Advertisement
E-Paper

শখের মোটরবাইকই প্রাণ কাড়ল যুবকের

বাড়িতে কাজ থাকায় বেরোতে বারণ করেছিলেন বাবা। কিন্তু ছেলে প্রায় জোর করেই শখের বুলেট মোটরবাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন বাজারের উদ্দেশে। আধ ঘণ্টা পরেই বাবার কাছে ফোন আসে, ছেলে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। হাসপাতালে গিয়ে বাবা জানতে পারেন, ছেলে আর নেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৩:২৬
শুভ্র চন্দ্র।

শুভ্র চন্দ্র।

বাড়িতে কাজ থাকায় বেরোতে বারণ করেছিলেন বাবা। কিন্তু ছেলে প্রায় জোর করেই শখের বুলেট মোটরবাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন বাজারের উদ্দেশে। আধ ঘণ্টা পরেই বাবার কাছে ফোন আসে, ছেলে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। হাসপাতালে গিয়ে বাবা জানতে পারেন, ছেলে আর নেই।

রবিবার সকাল ৭টা ২০ নাগাদ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বি টি রোডের অনন্যা সিনেমা হলের কাছে। মৃতের নাম শুভ্র চন্দ্র (২৮) ওরফে পাপাই। বাড়ি বালি কামারপাড়ার পি কে গাঙ্গুলি রোডে। বালির গোস্বামীপাড়ায় তাঁদের জামাকাপড়ের একটি বড় দোকান আছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভ্র ছিলেন ভীষণ ভ্রমণপিপাসু। বাবার এবং নিজের দু’টি মোটরবাইক ছাড়াও তাঁর একটি শখের বুলেট বাইকও আছে। সেটি নিয়ে তিনি বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে যেতেন। গত বছর ওই বাইক নিয়েই বন্ধুদের সঙ্গে লাদাখ বেড়িয়ে এসেছিলেন শুভ্র। এ বছর পুজোতেও এক বন্ধুকে নিয়ে উত্তর সিকিম ঘুরে এসেছিলেন। তাঁর পরিজনেরা পুলিশকে জানিয়েছেন, ভুটান, দার্জিলিংয়ের বহু এলাকাতেও শুভ্র মোটরবাইক নিয়ে মাঝেমধ্যেই ঘুরতে যেতেন।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন সকাল ৭টা নাগাদ দোকানের জিনিসপত্র কেনার জন্য বুলেট বাইকটি নিয়ে শুভ্র রওনা দেন কলকাতার হরিশাহাটের উদ্দেশ্যে। বাড়িতে কাজ থাকায় বাবা তাঁকে বারণ করেছিলেন বেরোতে। কিন্তু শুভ্র তাঁকে জানিয়েছিলেন, তাড়াতাড়ি ফিরবেন। জামাকাপড় কিনে ফেরার সময়ে বাইকটির ব্রেক সারিয়ে আনবেন বলেও শুভ্র বলে গিয়েছিলেন বাবাকে।

পুলিশ জানায়, অনন্যা সিনেমা হলের কাছে শুভ্র পৌঁছন সকাল ৭টা ২৫ নাগাদ। তখন সেখান দিয়েই ছাগলবোঝাই একটি লরি যাচ্ছিল। বাঁ দিকে দাঁড়ানোর জন্য দিকনির্দেশ না দিয়েই লরিটি আচমকা ব্রেক কষে। পিছনে বাইক নিয়ে তীব্র গতিতে আসছিলেন শুভ্র। আচমকা লরিটি থেমে যাওয়ায় তাঁর বাইক লরির পিছনের ডালায় ধাক্কা মেরে আটকে যায়। শুভ্র সজোরে ছিটকে পড়েন ফুটপাথে। হেলমেট পড়ে গুঁড়ো হয়ে যায়। শুভ্রর মাথার পিছনে গুরুতর আঘাত লেগে গভীর ক্ষত হয়ে যায়। বরাহনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকেরা শুভ্রকে মৃত ঘোষণা করেন।

আর জি কর হাসপাতালে ময়না-তদন্তের পরে এ দিনই শুভ্রর দেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ দিন সন্ধ্যায় বালি কামারপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় শোকের ছায়া। বন্ধ সমস্ত দোকান। লরিটি আটক করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হয়েছে চালক।

এ দিন বরাহনগর থানায় কান্নায় ভেঙে পড়েন শুভ্রর বাবা মুকুন্দ চন্দ্র। তিনি বলেন, ‘‘ছেলের জন্যই সব কিছু করা। আর ও-ই চলে গেল।’’ শুভ্রর পিসেমশাই নীরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পাহাড়ে ঘোরার শখের জন্যই বাইক ব্যবহার করত ছেলেটা। জোরে চালাত না। বাইক দুর্ঘটনাতেই ও যে এ ভাবে শেষ হয়ে যাবে, ভাবতেও পারছি না।’’

অন্য দিকে, শনিবার রাতে জেমস লং সরণিতে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় দুই যুবকের। তাঁদের নাম শেখ রাজেশ (৩০) ও রাহুল ধানুক (২৬)। পুলিশ জানায়, জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জন সেরে রাজেশ ও রাহুল মোটরবাইকে ফিরছিলেন। জেমস লং সরণি ও এস এন চ্যাটার্জি রোডের মুখে উল্টো দিক থেকে এসে গাড়িটি বাইকে ধাক্কা মারে। হাসপাতালে ওই দু’জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ জেনেছে, রাজেশ ও রাহুল, কারওরই হেলমেট ছিল না।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy