কলকাতা পুলিশের দশটি ডিভিশনে এক জন করে ডিভিশনাল রিজ়ার্ভ ইনস্পেক্টর (ডিআরআই) নিয়োগ করল লালবাজার। শুক্রবার এই মর্মে নির্দেশ জারি করেছেন কলকাতার নগরপাল। বর্তমানে প্রতি ডিভিশনে এক জন করে ডিভিশনাল রিজ়ার্ভ অফিসার (ডিআরও) রয়েছেন। তিনি হলেন সাব-ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার। লালবাজার জানিয়েছে, ডিআরআই এবং ডিআরও— এই দু’জনের কাজ পুরোপুরি স্বতন্ত্র ও পৃথক। প্রসঙ্গত, বছর দশেক আগে কলকাতা পুলিশের প্রতি ডিভিশনে এক জন করে ইনস্পেক্টর নিয়োগ করা হয়েছিল। যদিও সেই ব্যবস্থা বেশি দিন চলেনি বলে অভিযোগ।
লালবাজার জানিয়েছে, বর্তমানে কলকাতা পুলিশের কোনও ডিভিশনের সর্বময় কর্তা হলেন সেই ডিভিশনের উপ-নগরপাল। তাঁর অধীনে থাকবেন ডিভিশনাল রিজ়ার্ভ ইনস্পেক্টরেরা। তাঁরা ডিভিশনের কন্ট্রোল রুম এবং মোটর পরিবহণ অফিসের (এমটিও) দায়িত্ব সামলাবেন। পাশাপাশি, আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে নিরাপত্তার জন্য যে বাহিনী মোতায়েন করা হয়, সেই দিকটিও দেখবেন।
পুলিশের একাংশের বক্তব্য, ইনস্পেক্টরেরা পদযোগ্যতায় উপ-নগরপালের অনেক নীচে। কিন্তু, তাঁদের কাজের তালিকা অনেকেটা সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের উপ-নগরপালের মতোই। লালবাজারের এক কর্তা জানান, এক জন ডিভিশনাল উপ-নগরপালের উপরে একাধিক কাজের দায়িত্ব থাকে। ফলে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে তিনি আটকে গেলে বাকি কাজ থমকে যায়। তাই ডিভিশনাল রিজ়ার্ভ ইনস্পেক্টর সহকারী হিসেবে উপ-নগরপালকে সাহায্য করতে পারবেন।
সূত্রের খবর, শহরের বিভিন্ন ডিভিশনের অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকায় কোনও গোলমাল হলে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ তো যায়ই। কিন্তু সেই ঘটনা বড় আকার নিলে উপ-নগরপালের অফিসের বাহিনীকেও পাঠাতে হয়। তবে সেই বাহিনী যাবে কিনা, সেটা ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সিদ্ধান্ত নেন খোদ উপ-নগরপালই। এ বার থেকে ওই বাহিনী কোথায় এবং কখন যাবে— তা ডিভিশনাল রিজ়ার্ভ ইনস্পেক্টরই ঠিক করে উপ-নগরপালকে তাঁর কাজে সাহায্য করতে পারবেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)