Advertisement
E-Paper

সরকারি উদ্যোগে সেজে উঠেছে বস্তি

সিমেন্টের ঢালাই করা চওড়া রাস্তা। পাশেই এক বা দু’কামরার ছোট ছোট পাকা বাড়ি। দুই বাড়ির মাঝের সরু রাস্তাগুলিতেও পেভার ব্লক বসানো। এ ছবি ইএম বাইপাসের ধাপা সংলগ্ন ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১ নম্বর হাটগাছিয়া বস্তির।

দীক্ষা ভুঁইয়া

শেষ আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ০০:১৫
উন্নয়নের পরে।— নিজস্ব চিত্র

উন্নয়নের পরে।— নিজস্ব চিত্র

সিমেন্টের ঢালাই করা চওড়া রাস্তা। পাশেই এক বা দু’কামরার ছোট ছোট পাকা বাড়ি। দুই বাড়ির মাঝের সরু রাস্তাগুলিতেও পেভার ব্লক বসানো। এ ছবি ইএম বাইপাসের ধাপা সংলগ্ন ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১ নম্বর হাটগাছিয়া বস্তির।

গত দু’বছর উন্নয়নের কাজের পরে এই বস্তির প্রতিটি বাড়ির জন্য দু’বেলা পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ নিকাশি ব্যবস্থাও রয়েছে। বড় রাস্তা থেকে শুরু করে অলি-গলিগুলি ভিতরেও আলোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকী বৈদ্যুতিক তারের জট থেকে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে তাই দু’টি স্তম্ভের মাঝে প্যানেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার উপর দিয়ে তার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জুটেছে ‘মডেল’ বস্তির তকমাও।

অথচ বছর কয়েক আগে এই এলাকার ছবি ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, একটু বৃষ্টি হলেই এই এলাকার রাস্তাগুলিতে জল উঠে যেত। আর বস্তির ভিতরে ঢোকার সরু গলিগুলির হাল খুবই খারাপ ছিল। সন্ধ্যার পরে জল-কাদায় ভরা অন্ধকার রাস্তায় হাঁটাই যেত না। ছিল না ভূগর্ভস্থ কোনও নিকাশির ব্যবস্থা। সব থেকে বড় সমস্যা ছিল শৌচালয়ের। কলকাতা সংলগ্ন এলাকা হওয়া সত্ত্বেও অনেক বাড়িরই পাকা শৌচালয় বলে কিছু ছিল না। ফলে বাসিন্দাদের খোলা শৌচালয় ব্যবহার করতে হত। প্রায় ৮০০ জনবসতির এই বস্তিতে এখন পরিবার পিছু নিজস্ব শৌচালায় রয়েছে।

হাটগাছিয়া ২ নম্বরেরও অবস্থাও প্রায় একই ছিল। পানীয় জল, আলো কিংবা শৌচালয়— কিছু ছিল না বলে অভিযোগ। সেখানেও কাজ শুরু হয়েছে। তবে এখানে অনেক বাড়ির পাশে ফাঁকা কোনও জায়গা নেই। ফলে সেই সব পরিবারগুলির জন্য তৈরি হচ্ছে ‘কমিউনিটি শৌচালয়’। মহিলা-পুরুষদের জন্য আলাদা আলাদা তলায় এটি তৈরি করা হচ্ছে।

এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও নতুন করে তৈরি হয়েছে। উৎসব-অনুষ্ঠানের কথা মাথায় রেখে হয়েছে একটি কমিউনিটি হল। এলাকার বড় ঝিলটি জলা-জঙ্গলে ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। সেগুলি পরিষ্কার করে জল তুলে ফেলে সংস্কারের কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই ওই ঝিলের এক পাশের অংশ রেলিং
দিয়ে ঘিরে, বাঁধানো হয়েছে। অপর পাশে তৈরি করা হবে ছোট পার্ক-সহ উদ্যান। এমনটাই জানিয়েছেন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ (বস্তি ও পরিবেশ) স্বপন সমাদ্দার।

কিন্তু ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডেরই কাছারিপাড়া, উৎকল পাড়া, বিবেকানন্দ পাড়া-সহ সংলগ্ন জায়গাগুলিতে কোনও উন্নয়নের কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। ভাঙাচোরা রাস্তা, চার পাশ আবর্জনায় ভরে আছে। স্তম্ভে বৈদ্যুতিক তারের জট। বাড়ি পিছু শৌচালয়ও নেই। এখানে প্রধানত পুরসভার সাফাইকর্মীদের পরিবার থাকেন।

একই ওয়ার্ডে এ রকম আলাদা ছবি কেন? স্বপনবাবু জানান, ওয়ার্ড নয়, শুধু হাটগাছিয়া বস্তিকেই ‘মডেল’ করা হয়েছে। রাজ্য সরকার এবং পুরসভা অর্থে পরিবেশ এবং পরিস্থিতি বুঝে আগে হাটগাছিয়াকেই গড়ে তোলা হয়েছে। পরে যদি অর্থ মেলে তা হলে ওয়ার্ডের বাকি জায়গাগুলিকে ‘মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy