Advertisement
E-Paper

বেপরোয়া বাসের ধাক্কা স্কুলবাসে, জখম সাত পড়ুয়া

রাস্তায় গাড়ি বেড়েছে, গতিও বেড়েছে লাগামহীন ভাবে। যদিও তা নিয়ন্ত্রণ করতে কিছু পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। কিন্তু হুঁশ ফিরছে না চালকদের একাংশের। তাই ফের বেপরোয়া যান চলাচলের খেসারত দিতে হল সাত পড়ুয়াকে। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাতটার কিছুক্ষণ আগে সল্টলেকের সিটি সেন্টার মোড়ে একটি সরকারি বাস ও স্কুলবাসের সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুলবাসটি এফডি ব্লকের দিকে যাচ্ছিল। একটি সরকারি বাস করুণাময়ীর দিক থেকে সিটি সেন্টারের দিকে যাওয়ার সময়ে স্কুলবাসটির পিছনের দরজায় ধাক্কা মারে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৫ ০১:৫৯

রাস্তায় গাড়ি বেড়েছে, গতিও বেড়েছে লাগামহীন ভাবে। যদিও তা নিয়ন্ত্রণ করতে কিছু পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। কিন্তু হুঁশ ফিরছে না চালকদের একাংশের। তাই ফের বেপরোয়া যান চলাচলের খেসারত দিতে হল সাত পড়ুয়াকে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাতটার কিছুক্ষণ আগে সল্টলেকের সিটি সেন্টার মোড়ে একটি সরকারি বাস ও স্কুলবাসের সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুলবাসটি এফডি ব্লকের দিকে যাচ্ছিল। একটি সরকারি বাস করুণাময়ীর দিক থেকে সিটি সেন্টারের দিকে যাওয়ার সময়ে স্কুলবাসটির পিছনের দরজায় ধাক্কা মারে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এগারো জন পড়ুয়া-সহ স্কুলবাসটি উল্টে যায়। পড়ুয়াদের মাথা, কোমর-পিঠ ও ঘাড়ে আঘাত লাগে। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়েরা। ছ’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও এক ছাত্রের অবস্থা গুরুতর।

পুলিশ জানায়, সরকারি বাসটির চালক বিকাশচন্দ্র রায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক হয় বাসটিও। এ দিন বিধাননগর আদালতে তিনি জামিন পান। স্কুলবাসের চালক মেঘনাদ মিশ্র বলেন, “সিটি সেন্টার মোড় পেরোনোর সময়ে সরকারি বাসটা অনেক দূরে ছিল। ওটা যে এত জোরে সামনে চলে আসবে বুঝিনি।” আহত ছাত্রদের পরিজনদের অভিযোগ, বেপরোয়া যান চলাচলে লাগাম না টানলে এমন ঘটনা কমবে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিধাননগর, লেকটাউন, বাগুইআটি, ভিআইপি রোড, রাজারহাট এক্সপ্রেসওয়ে, নিউ টাউন-সহ বিধাননগর কমিশনারেটের ৯টি থানা এলাকায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। গত বছর বিধাননগরে স্কুলবাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় এক স্কুলছাত্রের। পুজোর পরেই ইসি ব্লকে বেপরোয়া স্কুলবাসের বলি হন এক ব্যক্তি। কিছু দিন আগে লেকটাউনে দু’টি বাসের রেষারেষিতে চাকার তলায় পিষ্ট হন এক বৃদ্ধা।

পাশাপাশি পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিধাননগরবাসী। অভিযোগ, রাস্তার ধারে পার্কিং, দোকান, গাড়ির স্ট্যান্ড থাকায় পরিসর কমেছে। তার মধ্যে চলছে বাস, অটো-ট্যাক্সি-মোটরসাইকেলের গতির প্রতিযোগিতা। পিএনবি মোড় থেকে করুণাময়ী, সিএ আইল্যান্ড থেকে করুণাময়ী, বেলেঘাটা মোড় সে কারণেই কারণেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে বলে তাঁদের দাবি।

পথচারীদের অভিযোগ, সরকারি বাসচালকেরা বেপরোয়া ভাবে চালালেও তাঁদের ক্ষেত্রে তত সক্রিয় নয় পুলিশ। অধিকাংশ মোড়ে সিগন্যাল, পুলিশ থাকলেও চালকেরা সে সব মানছেন না। স্পিড-ব্রেকারও নেই। পুলিশ চলে যেতেই শুরু হয় দৌরাত্ম্য। যে কারণে খুব ভোরে বা রাতে বিধাননগরে দুর্ঘটনা ঘটছে।

তবে বিধাননগরের ট্রাফিককর্তারা এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালের পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন হয়েছে। সিসিটিভি নজরদারিও চলে। নিয়মিত কেসও দেওয়া হচ্ছে। চালকদের সচেতন করতে নিয়মিত ভাবে প্রশিক্ষণ শিবির করা হচ্ছে। এক ট্রাফিককর্তা বলেন, “পরিকাঠামো অনেকটাই বেড়েছে। তবে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে।”

bus accident in saltlake bikashchandra roy city centre moore
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy