Advertisement
E-Paper

সোহরাবের বিরুদ্ধে জারি পরোয়ানা

আগেই লুক আউট কর্নার (এলওসি) নোটিস জারি হয়েছিল। এ বার গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়ে গেল তৃণমূলের মহম্মদ সোহরাবের বিরুদ্ধে। যাঁর ছোট ছেলে সাম্বিয়াকে রেড রোডে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে বায়ুসেনার অফিসার অভিমন্যু গৌড়কে মেরে ফেলার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:০৩

আগেই লুক আউট কর্নার (এলওসি) নোটিস জারি হয়েছিল। এ বার গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়ে গেল তৃণমূলের মহম্মদ সোহরাবের বিরুদ্ধে। যাঁর ছোট ছেলে সাম্বিয়াকে রেড রোডে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে বায়ুসেনার অফিসার অভিমন্যু গৌড়কে মেরে ফেলার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এলওসি-র অর্থ, দেশের প্রতিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বন্দরে সোহরাবের পাসপোর্ট নম্বর সহ তথ্য দিয়ে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদেশের পালানোর চেষ্টা করলে বা বিদেশ থেকে এলে তাঁকে যেন আটক করে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পুলিশকে জানানো হয়। রেড রোডের ঘটনা ঘটেছিল ১৩ জানুয়ারি, বুধবার। আর দু’দিনের মধ্যেই মহম্মদ সোহরাব এবং তাঁর বড় ছেলে আম্বিয়ার নামে এলওসি নোটিস জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) দেবাশিস বড়াল জানান, ‘‘কলকাতা পুলিশ সোহরাবের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।’’ আম্বিয়ার বিরুদ্ধে এখনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে না লালবাজার। তদন্তকারীদের মনে হয়েছে, সোহরাবের সঙ্গেই রয়েছেন আম্বিয়া।

সোহরাব ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ঘটনার আগের দিন রাতে তিনি ছোট ছেলে সাম্বিয়ার সঙ্গে রেস্তোরায় যাননি। রেড রোডের গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিতও নয়। অর্থাৎ এর পিছনে ষড়যন্ত্রের কোনও গল্পও নেই। তা হলে সোহরাবের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হল কেন?

Advertisement

তদন্তকারীদের যুক্তি, ঘটনার পরেই সোহরাবের নিঁখোজ হয়ে যাওয়ায় পিছনে কোনও যুক্তি ছিল না। সাত তাড়াতাড়ি পালিয়ে যাওয়াতেই সোহরাবের নাম সন্দেহ তালিকায় উঠে যায়। এক তদন্তকারী বলেন, পুলিশকে ঘটনার কথা না জানিয়ে সাম্বিয়াকে সোহরাব পালাতে সাহায্য করেছেন বলে তাঁদের মনে হয়েছে। দুর্ঘটনার পরে সাম্বিয়া প্রথম ফোনটি কিন্তু বাবাকেই করেছিলেন। এক অফিসারের কথায়, ‘‘ফোন পেয়েই তো ছেলেকে সোহরাবের বলা উচিত ছিল, ‘তুমি ভুল করেছ। যাও পুলিশকে সব কথা বল।’ তবে তা না করে তিনি তাঁকে পালাতে সাহায্য করেছেন।’’

ঘটনার পরে মনে করা হয়েছিল গাড়িটি আম্বিয়াই চালাচ্ছিলেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করে লালবাজার। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, তদন্ত যত এগিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আম্বিয়ার জড়িত থাকার সম্ভাবনা ততই কমেছে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়নি। পুলিশের একাংশ বলছেন, ঘটনার কথা শুনে সোহরাব সম্ভবত ভেবেছিলেন, তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ ও পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি সহজেই ছেলেকে বাঁচিয়ে দিতে পারবেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সে দিন মেছুয়ার ফল মান্ডিতে বসে একের পর এক ফোন করতে দেখা যায় সোহরাবকে। কিন্তু, তত ক্ষণে খবর ছড়িয়ে গিয়েছে, ওই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন এক বায়ুসেনা অফিসার। সূত্রের খবর, যে রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ অফিসারদের সোহরাব ফোন করেছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগই মুখ ঘুরিয়ে নেন। বিপদ বাড়ছে বুঝে বড় ছেলে আম্বিয়াকে নিয়ে অজ্ঞাতবাসে চলে যান সোহরাব।

সোহরাবের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশের পিছনে রাজনীতিও দেখতে পাচ্ছেন মেছুয়ার ফলপট্টির ব্যবসায়ীদের অনেকেই। তাঁরা বলছেন, সোহরাব সম্পর্কে অভিযোগ যতই প্রকাশ্যে আসছে, তাঁর সঙ্গে দুরত্ব তৈরি করতে চাইছে তৃণমূল। তাঁকে গ্রেফতার করিয়ে ভোটের আগে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা হচ্ছে। অর্থাৎ, এ ভাবে মেছুয়ার এই ‘বাদশা’কে ফাঁসাতে চাইছে পুলিশ। সোহরাব ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের অনেকেই বলছেন, তৃণমূলের কে কে ওই প্রাক্তন বিধায়কের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন, তার প্রমাণ আছে। প্রয়োজনে সে সবই প্রকাশ করা হবে বলে সোহরাব ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy