Advertisement
E-Paper

ফিরে দেখা (২১ মার্চ ১৯৬৪ — ২০ এপ্রিল ১৯৬৪)

দিন আসে, দিন যায়, তার ফাঁকেই ইতিহাসে ঢুকে পড়ে তার চলাচলের খবর। পুরনো দিনের শহুরে খবর দিয়ে চেনা যায় এখনকার অতি পরিচিত শহরের অতীতটাকে, তার নাগরিক জীবনযাপন থেকে খেলাধুলো, সংস্কৃতি বা কূটকচালি থেকে রাজনীতির হাল। পঞ্চাশ বছর আগের কলকাতা শহরের গতিবিধি চিনতে ২১ মার্চ ১৯৬৪ থেকে ২০ এপ্রিল ১৯৬৪ এক মাসের কিছু বিশেষ খবর।দিন আসে, দিন যায়, তার ফাঁকেই ইতিহাসে ঢুকে পড়ে তার চলাচলের খবর। পুরনো দিনের শহুরে খবর দিয়ে চেনা যায় এখনকার অতি পরিচিত শহরের অতীতটাকে, তার নাগরিক জীবনযাপন থেকে খেলাধুলো, সংস্কৃতি বা কূটকচালি থেকে রাজনীতির হাল। পঞ্চাশ বছর আগের কলকাতা শহরের গতিবিধি চিনতে ২১ মার্চ ১৯৬৪ থেকে ২০ এপ্রিল ১৯৬৪ এক মাসের কিছু বিশেষ খবর।

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৪ ০০:০০

শনিবার, ৭ চৈত্র, ১৩৭০, SATURDAY, MARCH 21, 1964

কলিকাতায় মধ্যবিত্ত বাঙালী উত্খাত: শুক্রবার কলিকাতা কর্পোরেশনের সভায় একাধিক সদস্য এই বলিয়া গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, কলাকাতা মহানগরী হইতে ক্রমশঃ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বাঙ্গালী উত্খাত হইয়া যাইতেছেন। পৌরসভার বাজেট আলোচনা কালে বিভিন্ন সদস্য ঐরূপ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁহারা বলেন যে, কোন কোন এলাকার অধিকাংশ বাড়ীই ইতিমধ্যে বাঙ্গালীদের হাতছাড়া হইয়া গিয়াছে। অন্যান্য অঞ্চলেও অনেক মধ্যবিত্ত বাঙ্গালী বাড়ী বিক্রয় করিয়া দিতে বাধ্য হইতেছেন। দীর্ঘ চার ঘন্টা বিতর্কের পর এই দিন সভায় সামান্য সংশোধনী প্রস্তাবসহ পৌরসভার ১৯৬৪-৬৫ সালের বাজেট গৃহীত হয়। স্ট্যান্ডিং ফিন্যান্স কমিটির এই বাজেটে মোট আয় ধরা হইতেছে ১০,৩৮,৭১,০০০ টাকা। উহা কমিশনারের বাজেটের প্রস্তাবিত ব্যয়ের পরিমাণ অপেক্ষা ৩৫,০৪,৬০০ টাকা বেশী। কমিটির বাজেটে ২৩ লক্ষ ৭ হাজার টাকার ঘাটতি অনুমিত হইয়াছে। তবে প্রারম্ভিক তহবিলের ৩৫,৫৮,০০০ টাকা লইয়া বর্ষশেষ তহবিলে ১২,৫১,০০০ টাকা উদ্বৃত্ত থাকিবে বলিয়া ঐ বাজেটে ধরা হইয়াছে।


—আমাদের মাইনে না বাড়ালে
আমরাও কেনে খেল্ দেখাব না


হ্যালো, এডভোকেট জেনারেল? রোজ রোজ বিরিয়ানী
পোলাও খেতে চাওয়াটা কি আইনসঙ্গত?


মৌন থেকেও হাতে
কাজ করা যায় স্যার।

রবিবার, ৮ চৈত্র, ১৩৭০, SUNDAY, MARCH 22, 1064

কলিকাতার ইডেন উদ্যানে দুইদিনব্যাপী ব্যবসায়ী সম্মেলন আরম্ভ: শনিবার কলিকাতায় ইডেন উদ্যানে পশ্চিমবঙ্গ ব্যবসায়ী সম্মেলনের দুই দিনব্যাপী অধিবেশন সুরু হয়। সম্মেলনের সভাপতী শ্রী কে কে বিড়লা তাঁহার স্বাগত ভাষণে সম্ভাব্য সকল প্রকারে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির সম্প্রসারণকল্পে যথাযোগ্য সাহায্য দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এবং পরিকল্পনা কমিশনের নিকট আবেদন জানান। সম্মেলনের উদ্বোধন করিয়া পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান শ্রীঅশোক মেটা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নতিকল্পে নূতন সঙ্কল্প ও সাহসে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী সমাজকে আহ্বান জানান। বঙ্গীয় জাতীয় বণিক সভা ভারত চেম্বার অব কমার্স এবং ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের যুক্ত উদ্যোগে ঐ সম্মেলনের আয়োজন করা হইয়াছে। পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্, মাঝারি এবং ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসায় সংস্থার প্রায় আট হাজার প্রতিনিধি উহাতে যোগ দেন।

সোমবার, ৯ চৈত্র, ১৩৭০ (৩ চৈত্র, ১৮৮৬ শক) MON, MAR. 23, 1964

সভায় চেয়ার ছোড়াছুড়ি: রবিবার বিকালে মহম্মদ আলী পার্কে ‘কংগ্রেস সোস্যালিস্ট ফোরাম’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী কে ডি মালব্যের বক্তৃতার সময় জনতার মধ্য হইতে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। ঐ সময় শূন্যে দুইখানি চেয়ারও উড়িতে দেখা যায়। দুইজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। শ্রী মালব্য বলেন যে, চীনের বিরুদ্ধে কয়েকটি খন্ডযুদ্ধে জয়ী হইতে না পারিলেও শেষ পর্যন্ত ভারতই জয়ী হইবে। জনতার মধ্যে কয়েকজন চীনের সহিত যুদ্ধ শেষ হইয়াছে কিনা উহা জানিতে চাহে। জনতার মধ্যে আর একদল ইহার প্রতিবাদ জানায়। বাদপ্রতিবাদে কিছুক্ষণের জন্য বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। সেই সময় চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়। অবশ্য একটার পরই অবস্থা শান্ত হয় এবং শ্রীমালব্য বক্তৃতা প্রসঙ্গে পূর্বপাকিস্তানে সংখ্যালঘু নিধন বন্ধ করিতে রাষ্ট্রসংঘের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করেন। কাশ্মীর সম্পর্কে তিনি বলেন যে, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুতরাং কাশ্মীরে গণভোট গ্রহণের কোন প্রশ্নই ওঠে না।

বুধবার, ১১ চৈত্র, ১৩৭০ (৫ চৈত্র, ১৮৮৬ শক) WED, MAR. 25, 1964

খাস কলকাতার বুকে পাকিস্তানী চর-চক্র: মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ বিধান পরিষদে দুইটি গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করিয়া সভাকক্ষে ও লবীতে যথেষ্ট চাঞ্চল্যের সঞ্চার হয়। প্রথম অভিযোগটি হইতেছে, এই কলিকাতারই বুকে পাক ডেপুটি হাই কমিশন অফিসের অদুরে পাক গুপ্তচরদের একটি মধুচক্রের অবস্থিতি এবং উহার সহিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরই একাধিক পদস্থ অফিসারের যোগসাজস সম্পর্কে। অপরটি হইতেছে, ইংলন্ড ও পশ্চিম ইউরোপের অন্যান্য দেশে কলিকাতার দাঙ্গা সম্পর্কে পাকিস্তানের সমর্থনে কোন কোন বিদেশী সংবাদদাতা প্রেরিত অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রচার করিয়া ভারতের মুখ নীচু, করার অপচেষ্টা সম্বন্ধে। প্রথম অভিযোগটি উত্থাপন করিয়া আর এস পি সদস্য শ্রীযতীন চক্রবর্তী বলেন যে, ঐ চক্রের নায়কদের ট্রান্সমিটার, গাড়ি ইত্যাদি আছে এবং তাহাদের সহিত পাক ডেপুটি হাইকমিশনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। তিনি যথোচিত দায়িত্ব লইয়াই এই অভিযোগ উত্থাপন করিতেছেন, মুখ্যমন্তী এবং রাজ্য সরকার নিরপেক্ষ মন লইয়া ইহার যথোচিত তদন্ত করিলেই ঐ পাকদরদী মধুচক্রের নায়কদের কীর্তিকলাপ উদ্ঘাটিত হইতে পারে। দ্বিতীয় অভিযোগটি উত্থাপন করিয়া কম্যুনিস্ট সদস্য শ্রীগোপাল হালদার বলেন, কলিকাতায় থাকিয়াই একশ্রেণীয় বিদেশী সংবাদদাতা কলিকাতা ও ভারতের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর সংবাদ ও ফটো ইত্যাদি তুলিয়া ইউরোপীয় দেশগুলিতে প্রেরণ করিবেন এবং ঐসব দেশ মহা উত্সাহে সেগুলি টেলিভিশন, রেডিও প্রভৃতির মাধ্যমে প্রচার করিবেন; আর ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঐ বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার বন্ধ করার বা প্রকৃত ঘটনা প্রচার করার কোন ব্যবস্থা করিবেন না, ইহা কিরূপ কথা?

বৃহস্পতিবার, ১২ই চৈত্র, ১৩৭০, THURSDAY, MARCH 26, 1964

আইন অমান্য আন্দোলন আরম্ভ: পূর্ব পাকিস্তান সংখ্যালঘু বাঁচাও কমিটির উদ্যোগে বুধবার হইতে আইন অমান্য আন্দোলন সুরু হয়। প্রথম দিন প্রজা-সমাজতন্ত্রী নেত্রী শ্রীমতী লীলা রায়ের নেতৃত্বে মোট ১১৪ জন রাজভবনের সম্মুখে পুলিশ-বেষ্টনী ভেদ করিয়া গ্রেপ্তার বরণ করেন। তাঁহাদের মধ্যে অপর ৮ জন মহিলাও ছিলেন। পূর্ববঙ্গের সংখ্যালঘুদের ভারতে আনয়ন ও সুষ্ঠু পুনর্বাসন, উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বিধাগ্রস্ত নীতির প্রতিবাদে এবং ভূদেব সেনের মৃত্যু সম্পর্কে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে কলিকাতায় এই আইন অমান্য আন্দোলন সুরু হয়। এইদিন সম্মিলিত বামপন্থী দলের আহ্বানে উদ্বাস্তুদের সুষ্ঠু পুনর্বাসনের দাবিতে বিক্ষোভসভা এবং শোভাযাত্রাও অনুষ্ঠিত হয়। পশ্চিমবঙ্গ ব্যক্তিস্বাধীনতা কমিটির উদ্যোগেও কলেজ স্কোয়ারে একটি বিক্ষোভ-সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই দুইটি মিছিল কোনরূপ আইন অমান্য করে নেই।

ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ও শ্রীনারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় আনন্দ পুরস্কার পাইবেন: এই বত্সর আনন্দ-পুরস্কারলাভে সম্মানিত হইতেছেন ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ও শ্রীনারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়। আনন্দ পুরস্কার সমিতি স্থির করিয়াছেন সাহিত্যকৃতির জন্য ১৩৭০ সনের প্রফুল্ল-স্মৃতি-পুরস্কার পাইবেন ডক্টর চট্টোপাধ্যায় এবং সুরেশ-স্মৃতি-পুরস্কার পাইবেন শ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। গত কয়েক বত্সর যাবত্ আনন্দবাজার হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড ও দেশ পত্রিকার পক্ষ হইতে প্রতি বত্সর দুইজন কৃতী বঙ্গসাহিত্যসেবীকে আনন্দ-পুরস্কার দিয়া সম্মানিত করা হইতেছে। গত বত্সর এই পুরস্কার দুইটি পাইয়াছিলেন শ্রীকালিদাস রায় ও শ্রীরমাপদ চৌধুরী। আগামী বৈশাখ মাসে আনুষ্ঠানিক ভাবে এইবার নির্বাচিত ওই দুই সাহিত্যসেবীর হাতে পুরস্কার দুইটি তুলিয়া দেওয়া হইবে।

বৃহস্পতিবার, ১২ই চৈত্র, ১৩৭০, THURSDAY, MARCH 26, 1964

সংবাদপত্র শিল্পে নিউজপ্রিন্ট সমস্যা: দেশের জনসাধারণের মধ্যে সংবাদপত্র পাঠের আগ্রহ ক্রমবর্ধমান। ক্রমবর্ধমান সংবাদপত্রশিল্পের উত্পাদনব্যয় এবং অন্যান্য খরচ। সুতরাং, সবদিক দিয়া প্রচারসংখ্যা না-বাড়িলেই নয়। কিন্তু বাদ সাধিয়াছে সরকারের নিউজপ্রিন্ট (যে কাগজে সংবাদপত্র ছাপা হয়) আমদানি নীতি। ইন্ডিয়ান অ্যান্ড ইস্টার্ন নিউজপেপার সোসাইটি এক বিবৃতি মারফত্ সংবাদপত্রশিল্পে নিউজপ্রিন্ট সমস্যার তথ্যবহুল বিশ্লেষণ সংবাদপত্র পাঠকদের সমীপে পেশ করিয়াছেন। নিউজপ্রিন্ট সরবরাহে ঘাটতির জন্য দৈনিক সংবাদপত্রগুলি যে প্রচন্ড অসুবিধার মধ্য দিয়া চলিতেছে, এ সম্পর্কে পাঠকদের অবহিত থাকা দরকার। এই অসুবিধা গত ২০ মাস ধরিয়া বিশেষভাবে অনুভূত হইতেছে।

শুক্রবার, ১৩ চৈত্র, ১৩৭০, FRIDAY, MARCH 27, 1964

এপ্রিল হইতে কলিকাতায় পানীয় জল সরবরাহ বৃদ্ধি: আগামী এপ্রিল মাস হইতে প্রয়োজনের সময় মহানগরীতে পরিস্রুত জলের সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পাইবে। এই উদ্দেশ্যে উচ্চ-চাপে কর্পোরেশনের জল সরবরাহের সময় দৈনিক পৌনে সাত ঘন্টা হইতে বাড়াইয়া নয় ঘন্টা করা হইবে। ইহা ছাড়া অগ্নিনির্বাপনের কাজের জন্য যে বৃহত্-ব্যাসের নলকূপ আছে উহার দ্বারাও বেশী করিয়া জল তুলিয়া চাহিদা অনুসারে ঘাটতি এলাকার সরবরাহ করা হইবে। বৃহস্পতিবার কলকাতা কর্পোরেশনের এক বিশেষ সভায় জল সরবরাহ কমিটির সভাপতি শ্রীঅনিল মৈত্র এই ঘোষণা করেন। মহানগরীর পরিস্রুত ও অপরিস্রুত জলের তীব্র অভাব মিটাইবার পথ নির্ধারণের উদ্দশ্যে বিরোধী সদস্য ঐ বিশেষ সভাটি তলব করিয়াছিলেন। দুই ঘন্টার উপর ধরিয়া ২৫ জন সদস্য একদিকে যেমন জলাভাব মিটাইবের জন্য নানারূপ প্রস্তাব করেন, তেমনি অন্যদিকে জল সরবরাহ কমিটি ও সরকারের কার্যকলাপের যথারীতি সমালোচনাও করেন।

শনিবার, ১৪ চৈত্র, ১৩৭০ (৮ চৈত্র, ১৮৮৬ শক) SAT., MAR. 28, 1964

গার্ডেনরীচে বিমান দুর্ঘটনা: শুক্রবার বিকালে বেহালা বিমানঘাটির অদুরে গার্ডেনরীচ এলাকায় একখানি ছোট বোনাঞ্জা বিমান এক দুর্ঘটনায় পড়ে। উহাতে চালকসহ চারজন আরোহী ছিলেন। সৌভাগ্যবশত কাহারও প্রাণহানি হয় নাই। বিমানের ইঞ্জিনটি বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে। দুর্ঘটনায় পতিত ঐ চার আসনের ছোট বিমানটি শুক্রবার সকালেই বেহালা হইতে দীঘা যায়। এবং বিকালে দীঘা হইতে বেহালায় ফিরিয়া আসিতেছিল। বিমানটিতে চালক ব্যতীত একজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি, একজন মহিলা ও একটি বালক ছিল বলিয়া জানা যায়। সকলেই মৃদু আঘাত পান। তাঁহাদের নাম-ধাম পরিচয় কিছু জানা যায় নাই। দুর্ঘটনার পরে তাঁহারা বিমানখানিকে ফেলিয়া রাখিয়া বেহালা বিমানঘাটিতে তাঁহাদের পরিচিত এক ব্যক্তির মোটরে করিয়া কলিকাতা চলিয়া যান।

রবিবার, ১৫ চৈত্র, ১৩৭০ Sunday, March 29, 1964

এবারের দোলে আতিশয্য নাই: এখানে-ওখানে দুই একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শনিবার কলিকাতা ও শহরতলী অঞ্চলে দোল উত্সব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের উপর নারকীয় নির্যাতনের পটভূমিকায় এবং উহার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু জনসাধারণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসাবে যতটুকু করনীয় তাহা ছাড়া উত্সব পালনে সকলপ্রকার আতিশয্য বর্জন করিয়াছেন। তাঁহারা মানবতায় আবেদনে সাড়া দিয়াছেন। বস্তুত অন্যান্য বত্সরের তুলনায় এবারকার দোল উত্সবকে একটা ব্যতিক্রমের কোঠায় স্থান দেওয়া যাইতে পারে।

রবিবার, ১৫ চৈত্র, ১৩৭০ Sunday, March 29, 1964

শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবির্ভাব মহোত্সব: শনিবার সন্ধ্যায় দেশপ্রিয় পার্কে এক বিশাল জনসমাবেশে শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মহান আবির্ভাব মহোত্সব অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন, শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারামদাস ওঙ্কারনাথজী। ষোড়শ শতকে বাঙালীর চরম দুর্দশার দিনে নদীয়ায় ঠাকুর শ্রীচৈতন্যদেবের কথা স্মরণ করিয়া বিভিন্ন বক্তা বর্তমানের বেদনাজর্জর বাঙলাদেশে পুনরায় তাঁহার আবির্ভাবের প্রার্থনা করেন। তাঁহারা বলেন আমরা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াইয়াছি- তুমি আসিয়া আমাদের মৃত্যু হইতে অমৃতের পথে লইয়া যাও। শ্রীচৈতন্যের প্রেম ধর্ম অনুসরনের জন্য তাঁহারা সকলের নিকট আহ্বাণ জানান। অনুষ্ঠান আরম্ভের বহু পূর্ব হইতেই দলে দলে নরনারী এবং ভক্তবৃন্দ পার্কে সমবেত হইতে থাকেন। সন্ধ্যার পর পার্ক ও উহার আশেপাশে কয়েক লক্ষ লোকেরা সমাবেত অনুষ্ঠানটিকে ভাবগম্ভীর করিয়া তোলে।

—আমার বিশ্বাস, চালে কাঁকড়ের
বদলে ধূলো মেশালে দাঁতের
আয়ু বৃদ্ধি পাবে...

—বিজ্ঞানী বলতে বুঝি প্রচার
বিজ্ঞানীদের যারা ভোটের
সময় আমার হয়ে...


—বৌ, মেয়ে, দু’জনের স্কুল ফাইনাল
পরীক্ষা, আমি অফিস গেলে
সংসার দেখবে কে!

মঙ্গলবার, ২০ চৈত্র, ১৩৭০ Tuesday, March 31, 1964

সাতটি বামপন্থীদলের ২৫৬ জনের ২৪ ঘণ্টার জন্য প্রতীক অনশন ধর্ম্মঘট: সোমবার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে সাতটি রক্তপতাকার নীচে পশ্চিমবঙ্গের সাতটি বামপন্থী দলের ২৫৬ জন ২৪ ঘণ্টার জন্য প্রতীক অনশন ধর্ম্মঘট সুরু করেন। নবাগত উদ্বাস্তুদের সুষ্ঠু পুনর্বাসন নীতি, ভূদেব সেনের মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রভৃতির দাবিতে এই অনশন। এই সাতটি বামপন্থী দল হইল কম্যুনিস্ট পার্টি, আর এস পি, আর সি পি আই, বলশেভিক পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, মার্ক্সবাদী ফরোয়ার্ড ব্লক ও সোস্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার। এই গণঅনশন সুরু করার আগে সোমবার বিকেলে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে এক জনসভায় কম্যুনিস্ট নেতা শ্রীজ্যোতি বসু ঘোষণা করেন, ১লা এপ্রিল সপ্তবামপন্থী দলের পক্ষ হইতে এক প্রতিনিধি দল দিল্লি গিয়া কেন্দ্রীয়মন্ত্রী শ্রীলালবাহাদুর শাস্ত্রী ও শ্রীগুলজারিলাল নন্দের সহিত সাক্ষাত্ করিয়া এক স্মারকলিপি পেশ করিবেন।

বুধবার, ১৮ চৈত্র, ১৩৭০ Wed, April 1, 1964

প্রস্তাবিত কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়ার সুপারিশ: প্রস্তাবিত কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নূতন আইনের বর্তমান খসড়ার সুপারিশগুলি কার্যকারী হইলে সরকারী কর্তৃত্ব কি বৃদ্ধি পাইবে? এই প্রশ্নে দ্বিমতের সৃষ্টি হইয়াছে। মঙ্গলবার সেনেটের বিশেষ সভায় নূতন আইন সম্পর্কে উপাচার্যের খসড়া লইয়া দ্বিতীয় দিনের আলোচনাকালে এই মতদ্বৈত স্পষ্ট হয়। শ্রীবিজনকান্তি বিশ্বাস এরূপ অভিযোগ করেন যে, সুপারিশগুলি কার্যকর হইলে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘‘স্বাধিকার ক্ষুণ্ণ হইবে।’’ সিন্ডিকেট ও ফিনান্স কমিটিতে সরকারী প্রতিনিধিত্ব জোরালো হই‌বে। গণতান্ত্রিক কাঠামো বজায় রাখিয়া আচার্যের ক্ষমতাবৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারী হস্তক্ষেপ বাড়িলে অবস্থা আরও খারাপ হই‌বে বলিয়া তিনি মন্তব্য করেন। এই অভিযোগের প্রতিবাদ করিয়া পশ্চিম‌বঙ্গের শিক্ষা অধিকর্তা ডঃ ভবতোষ দত্ত ‌বলেন, এই খসড়া উপাচার্যের, ইহার সঙ্গে সরকারের কোন সম্পর্ক নাই। ‌বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য সরকার এই খসড়া প্রণয়ণে উত্সাহ দিয়াছেন এই ধরনের কথাবার্তা ‘‘গুজব’’ ছাড়া আর কিছুই নয়।

বুধবার, ১৮ চৈত্র, ১৩৭০ Wed, April 1, 1964

১৯৬৩-৬৪ সালের জন্য তিন জনের রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ: পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৬৩-৬৪ সালের জন্য শ্রীপ্রমথনাথ ভট্টাচার্য, শ্রীবিমল মিত্র এবং ডঃ মৃত্যুঞ্জয়প্রসাদ গুহকে রবীন্দ্র পুরস্কার দিবার সিদ্ধান্ত করিয়াছেন বলিয়া জানা গিয়াছে। শ্রীপ্রমথনাথ ভট্টাচার্যকে ‘ভারতের সাধক’ গ্রন্থের জন্য ঐ রবীন্দ্র-পুরস্কার দেওয়া হইয়াছে। শ্রী ভট্টাচার্য শঙ্করনাথ রায় এই ছদ্মনামে ঐ বাংলা গ্রন্থখানি রচনা করিয়াছেন। প্রখ্যাত সাহিত্যিক শ্রী‌বিমল মিত্রকে তাহার ‘ক‌ড়ি দিয়ে কিনলাম’ উপন্যাসের জন্য রবীন্দ্র-পুরস্কার দেওয়া হইয়াছে। সাহিত্যজগতে শ্রীবিমল মিত্র সুপরিচিত। উপন্যাসটি ‘দেশ’ সাপ্তাহিকে ধারাবাহিক প্রকাশিত হইয়াছিল। ডঃ মৃত্যুঞ্জয়প্রসাদ গুহ রবীন্দ্র পুরস্কার পাইয়াছেন ‘আকাশ ও পৃথিবী’ নামক বাংলা বিজ্ঞানের গ্রন্থের জন্য।


মারামারি করতে
হলেও নোটিস চাই


কেবল নিজেদের জন্য স্টীলের
টেবিল আর চেয়ার তরী করছি

—মন্ত্রীত্ব গেছে, কিন্তু
দার্জিলিং তো চলে যায়নি।

বৃহস্পতিবার, ১৯শে চৈত্র, ১৩৭০ Thursday, April 2, 1964

কলিকাতায় গরমের মরশুমে পানীয় জল সরবরাহ বৃদ্ধির ব্যবস্থা: কলিকাতায় গরমের মরসুমে পানীয় জলের সরবরাহ বাড়ানো হইতেছে। এ বছর এপ্রিল হইতে কলিকাতা কর্পোরেশন দৈনিক ১০ কোটি ৯০ লক্ষ গ্যালন পানীয় জল সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত করিয়াছেন। গত বছরের তুলনায় ইহা ৪০ লক্ষ গ্যালন বেশী। দৈনিক এত অধিক পরিমান জল সরবরাহের নজীর কর্পোরেশনের ইতিহাসে ইহাই প্রথম। বুধবার কর্পোরেশনের জনৈক মুখপাত্র জানান, জলসরবরাহের সময়সূচী পূর্বের ন্যায়ই থাকিবে। তবে সকাল ও বিকালের দিকে জলের চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পাইবে। উল্লিখিত পরিমাণ পানীয় জলের মধ্যে পলতা হইতে ৮ কোটি ৪০ লক্ষ গ্যালন জল দৈনিক সরবরাহ করা হইতেছে। বাকি ২ কোটি ১০ লক্ষ গ্যালন জল ছোট এবং বড় নলকূপের সাহায্যে সরবরাহ করার ব্যবস্থা হইয়াছে। বর্তমানে কর্পোরেশনে ১১৩টি বড় নলকূপ আছে এবং ইহার দ্বারা দৈনিক ১ কোটি ৬০ লক্ষ গ্যালন পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। ইহা ছাড়া এ বছর মোট ১০০১টি ছোট নলকূপ খনন করা হইয়াছে এবং ইহা লইয়া নলকূপের মোট সংখ্যা দাঁড়াইয়াছে ৪,৫৫৫।

শুক্রবার, ২০ চৈত্র, ১৩৭০ Friday, April 3, 1964

কলিকাতায় বৃহত্ জাহাজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা: কলিকাতায় বৃহত্ জাহাজ নির্মাণের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিচার বিবেচনা চলিতেছে। জাহাজ শিল্প সম্পর্কে সরজমিন তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় জাহাজ নির্মাণ কমিটির একদল সদস্য কলিকাতায় আসিয়াছেন। বৃহস্পতিবার তাঁহারা গার্ডেনরীচ (জাহাজ তৈরী) কারখানা পরিদর্শন করেন। ভারতকে জাহাজ শিল্পে সাবলম্বি করিয়া তোলার ব্যাপারে বেসরকারী উদ্যোগের ভূমিকাও আলোচিত হয়। সরকারী সহায়তা পাইলে ঐ সংস্থাও এ সম্পর্কে অগ্রণী হইতে পারেন বলিয়া জানান।

শুক্রবার, ২০ চৈত্র, ১৩৭০ Friday, April 3, 1964

ট্রাম কোম্পানীর শ্রমিক বিরোধের অবসানের সম্ভাবনা: ট্রাম শ্রমিকদের দাবিদাওয়া লইয়া শ্রমিক ও কোম্পানির কর্তৃপক্ষের মধ্যে দীর্ঘকালীন বিরোধের অবসান একপ্রকার নিশ্চিত বলিয়া প্রকাশ। আরও প্রকাশ, বৃহস্পতিবার মহাকরণে অনুষ্ঠিত এক ত্রিদলীয় বৈঠকে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সর্বসম্মত একটি সূত্র পাওয়া গিয়াছে। এই সূত্র অনুযায়ী যদি চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয় তাহা হইলে শ্রমিকগণের মাথাপিছু ২৩।২৪ টাকার মত বেতন বৃদ্ধি পাওয়ার আশা আছে। অন্য কয়েকটি দাবির ব্যাপারে ভবিষ্যতে আলাপ আলোচনা চালাইবার পক্ষও খোলা রহিবে। অপরপক্ষে বৈঠকে সর্বপর্যায়ে ট্রামের ভাড়া এক নয়াপয়সা বৃদ্ধির এক প্রস্তাবও বিশেষভাবে আলোচিত হয়। তবে এই দিন কোন সিদ্ধান্ত হয় নাই।

শনিবার, ২১ চৈত্র, ১৩২০(১৫ চৈত্র, ১৮৮৬ শক) Saturday, April 4, 1964

বেতনহার সংশোধন দাবিতে বারশত অধ্যাপকের মৌন মিছিল: বেতন-হার সংশোধনের দাবিতে শুক্রবার বিকালে কলিকাতার রাজপথে প্রায় বার শত অধ্যাপকের এক মৌন মিছিল বাহির হয়। মিছিলের গতিপথ ছিল রাজা সুবোধ মল্লিক উদ্যান—সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি রোড—রানী রাসমণি রোড—রাজভবনের পূর্ব তোরণ।
অধ্যাপকদের প্রধান প্রধান দাবি হইতেছে—
(১) লেকচারারদের বেতন-হার: ৩৫০-৯৫০ টাকা।
(২) লেকচারার বা অধ্যাপকের নিম্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের বেতন-হার: ২৫০-৫৫০ টাকা এবং
(৩) অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের যথোপযুক্ত বেতন-হার।
পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি কর্তৃক এই মৌন মিছিলটি পরিচালিত হয়।

শনিবার, ২১ চৈত্র, ১৩২০(১৫ চৈত্র, ১৮৮৬ শক) Saturday, April 4, 1964

এসপ্ল্যানেড ইস্টে একশত মহিলার ২৪ ঘণ্টার জন্য অনশন: পূর্ব-পাকিস্তানে সংখ্যালঘু নারীদের প্রতি অত্যাচারের প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যায় এসপ্ল্যানেড ইস্টে একশত নারী চব্বিশ ঘণ্টার অনশন শুরু করেন। তাঁহাদের সমর্থনে আরও দুই-তিনশত ব্যক্তি সেখানে অনশন ও অবস্থান ধর্মঘট আরম্ভ করিয়াছেন। সংখ্যালঘু বাঁচাও কমিটি এই আন্দোলনের উদ্যোক্তা। অনশন ও অবস্থান ধর্মঘটের পূর্বে বিক্ষোভকারীরা ময়দানে মনুমেন্টের কাছে সমবেত হন। সেখানে সভাপতির ভাষণে শ্রীহেমন্তকুমার বসু পাকিস্তানের প্রতি ভারত সরকারের নীতির পরিবর্তন দাবি করেন। তিনি ৭ই এপ্রিল ভারত-পাক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফলশ্রুতি সম্বন্ধে বিশেষ আশা পোষণ করেন না। তিনি জানান উক্ত কমিটির উদ্যোগে শনিবারও কলিকাতার আন্দোলন চলিবে।

রবিবার, ২২ চৈত্র, ১৩২০(১৫ চৈত্র, ১৮৮৬ শক) Sunday, April 5, 1964

মাছের বাজারে আগুন: কয় দিন হইল বাজারে মাছ প্রায় পাওয়াই যাইতেছে না। বার বার এই একই হাল। তিন মাস পর পর পাকিস্তানী মাছ আমদানির ও জিএলএর মেয়াদ ফুরাইয়া যায়, কিন্তু যথাসময় কেন্দ্র হইতে মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমতি আসে না। ফলে কয় দিন পাকিস্তানী মাছ আসা বন্ধ থাকে। এবারও তাই। ৩১শে মার্চ পাকিস্তান হইতে মাছ আমদানির মেয়াদ উত্তীর্ণ হইয়া যায়। কিন্তু ২রা এপ্রিল, বৃহস্পতিবারের আগে দিল্লি হইতে ঐ মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমতি পাঠান হয় নাই। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সংবাদ আসে ও জিএস এর মেয়াদ ১লা এপ্রিল হইতে তিন মাসের জন্য পুনর্বার বর্ধিত করা হইল। শুক্রবার পাকিস্তানে ছুটির দিন। সুতরাং শনিবার বিকাল পর্যন্ত পাকিস্তানে হইতে মাছ আমদানি হইল না। শিয়ালদহের মাছের আড়তদাররা আশ্বাস দিলেন শনিবার রাত্রে কিছু মাছ আসিতে পারে। রবিরার ঠিক মত আমদানি হইবে ইহাই তাঁহাদের আশা। গরমের সময় পাকিস্তান হইতে দৈনিক গড়ে হাজার মণের মত মাছ আসে। শীতের সময় আরও বেশি। বছরের হিসাব ধরিলে দৈনিক প্রায় দু’হাজার মণ মাছ পাকিস্তান হইতে আমদানি হয়। গত ২রা এপ্রিল আসিয়াছে মাত্র ১৮০ মণ। তাহার পর হইতে একেবারেই নাই।

রবিবার, ২২ চৈত্র, ১৩২০(১৫ চৈত্র, ১৮৮৬ শক) Sunday, April 5, 1964

ট্রাম কর্মীদের বিরোধ, দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মীমাংসা: কতকগুলি দাবি-দাওয়া লইয়া কলিকাতা ট্রাম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উহার কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ চলিতেছিল, ত্রিপাক্ষিক আলোচনার ফলে উহা মিটিয়া গিয়াছে।
শনিবার রাইটার্স বিল্ডিংয়ে রোটান্ডায় ট্রাম কোম্পানী, পাঁচটি ট্রাম শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন এবং রাজ্য শ্রম দপ্তরের প্রতিনিধিদের মধ্যে এক বৈঠকে তিন বত্সর স্থায়ী একটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। উহার প্রথম দুইটি সিদ্ধান্ত হইতেছে।
(১) যে সব শ্রমিক মাসে সাড়ে চার টাকা বাড়ী ভাড়া ভাতা পান, তাঁহাদের মহার্ঘ ভাতা ১১.৭৫ টাকা বাড়িবে;
(২) ইহা ছাড়া কেরাণী ও অন্যান্য অফিস কর্মচারীর মহার্ঘ ভাতাও ২১.৭৫ টাকা বাড়িবে।
বর্ধিত হারে মহার্ঘ ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য ট্রাম কোম্পানীকে অতিরিক্ত ২৩ লক্ষ টাকা ব্যয় করিতে হইবে বলিয়া অনুমিত হইতেছে। প্রকাশ ট্রামের সকল পর্যায়ে এক নয়া পয়সা হারে ভাড়া বাড়াইয়া এই অতিরিক্ত ব্যয় মিটানো হইবে। সম্ভবত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি ট্রাম ভাড়া বাড়ানো হইবে। ট্রাম কোম্পানির প্রায় দশ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী উল্লিখিত ব্যবস্থা দ্বারা উপকৃত হইবেন।

মঙ্গলবার, ২৪ চৈত্র, ১৩৭০ Tuesday, April 7, 1964

মোটামুটি নির্বিঘ্নে প্রথম দিন অতিবাহিত: এবার পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের স্কুল ফাইন্যাল ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা যথাক্রমে ১লক্ষ ২৩ হাজার ও ৪৫ হাজার। সোমবার হইতে পরীক্ষা দুইটি আরম্ভ হইয়াছে। প্রথমদিন মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই পরীক্ষা গৃহীত হয়। বিশেষ উল্লেখযোগ্য কোন ঘটনার সংবাদ নাই। বিকালের দিকে শ্যামবাজার এভি স্কুলের সামনে পুলিস দুইটি ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। তাহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—বাহির হইতে চীত্কার করিয়া প্রশ্নের উত্তর বলিয়া দেওয়া। তাহাদের নিকট কিছু কাগজপত্রও নাকি পাওয়া যায়। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সেক্রেটারী শ্রীবিশ্বনাথ ব্যানার্জী এইদিন কলিকাতায় কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। বহু কেন্দ্রের সন্মুখে পুলিস প্রহরা ছিল। রাস্তাতেও ঘন ঘন “ওয়ারলেস ভ্যান” চলাচল করিতে দেখা যায়।

বুধবার, ২৫ চৈত্র, ১৩৭০ (১১ চৈত্র, ১৮৮৬ শক) Wed, April 8, 1964

ট্রাম-বাসের সংখ্যা ও ভাড়া বৃদ্ধি: কলিকাতার আরও ২২৪ খানা নূতন বাস এবং ৪৪টি ট্রামগাড়ি চালু করার ব্যবস্থা হইতেছে। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ ভ্রমণই ইহার উদ্দেশ্য। কিন্তু এইভাবে যাত্রীসাধারণের পকেটেও চাপ পড়িবে। ১৫ই এপ্রিল হইতে ট্রামের ভাড়া এক নয়া পয়সা এবং সম্ভবতঃ আগামী ১লা মে হইতে বাসের ভাড়াও অনুরূপ হারে(অর্থ্যাত্ এক নয়া পয়সা) বাড়ান হইবে। ঠিক হইয়াছে যে, রাষ্ট্রীয় পরিবহণ কর্তৃপক্ষ ১৮২টি একতলা বাস এবং ৪২টি দোতলা বাস আমদানি করিবেন। আপাতত ঠিক হইয়াছে যে, প্রতি মাসে ২০টি করিয়া একতলা বাস মাদ্রাজের অশোক লিলেন্ড কোম্পানী সরবরাহ করিবেন এবং জুন মাস নাগাদ নতুন বাস চালু হইবে। দোতলা বাসগুলি ইংলন্ড হইতে ঐগুলি আসিতে সুরু করিবে। সর্বভারতের জন্য ভারত সরকার যে একশতটি দোতলা বাস ইংলন্ড হইতে আমদানির অনুমতি দিয়াছেন, তন্মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ভাগে পড়িয়াছে ৪২টি।

বৃহস্পতিবার, ২৬ চৈত্র, ১৩৭০(২০ চৈত্র, ১৮৮৬ শক) Thursday April 9, 1964

পৌরপিতার সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের সন্মতি: কলিকাতা কর্পোরেশনের কাউন্সিলারদের সংখ্যা ৮০ হইতে ১০০ করিতে রাজ্যে সরকার সন্মত হইয়াছেন। কর্পোরেশনের পক্ষ হইতে এরূপ সুপারিশ করা হইয়াছিল। কারণ, মহানগরের লোকসংখ্যা পূর্বের তুলনায় অনেক বৃ্দ্ধি পাইয়াছে। বর্তমানে কর্পোরেশন ৮০ জন কাউন্সিলার আছেন। ইহা ছাড়া পাঁচজন অল্ডারম্যান এবং কলিকাতা ইম্প্রুভমেন্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যানও কর্পোরেশনের সদস্য। অর্থাত্ মোট সদস্য সংখ্যা ৮৬। কলিকাতা পৌর আইন সংশোধন বিল বিধানমণ্ডলীর গত অধিবেশনে উত্থাপন করা সম্ভব হয় নাই। আগামী জুলাই অধিবেশনে উহা উত্থাপিত হইবে বলিয়া আশা করা যায়। প্রকাশ সেই বিলে কাউন্সিলারদের সংখ্যাবৃদ্ধির প্রস্তাব থাকিবে।

শুক্রবার, ২৭ চৈত্র, ১৩৭০ April 10, 1964

কলিকাতায় কমনওয়েলথ ক্রিকেট টীম: ই ডবলিউ সোয়ানটনের নেতৃত্বে কমনওয়েলথ ক্রিকেট টীম বৃহস্পতিবার রাত্রি প্রায় ১০টার সময় ব্যাঙ্কক হইতে বিমানযোগে কলিকাতায় পৌঁছিয়াছেন। কমনওয়েলথ দলে সোয়ানটন সমেত ১৪ জন খেলোয়াড় দলভুক্ত আছেন। কমনওয়েলথ দলকে অভ্যর্থনা করিবার জন্য সিএবি-র সহঃ সভাপতি শ্রীঅমর ঘোষ, সম্পাদক শ্রী এনসি কোলে এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার, ২৮ চৈত্র, ১৩৭০, Saturday , April 11 1964

বাংলার চলচ্চিত্র শিল্পের উদ্বেগজনক অবস্থা: পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিযুক্ত চলচ্চিত্র তদন্ত কমিটির রিপোর্টে শিল্প সম্পর্কে উদ্বেগজনক অবস্থা প্রকাশ পাইয়াছে। প্রায় আট মাস পূর্বে রিপোর্টটি সরকারের নিকট জমা দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয় নাই। ইতিমধ্যে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাইতেছে। বাংলা ছবির বাজার মন্দা কিন্তু হিন্দি ছবির পোয়া বারো—এই অবস্থায় বাংলা ছবি নির্মাণের আবহে ক্রমেই ভাটা পড়িতেছে। বিগত কয়েক বত্সরে বাংলা ছবি নির্মাণের সংখ্যাও কমিয়াছে। রিপোর্টে প্রযোজক, পরিবেশক, টেকনিশিয়ান প্রভৃতি সমস্ত বিষয়ে আলোচনা করা হইয়াছে।

শনিবার, ২৮ চৈত্র, ১৩৭০, Saturday , April 11 1964

পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলের কাগজপত্র: স্কুল ফাইন্যাল ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পঞ্চম দিন শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পক্ষ হইতে বড়বাজার অঞ্চলে একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে হঠাত্ হানা দিয়া পরীক্ষার্থীদের নিকট হইতে বহু পুস্তক এবং নকলের কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। এই দিন নারিকেলডাঙ্গা এলাকায় একটি কেন্দ্রে একজন পরীক্ষার্থীকে নকল করার অভিযোগে ধরা হইলে সে মারমুখী হইয়া হৈ-চৈ সুরু করে বলিয়া অভিযোগ পাওয়া যায়। পুলিশ তাহাকে গ্রেপ্তার করে। বড়বাজার অঞ্চলের ঐ পরীক্ষাকেন্দ্রটি সম্পর্কে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ কর্তৃপক্ষ বহু অভিযোগ পান। পর্ষদের সিকিউরিটি অফিসার এবং অন্য কয়েক জন কর্মচারীকে সেখানে পাঠান হয়। তাঁহারা পরীক্ষাকেন্দ্রটির অফিসার-ইন-চার্জ এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে পরীক্ষা হল হইতে ঐ সমস্ত জিনিস উদ্ধার করেন বলিয়া প্রকাশ।

শনিবার, ২৮ চৈত্র, ১৩৭০, Saturday , April 11 1964

ট্রামের ভাড়া আপাতত বাড়িবে না: কলিকাতায় ট্রামের ভাড়া বৃদ্ধি সম্পর্কে সরকারীভাবে এখন কোন বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হইবে না বলিয়া জানা গিয়াছে। শুক্রবার শ্রম-দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন যে, মাত্র এক নয়া পয়সা করিয়া ট্রামের ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাবের যে প্রতিক্রিয়া নানা সংবাদপত্রে দেখা দিয়াছে এবং তাহার ভিত্তিতে যে আন্দোলন গড়িয়া উঠিবার উপক্রম হইয়াছে তাহার ফলে আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখাই স্থির হইয়াছে। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, ট্রাম কোম্পানীর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাকালে সরকার এক নয়া পয়সা করিয়া ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাবে সন্মতি দিয়াছিলেন।

রবিবার, ২৯ চৈত্র, ১৩৭০, SUNDAY, APRIL 17, 1964

ট্রামবাসের প্রস্তাবিত ভাড়াবৃদ্ধির প্রতিবাদ অভিযান: পশ্চিমবঙ্গ কম্যুনিস্ট পার্টি; আর এস পি; এস ইউ পি; আর সি পি, বলশেভিক পার্টি; মার্ক্সবাদী ফরোয়ার্ড ব্লক; ওয়ার্কার্স পার্টি প্রমুখ সাতটি বামপন্থী দলের যুক্ত উদ্যোগে প্রস্তাবিত ট্রাম বাসের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে জনমত গঠনের জন্য একটি কর্মসুচী গৃহীত হইয়াছে। অদ্য রবিবার বিকাল ৬টায় শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড় হইতে এবং হাজরা পার্কের জংশন হইতে দুইটি ভ্রাম্যমাণ স্কোয়াড উত্তর ও দক্ষিণ কলিকাতায় প্রচুর অভিযান চালাইবে। সোমবার ১৩ই এপ্রিল হাজরা পার্কে বিকাল ৬টায় একটি প্রতিবাদ জনসভায় বামপন্থী নেতৃবৃন্দ ট্রাম বাসের প্রস্তাবিত ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভাষণ দিবেন। শ্রীহরিপদ চট্টোপাধ্যায় (সি পি আই), শ্রীমাখন পাল (আর এস পি), শ্রীবিমলানন্দ মুখ্যোপাধ্যায় (আর সি পি আই), শ্রীঅমর বসু (এম এফ বি), শ্রীনীহার মুখার্জি (এস ইউ সি), শ্রীবরদা মুকুটমণি (বি পি) এবং শ্রীদিলীপ রায়চৌধুরী (ওয়ার্কার্স পার্টি) ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধি সম্পর্কে এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা সুস্পষ্টভাবে বলিতে চাই যে, প্রস্তাবিত ভাড়া বৃদ্ধির সঙ্গত কোন কারণ নাই। আমাদের মতে, কোম্পানীর মাথাভারি পরিচালন ব্যবস্থার ব্যয়সংকোচ করিয়া কোম্পানীর শ্রমিক কর্মচারীদের ন্যায়সঙ্গত দাবি ও অন্যান্য দায়দায়িত্ব পালন করা সম্ভব। আমরা আরও জানাইতে চাই, যেহেতু ভাড়া বৃদ্ধির সহিত যাত্রিসাধারণেরই সবচেয়ে বেশী সম্পর্ক সেইহেতু কোম্পানী ও সরকার কর্তৃক এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সর্বপ্রথমে যাত্রিসাধারণের প্রতিনিধি রাজনৈতিক দলগুলিকে কোম্পানীর আর্থিক অবস্থা পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া উচিত।”

সোমবার, ৩০ চৈত্র, ১৩৭০ (২৪ চৈত্র, ১৮৮৬ শক) MON, APRIL 13, 1964

ট্রামের ভাড়া প্রত্যেক স্তরে এক নয়া পয়সা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত: কলিকাতা ট্রামওয়ে কোম্পানী প্রত্যেক স্তরে এক নয়াপয়সা করিয়া ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত করিয়াছেন। ট্রামকর্মীদের বেতন ও ভাড়া বৃদ্ধির প্রশ্নে কোম্পানী ও কর্মীদের মধ্যে বিরোধ চলিতেছিল। সম্প্রতি এই বিরোধের মীমাংসা হইয়াছে। ভাড়া ও বেতন বৃদ্ধি করিতে ট্রাম কোম্পানীর অতিরিক্ত যে ২৩ লক্ষ টাকা ব্যয় হইবে ১ নয়াপয়সা ভাড়া বৃদ্ধি করা ছাড়া ঐ অতিরিক্ত ব্যয় সঙ্কুলান করা কোম্পানীর পক্ষে সম্ভব নহে বলিয়া ট্রাম কর্তৃপক্ষ জানান। রবিবার অপরাহ্নে ট্রামের ভাড়া বৃদ্ধির প্রশ্নে ট্রাম কোম্পানীর এজেন্ট শ্রী আর ডবলিউ, শ্রী টার্নবুল এবং অন্যতম ডিরেক্টর শ্রী বি পি পোদ্দার এম এল এ রাইটার্স বিল্ডিংএ খাদ্যমন্ত্রী শ্রী সেনের সহিত সাক্ষাত্ করেন। পরিবহণ ও অর্থমন্ত্রী শ্রী শৈলকুমার মুখার্জি এবং পুলিশ কমিশনার শ্রী পি কে সেনও বৈঠকে উরস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় কোম্পানীর একজন মুখপাত্র জানান যে, শীঘ্রই ভাড়া বৃদ্ধি সম্পর্কিত সিদ্ধান্তটি তাঁহারা সরকারীভাবে ঘোষণা করিবেন। কোন তারিখ হইতে উহা বলবত্ হইবে, তাহাও জানাইয়া দেওয়া হইবে।

মঙ্গলবার, ১ বৈশাখ, ১৩৭১ (২৫ চৈত্র, ১৮৮৫ শক) TUE., APRIL 14, 1964

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের বিংশতিতম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন: আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক প্রফুল্লকুমার সরকারের বিংশতিতম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনে সোমবার বিকালে আনন্দবাজার পত্রিকা ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতির ভাষণে ডঃ শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এইরূপ প্রস্তাব করেন: রবিবাসরে যেসব শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ, রচনা, কবিতা ইত্যাদি পঠিত হয়, প্রতি বত্সর তাহার বাত্সরিক সঙ্কলন প্রকাশিত হইবে এবং তাহার নাম দেওয়া হইবে প্রফুল্লকুমার স্মৃতি গ্রন্থমালা। ডঃ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক শ্রীঅশোককুমার সরকারের নিকট পূর্বেই এই মর্মে প্রস্তাব করিয়াছেন। সভাস্থ সকলে তাঁহার এই প্রস্তাব সানন্দে অনুমোদন করেন। সভায় বিভিন্ন বক্তা প্রফুল্লকুমারের আদর্শনিষ্ঠা, সাংবাদিকজীবনে দৃঢ় কর্তব্যপরায়ণতা ও অনিবার্ণ দেশপ্রেম, বৈষ্ণবোচিত বিনয় ও চরিত্রমাধুর্য প্রভৃতি গুণাবলীর উল্লেখ করিয়া তাঁহার উদ্দেশে অন্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই প্রসঙ্গে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আনন্দবাজার পত্রিকার অবদান এবং ক্ষমতাসীন শাসক সম্প্রদায়ের অনুগ্রহ-নিগ্রহের তোয়াক্কা না করিয়া সাংবাদিকতার আদর্শকে প্রোজ্জ্বল রাখিয়া মহান প্রচেষ্টার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন বক্তা বলেন, বাংলার সাম্প্রতিক দুঃসময়েও এই পত্রিকা তাঁহাদের সাংবাদিক আদর্শনিষ্ঠা অম্লান রাখিয়াছেন।

মঙ্গলবার, ১ বৈশাখ, ১৩৭১, TUESDAY, APRIL 14, 1964

লবণ হ্রদে জমি কাঠা প্রতি ৪ হাজার হওয়ার সম্ভাবনা: প্রস্তাবিত লবণ হ্রদ উপনগরীতে জমি সংগ্রহ করা অনেকের কাছে স্বপ্নই রহিয়া যাইবে। কারণ জমির দর যে স্তরে বাঁধিবার কথা হইতেছে সে স্তরের নাগাল পাওয়া মধ্যবিত্ত বাঙ্গালীর পক্ষে আদৌ সম্ভব হইবে কিনা সন্দেহ। সংশ্লিষ্ট মহলের সংবাদে প্রকাশ যে, কাঠা প্রতি ৪ হাজার টাকা দর বাঁধিবার কথা একরূপ পাকা হইয়া গিয়াছে। সুতরাং এই জমি কিনিবার সুযোগ একমাত্র বিত্তবানেরাই গ্রহণ করিতে পারিবেন। অথচ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ রায় মধ্যবিত্তের গৃহসমস্যা মিটাইবার উদ্দেশ্য লইয়াই এই উপনগরী নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করিয়াছিলেন। সে উদ্দেশ্য পূরণ হইবার কোন সম্ভাবনা এখন আর দেখা যাইতেছে না। জমির উদ্ধারকার্য ও উপনগরী পরিকল্পনা রূপায়ণের ব্যয় অত্যধিক পড়িয়া যাইতেছে বলিয়াই কর্তৃপক্ষ জমির দর এত উচ্চস্তরে বাঁধা স্থির করিয়াছেন বলিয়া প্রকাশ। গোড়ায় প্রস্তাবিত উপনগরীতে জমির দর কাঠা প্রতি দুই হাজার হইতে আড়াই হাজার টাকা ধার্যের কথা হয়। মাঝখানে শোনা যায় কাঠা প্রতি তিন হাজার টাকা নির্দিষ্ট হইতে পারে। বর্তমানে কাঠা প্রতি জমি চার হাজারের কোঠায় তোলা হইয়াছে। ৯৯ বত্সরের ইজারার শর্তে জমি বিক্রয় হইবে।

বৃহস্পতিবার, ৩ বৈশাখ, ১৩৭১ (২৭ চৈত্র, ১৮৮৬ শক) THURS, APRIL 16, 1964

কলিকাতায় প্রচণ্ড ভূমিকম্প: জোর ভূমিকম্প, তীব্র ঝাঁকুনি, তীব্রতর কাঁপুনি। বুধবার রাত্রি ১০টা ১২ মিনিট নাগাদ কলিকাতায় ভূকম্পনে হাজার হাজার ছোটবড় ইমারত ও গৃহ প্রায় এক মিনিট ধরিয়া এপাশ-ওপাশ দোলা খাইতে থাকে। শত-সহস্র ভয়ার্ত নরনারী ছুটিয়া রাজপথে বাহির হইয়া আসে। কলিকাতা মহানগরীতে এমন প্রবল ঝাঁকুনির ভূমিকম্প স্মরণকালের মধ্যে আর হয় নাই। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে কোন অঞ্চলে কোনরূপ বড়রকমের ক্ষয়ক্ষতি বা জীবনহানির সংবাদ মধ্যরাত্রি পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই। তবে কোথাও দেওয়াল ফাটিয়াছে, কোথায়ও বা কার্নিস ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছে। ছুটাছুটি করিয়া বাড়ীর বাহির হইতে গিয়া বেশ কিছুসংখ্যক লোক অল্পসংখ্যক আহতও হইয়াছে বলিয়াও সংবাদ পাওয়া যায়। ভূমিকম্পের সময় টিপটিপ বৃষ্টি পড়িতেছিল।

শনিবার, ৫ বৈশাখ, ১৩৭১ (২৯ শক, ১৮৮৬ শক) SAT, APRIL 18, 1961

কলিকাতার মেয়র ও ডেপুটি মেয়র নির্বাচন: শুক্রবার কলিকাতা কর্পোরেশনের বিশেষ সভায় শ্রীচিত্তরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় পুনরায় কলিকাতার মেয়র পদে নির্বাচিত হন। ডেপুটি মেয়র পদে শ্রীদেবেন্দ্রলাল দত্তও পুনর্নির্বাচিত হইয়াছেন। বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্য এই সভা বয়কট করেন। এইদিন বিকাল পাঁচটায় প্রেসিডেন্সি ডিভিশনের কমিশনার শ্রীরঘু ব্যানার্জির পরিচালনায় মেয়র এবং ডেপুটি মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের কিছুক্ষণ পর শ্রীমিহির গাঙ্গুলী ঐ সভায় ঘোষণা করেন যে, কংগ্রেস মিউনিসিপ্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতির শ্রীঅতুল্য ঘোষ এম পি শ্রীচট্টোপাধ্যায় দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় তাঁহাকে অভিনন্দন জানাইয়াছেন।

সোমবার, ৭ বৈশাখ, ১৩৭১ (৩১ চৈত্র, ১৮৮৬ শক) MON., APRIL 20, 1964

৩০ এপ্রিল হইতে ট্রাম-বাস ভাড়া বৃদ্ধি: আগামী ৩০শে এপ্রিল বৃহস্পতিবার হইতে কলিকাতার ট্রাম ও বাসের ভাড়া এক নয়া পয়সা করিয়া বৃদ্ধি পাইবে। কলিকাতা ট্রাম কর্তৃপক্ষ এবং পরিবহণ দপ্তর একই তারিখে ট্রাম ও বাস ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত করিয়াছেন। ইতিমধ্যে প্রতি স্তরে যে ১ নয়া পয়সা করিয়া ভাড়া বৃদ্ধি হইবে, সেই জন্য প্রাথমিক কার্যাদি সুরু হইয়াছে। সপ্তাহকালের মধ্যেই নূতন হারের টিকিট ছাপা হইয়া যাইবে বলিয়া আশা করা যায়। ট্রাম কর্মীদের অতিরিক্ত ভাতা ও বেতন বাবদ প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা ব্যয় হইবে। এই ব্যয় নির্বাহের জন্যই সরকার ট্রাম কোম্পানীকে ভাড়া বৃদ্ধির অনুমতি দিয়াছেন। কলিকাতা রাষ্ট্রীয় পরিবহণ কর্তৃপক্ষের ব্যয়ও অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় ইদানীং তাঁহাদের বার্ষিক কয়েক লক্ষ টাকা লোকসান হইতেছিল। ঐ লোকসান পূরণের জন্যই নাকি বাসের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত লওয়া হইয়াছে।

firey dekha
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy