Advertisement
E-Paper

নাড়াচা়ড়া সবই এথনিক নিয়ে

পেনসিল স্কার্ট নাকি তসর-তাঁত? বছরভরের দৌড়ঝাঁপে আর ক’দিনই বা আশ মিটিয়ে শাড়ি পরা! জিন্‌স-টপ-কুর্তি-পালাজোর রমরমা রাজপাটে সালোয়ার-কামিজও প্রায় কোণঠাসা।

পরমা দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৫ ০২:৩২

পেনসিল স্কার্ট নাকি তসর-তাঁত?

বছরভরের দৌড়ঝাঁপে আর ক’দিনই বা আশ মিটিয়ে শাড়ি পরা! জিন্‌স-টপ-কুর্তি-পালাজোর রমরমা রাজপাটে সালোয়ার-কামিজও প্রায় কোণঠাসা। ডিজাইনাররা তাই বলছেন, পুজোর ক’টা দিন না হয় কাটুক এথনিক সাজেই। নানা রঙের শাড়িতে, সালোয়ার-কামিজে, গয়নার দ্যুতিতে ঝলমল করুক মণ্ডপ।

ডিজাইনার চৈতালী দাশগুপ্তর ভোট পুরোটাই শাড়ির দিকে। ‘‘ষষ্ঠী থেকেই শুরু হোক নতুন শাড়ি। এখন যা আবহাওয়া, সকালের রোদে সুতির শাড়িই ভাল। সিল্ক, তসরের ভারী শাড়ি তোলা থাক সন্ধে বা রাতের জন্য। পুজো মানেই উজ্জ্বল রং, তাই ইচ্ছেমতো রং বাছুন। একটু এক্সপেরিমেন্টাল হতে চাইলে শাড়ির সঙ্গে পরুন জ্যাকেট, একটু কায়দা থাক ব্লাউজের কাট-ডিজাইনে,’’ বলছেন তিনি।

Advertisement

ডিজাইনার চন্দ্রাণী সিংহ ফ্লোরা অবশ্য বৈচিত্র্যের পক্ষে। বললেন, ‘‘শাড়ির সঙ্গে থাক অন্য পোশাকও। সপ্তমীর শাড়িতে থাক চেক্‌স, সঙ্গে কনট্রাস্ট রঙের ব্লাউজ। সন্ধ্যায় থাক কুর্তি-পাতিয়ালা বা বাহারি সালোয়ার-কামিজ। অষ্টমীতে চিরকালীন লালপেড়ে শাড়ি-গয়নার পরে নবমীতে হোক এখনকার ফ্যাশনে ‘ইন’ পেনসিল স্কার্ট-ঢোলা টপ, বাহারি ম্যাক্সি ড্রেস কিংবা লুজ টপ-পালাজোর বোহেমিয়ান সাজ। দশমীতে ফের শাড়িই ভাল, এক্সপেরিমেন্টাল জ্যাকেট, শার্ট, টপ বা লুজ ফিট ব্লাউজের সঙ্গে। পরতে পারেন সাটিন পাড় সুতিও। তবে গয়নার ক্ষেত্রে যা-ই পরুন, গলায় ভারী গয়না থাকলে হাল্কা থাক কান, কান বা হাতে ভারী গয়না থাকলে গলা খালি রাখাই ভাল।’’ চন্দ্রাণীর পরামর্শ, লাল, মেরুন, পেঁয়াজি রং, বেগুনি, কোবাল্ট ব্লু, কমলার মতো উজ্জ্বল রঙের শাড়ির সঙ্গে থাক ‘পুজো-স্পেশাল’ সোনা বা রুপোর গয়না। বোহেমিয়ান সাজে পাল্লা দিক জাঙ্ক জুয়েলারি।

পুজোর বাজার শুরু হয়েছে ঢের আগেই। তবু শেষ মুহূর্তেও যাঁরা শাড়ির কেনার লোভটা সামলে উঠতে পারেন না, তাঁদের জন্য এখনও দোকানে-বুটিকে হাজির নানা ধরনের শাড়ি। আইসিসিআর-এ ক্রাফ্টস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া-র বিপণি ‘কমলা’য় রয়েছে নানা রঙের হাতে বোনা সুতির শাড়ি, সুতির বেনারসী, ফুলিয়ার তসর পাড় তাঁত, শান্তিপুরী, ধনেখালি, টাঙ্গাইল শাড়ি। রয়েছে চান্দেরী, শিবোরি, মটকা, মেখলা, তেলিয়া, ইক্কত, মঙ্গলগিরির মতো নানা প্রদেশের শাড়িও। মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা, অন্ধ্রের তসর রয়েছে গড়িয়াহাটের ‘কণিষ্ক’-তেও। সুতিতে বাংলার তাঁতের পাশাপাশি রয়েছে চেট্টিনাড, লিনেন, মলমল, কোটা, হাল্কা ছাপা চান্দেরি, মাহেশ্বরী। রয়েছে নানা রঙের শিফন এবং জর্জেট। সুতির বেনারসী, তসর, কোটার মতো হাল্কা শাড়ি রয়েছে ট্রায়াঙ্গুলার পার্কের ‘সিমায়া’য়। আর আছে কোশা বা ঘিচা, নানা রঙের জমকালো জর্জেটও।

গল্‌ফ ক্লাব রোডের ‘শ্রাবস্তী’তে রয়েছে অ্যাপ্লিকের কাজ করা পাতলা সুতির শাড়ি, হাল্কা তসর। উজ্জ্বল রঙে ভরাট কাজের হ্যান্ডলুম, জমকালো পাড় ও কাজের ডিজাইনার শাড়ি রয়েছে বেহালা ব্যানার্জিপাড়ার ‘ফিওনা’য়। ট্রায়াঙ্গুলার পার্কের ‘বহ্নিশিখা’র ভাঁড়ারে আছে টিস্যু প্যানেল দেওয়া সিল্ক সুতির শাড়ি, মটকা, খাদি সিল্কে নানা ধরনের শিবোরি, টাই অ্যান্ড ডাই, মুগা সিল্কও।

আর ছেলেদের ফ্যাশন? ডিজাইনার চৈতালী দাশগুপ্ত বলছেন, ‘‘রোজকার জিন্‌স-টিশার্ট বা ফর্মাল পোশাক তাকে তুলে রেখে পুজোয় ছেলেরা পরুক নানা ধরনের কাজ করা পাঞ্জাবী, সঙ্গে ধুতি বা পাজামা। জিন্‌স-কুর্তায় খানিকটা এথনিক সেজে নেওয়াই যায়।’’ এ বার পুজোয় বরাবরের মতোই তাঁর বুটিকে ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবী, কুর্তা, কবিতার লাইনে সাজানো পদ্য পোশাক।

ইচ্ছে থাকলেও যাঁরা ধুতিটা ঠিক সামলাতে পারেন না, পুজোর ক’টা দিন তাঁরা পরুন ধোতি প্যান্ট বা সেলাই করা ধুতি, জানাচ্ছেন ডিজাইনার অভিষেক দত্ত। তাঁর মতে, এ বার ছেলেদের ফ্যাশনে ‘ইন্দো-ওয়েস্টার্ন লুক’। ‘‘নানা রঙের প্রিন্টেড বা টাই অ্যান্ড ডাইয়ের সামার জ্যাকেট বা জহর কোট দিয়ে কুর্তা বা শার্ট, সঙ্গে যোধপুরী প্যান্ট বা জিন্‌স। আঙরাখার স্টাইলে পাঞ্জাবী বা কুর্তাও ভাল দেখাবে। রং বাছাইয়ে এ বার ‘ইন’ তুঁতে, গাঢ় সবুজ, ইয়েলো অকারের মতো শেড,’’ বলছেন তিনি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy