মাদার ডেয়ারির একটি বুথ, বেসরকারি সংস্থার একটি কাঠামো ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার চিকিৎসা কেন্দ্র— এই তিনের ফাঁসে আটকেছিল জোকা-বি বা দী বাগ মেট্রো প্রকল্পের মাঝেরহাট স্টেশনের কাজ। এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ কতটা সদর্থক মনোভাব নিয়েছে, সেই বার্তা নয়াদিল্লিকে দিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করল রাজ্য। কিন্তু কাজ কবে শেষ হবে, সেই প্রশ্নের সদুত্তর মিলল না।
মঙ্গলবার জোকায় নির্মীয়মাণ মেট্রো স্টেশনে জট কাটাতে হাজির ছিলেন পরিবহণ সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মন্তব্য, “রাজ্য সব রকম সাহায্য করবে। অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্যের কথা হয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আইনি সমস্যাগুলি জটিল ও সময়সাপেক্ষ।” রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল)-এর কর্তারা জানান, প্রতিরক্ষা বাহিনীর অধীন এলাকায় কাজের জন্য ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ মেলেনি। জোকায় ডিপো তৈরির জমি জোগাড় করতেও সমস্যা হচ্ছে। আরভিএনএল-এর উচ্চপদস্থ কর্তা রাজেশ প্রসাদ বলেন, “শহরের ব্যস্ত এলাকায় প্রকল্পের কাজ করা কঠিন।” তবে তাঁদের বক্তব্য, জট কাটলে আড়াই বছরে প্রকল্পের কিছুটা অংশে মেট্রো চালানো সম্ভব। কিন্তু মেট্রো-কর্তাদেরই একাংশের বক্তব্য, দুধ বিক্রয় কেন্দ্রের মতো ‘বাধা’ সরলেও মাঝেরহাটের পরে কী ভাবে প্রকল্পের লাইন এগোবে, তার উত্তর নেই। বি বা দী বাগে কোথায় মেট্রো নামবে? তারও জবাব নেই। এক মেট্রোকর্তার মন্তব্য, “ভাল ভাবে সমীক্ষা না করে কেন প্রকল্পের কাজ শুরু করা হল, সেটাই এখনও বোঝা গেল না।”
আলাপনবাবু জানান, জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত কাজের পরে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। তা কাটাতে বিভিন্ন দফতর ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ে উদ্যোগী হয় রাজ্য সরকার। এ দিনের অনুষ্ঠানে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড, কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট, কলকাতা রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম, মাদার ডেয়ারি-সহ অন্য কয়েকটি সংস্থার প্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্যে নথিপত্র বিনিময় করেন।