Advertisement
E-Paper

সেনার সামনে সাম্বিয়াদের হাজির করার ভাবনা

রেড রোড কাণ্ডের তদন্তে প্রাক্তন বিধায়কের ছেলে সাম্বিয়া সোহরাব-সহ ধৃত তিন জনকে এ বার সেনা জওয়ানদের সামনে হাজির করাতে চায় পুলিশ। তদন্তকারীরা আগেই দাবি করেছেন, গত ১৩ জানুয়ারি রেড রোডে বায়ুসেনার কর্পোরাল অভিমন্যু গৌড়কে পিষে দেওয়ার সময়ে সাম্বিয়াই গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং সেই সময় অডি গাড়িতে তিনি একাই ছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:৩৯
২৬ জানুয়ারির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে রেড রোডে কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ। শনিবার।— নিজস্ব চিত্র।

২৬ জানুয়ারির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে রেড রোডে কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ। শনিবার।— নিজস্ব চিত্র।

রেড রোড কাণ্ডের তদন্তে প্রাক্তন বিধায়কের ছেলে সাম্বিয়া সোহরাব-সহ ধৃত তিন জনকে এ বার সেনা জওয়ানদের সামনে হাজির করাতে চায় পুলিশ। তদন্তকারীরা আগেই দাবি করেছেন, গত ১৩ জানুয়ারি রেড রোডে বায়ুসেনার কর্পোরাল অভিমন্যু গৌড়কে পিষে দেওয়ার সময়ে সাম্বিয়াই গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং সেই সময় অডি গাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। এই দাবির পক্ষে জোরালো প্রমাণ সংগ্রহেই ‘টিআই প্যারেড’ করাতে চাইছেন তদন্তকারীরা। সে দিনের সেনা মহড়ায় হাজির জওয়ানদের অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা চিনিয়ে দিতে পারবেন সে দিন কে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। আগামী ৩০ জানুয়ারি তদন্তকারীরা ব্যাঙ্কশাল কোর্টে ‘টিআই প্যারেড’-এর ব্যাপারে আবেদন জানাবেন বলে লালবাজার সূত্রের খবর।

তিন ধৃত সাম্বিয়া, শানু ও জনিকে নিয়ে গোয়েন্দাদের একটি দল শনিবার রাঁচি রওনা দিয়েছে। গভীর রাতে দলটির রাঁচি পৌঁছনোর কথা। তদন্তকারীদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘটনার পর সাম্বিয়া যখন পালিয়ে রাঁচিতে আত্মগোপন করে ছিলেন, সেই সময়ে তাঁকে এক ব্যক্তি একটি মোবাইল সিম কার্ড ও নগদ ২০ হাজার টাকা পৌঁছে দেন। সেই ব্যক্তিকে ধৃতদের সামনে বসিয়ে জেরা করা হতে পারে।

লালবাজারের এক গোয়েন্দাকর্তা বলেন, ‘‘এই তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ জোরালো করার জন্য রাঁচির এই সব তথ্য কাজে লাগবে। সেই কারণেই অফিসাররা তিন জনকে নিয়ে সেখানে গিয়েছেন।’’

Advertisement

আর টিআই প্যারেডে কারা থাকবেন? পুলিশ জানাচ্ছে, ১৩ জানুয়ারির ওই ঘটনা মহড়ায় হাজির সেনা জওয়ানরা দেখেছিলেন। তাঁদের অনেকেই তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, গাড়িচালককে চিনতে পারবেন। তাই, অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে ওই সেনা জওয়ানদের ডেকে পাঠানো হবে।

কলকাতার সেনা মুখপাত্র উইং কম্যান্ডার সিমরনপাল সিংহ বিরদি শনিবার বলেন, ‘‘টিআই প্যারেড হোক বা অন্য কিছু, এই তদন্তে আমরা সব রকমের সহযোগিতা করব।’’ পুলিশ সূত্রের খবর, ডেকে

পাঠানো হতে পারে সে দিন রেড রোডে হাজির থাকা এক পুলিশ কনস্টেবলকেও। সাম্বিয়াকে রেসকোর্সের কাছে গাড়ি ছেড়ে পালাতে দেখেছিলেন এমন কয়েক জন পথচারীকেও চিহ্নিত করা গিয়েছে। তাঁদেরও শনাক্তকরণ প্যারেডে ডেকে পাঠানো হতে পারে।

সাম্বিয়া পুলিশের জালে ধরা পড়লেও তাঁর বাবা প্রাক্তন আরজেডি বিধায়ক মহম্মদ সোহরাব এখনও বেপাত্তা। খোঁজ নেই সোহরাবের বড় ছেলে আম্বিয়ারও। পুলিশ সূত্রের খবর, এই ঘটনায় খুনের পাশাপাশি অপরাধের তথ্য লুকোনো এবং অভিযুক্তদের আড়াল করার অভিযোগও রয়েছে। এই দু’টি অভিযোগই মহম্মদ সোহরাবের ক্ষেত্রে খাটবে বলে জানাচ্ছেন পুলিশ অফিসাররা। তাঁদের যুক্তি, ঘটনার কথা জানলেও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে মহম্মদ সোহরাব তা পুলিশকে জানাননি। উল্টে ছেলে সাম্বিয়াকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন তিনি।

লালবাজারের এক কর্তা জানান, মহম্মদ সোহরাব ও তাঁর বড় ছেলে আম্বিয়ার খোঁজে শুক্রবার রাতে শহরে তাঁদের বিভিন্ন হোটেল এবং অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু কোনও সূত্র মেলেনি বলেই পুলিশের দাবি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy