ছিলেন মিনিবাসটিতেই। প্রদীপবাবু বেলেঘাটারই বাসিন্দা এবং পেশায় ব্যবসায়ী। বাসটি যে গাড়িটিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল, তার মালিক-চালক বিজয়ানন্দ বাগুইআটির বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পরে স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। তাঁরাই ২৮ জনকে এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই দু’জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। কিছুক্ষণ পরে আরও এক জন মারা যান। আরও আট জন ভর্তি রয়েছেন।

চার বছর আগে এমনই একটি বেপরোয়া মিনিবাস প্রাণ নিয়েছিল দুই ফুটপাথবাসীর। ঘটনাচক্রে, সেই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত খুনের দায়ে এ দিনই সেই বাসচালকের পাঁচ বছরের জেল সাজা হয়েছে আদালতে। এ দিনের ঘটনাতেও একই ধরনের মামলা দায়ের করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত।

কিন্তু কেন বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটবে? কেন যানবাহন বেপরোয়া হওয়া মাত্রই ধরবে না পুলিশ?

কলকাতা পুলিশের এক কর্তা জানান, দুর্ঘটনাস্থলের কাছে কোনও ট্রাফিক পুলিশ ছিল না। সেই সুযোগেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন চালক। লালবাজারের বক্তব্য, কোনও রাস্তায় এক হাত অন্তর অন্তর পুলিশ মোতায়েন করা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে বাসচালকদেরই আরও সচেতন হতে হবে। বাস ইউনিয়নগুলিরও এ ব্যাপারে দায়িত্ব রয়েছে বলে মনে করেন পুলিশকর্তাদের একাংশ। যদিও মিনিবাস সংগঠনের সম্পাদক অবশেষ দাঁ বলেন, “আগের থেকে অনেক কমেছে বেপরোয়া বাস চালানো। তবে অতিরিক্ত কমিশনের আশায় কয়েক জন চালক এখনও বেপরোয়া বাস চালিয়ে থাকেন।”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিনের দুর্ঘটনার পরেই বন্ধ হয়ে যায় বেলেঘাটা মেন রোডের যান চলাচল। স্থানীয় বাসিন্দারাই মিনিবাসটিকে ঠেলে সোজা করেন। অভিযোগ, ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পরে পুলিশ পৌঁছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলিকে সরিয়ে নিয়ে যায়। দুর্ঘটনার জেরে রাত পর্যন্ত বেলেঘাটা থেকে শিয়ালদহ যানজট চলেছে। যান-চলাচল ব্যাহত হয়েছে এ জে সি বসু রোড ও এপিসি রোডে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পরেই মিনিবাসের চালক ও খালাসি পালিয়েছে। রাত পর্যন্ত তাদের ধরা যায়নি। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জেনেছে, ওভারটেক করার সময়ে বাসের সামনে পড়ে যান দুই পথচারী। তাঁদের বাঁচাতে গিয়েই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন চালক। পুলিশের অনুমান, ওভারটেক করার সময়ে বাসের ‘স্টিয়ারিং লক’ হয়ে গিয়েছিল। এলাকার বাসিন্দা ও দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্বপন দাস জানান, বাসটি খুব জোরে আসছিল। ওভারটেক করার সময়েই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাড়িকে ধাক্কা মেরে উল্টে যায় মিনিবাসটি।

accident
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy