মহেশতলা কি কলকাতা পুরসভার আওতায় পড়ে?
মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটির অনুদান পাওয়া নিয়ে পুর-অধিবেশনে মেয়রের ঘোষণা এই প্রশ্নই ঘুরেফিরে আসছে। ২২ সেপ্টেম্বর পুর-অধিবেশনে মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ঘোষণা ছিল, ‘‘এ বছর কলকাতা শহরে যে সমস্ত দুর্গাপুজো হবে, তার মধ্যে প্রকৃত ভাবে মহিলারা যে পুজো সংগঠিত করছেন, তাদের প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।’’
পুর-অধিবেশনে দাঁড়িয়ে মেয়র এক কথা বললেও বাস্তব কিন্তু অন্য কথা বলছে। শুধু কলকাতা পুর-এলাকাই নয়, মহেশতলা পুরসভার পুজো কমিটিগুলিকেও অনুদান দেওয়া হচ্ছে। কলকাতা এলাকার বাইরের কোনও পুজোকে অনুদান দেওয়া নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে পুরসভায়।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবমতো এ বার শহরে মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটিগুলিকে উৎসাহিত করতে দশ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। পুরসভা সূত্রে খবর, শহরে মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটির আবেদন পড়েছে ১৭১টি। মহেশতলা থানা থেকে ৬ অক্টোবর ১১টি মহিলা পুজো কমিটির তালিকা পুরসভায় ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকা পুর-সচিবালয়ের তরফে ইতিমধ্যেই গ্রহণ করে ১১টি পুজো কমিটির চেক লেখা প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।
মহেশতলা থানা থেকে পাঠানো ১১টি মহিলা পুজো কমিটির মধ্যে একটির আয়োজক ২৩ পল্লি মহিলাবৃন্দ। যার সভাপতি কলকাতার মেয়রের শাশুড়ি কস্তুরী দাস। কস্তরীদেবী জানান, ‘‘১৯ সেপ্টেম্বর মহেশতলায় একটি অনুষ্ঠানে মেয়র ঘোষণা করেছিলেন, মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেবে পুরসভা। সেই মতো মহেশতলা এলাকার পুজো কমিটিগুলিকে আবেদন করতে বলেছিলেন। তাঁর ঘোষণামতোই আমরা কলকাতা পুরসভার কাছে আবেদন করি।’’
মহেশতলা পুর-এলাকায় মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়া নিয়ে ঘোর আপত্তি করেছেন পুরসভার আধিকারিকেরা। এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘শুধু মহেশতলা পুরসভা কেন পাবে। অন্য পুরসভাগুলি কী দোষ করল?’’ কলকাতা পুরসভার বিজেপি-র মুখ্য সচেতক অসীমকুমার বসু বলেন, ‘‘কলকাতা পুর-এলাকার বাইরে অন্য পুর-এলাকায় অনুদান দেওয়ার এক্তিয়ারই নেই পুরসভার। এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অবৈধ। এটা মেয়র নিজের দায়িত্বে করছেন। কলাকাতা পুর-এলাকার সাধারণ মানুষের করের টাকা কেন অন্য পুরসভায় যাবে?’’ কলকাতা পুরসভার কংগ্রেসের দলনেতা প্রকাশ উপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান দুলাল দাস কলকাতা পুরসভার মেয়রের শ্বশুর। পুজোর আগে শ্বশুরমশাইকে উপহার দিলেন কলকাতার মেয়র। কিন্তু অন্য পুরসভাগুলি বঞ্চিত রইল।’’ পুরসভার বিরোধী দলনেত্রী রত্না রায় মজুমদার জানান, শহরে মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়া নিয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি বেরোয়নি। তবে কলকাতা পুরসভার বাইরে অন্যান্য পুরসভাকে অনুদান দেওয়া অন্যায়। এ প্রসঙ্গে মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বাঙালির উৎসবে
সকলকে শামিল করা আমাদের কর্তব্য। সেই দিক থেকে কলকাতা পুরসভার একটি দায়িত্ব রয়েছে। সে কারণেই আমরা মহেশতলা পুরসভাকে অনুদান দিচ্ছি।’’ কিন্তু শুধু মহেশতলা পুরসভা কেন? অন্যান্য পুরসভাগুলিও তো অনুদান পাওয়ার যোগ্য। এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে কোনও উত্তর দেননি কলকাতার মেয়র।