E-Paper

শপথ পাঠে বাম তোপে এসআইআর, কটাক্ষ দিলীপের

সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য, অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নিয়েই এখন প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করে বামেরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১১
প্রজাতন্ত্র দিবসে সংবিধান রক্ষার শপথ-পাঠের বাম সভায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এন্টালিতে।

প্রজাতন্ত্র দিবসে সংবিধান রক্ষার শপথ-পাঠের বাম সভায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এন্টালিতে। ফাইল চিত্র।

প্রজাতন্ত্র দিবসে সংবিধান রক্ষার শপথ পাঠের অবসরেও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হলেন বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, সর্বজনীন ভোটাধিকারই দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি। অথচ নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ভোটের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে।

সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য, অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নিয়েই এখন প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করে বামেরা। কলকাতার এন্টালি মার্কেটে সোমবার ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে জাতীয় পতাকা তুলেছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান, প্রবীণ নেতা বিমান বসু। তার পরে সভায় বিমান বলেছেন, শুধু শপথ পাঠ করলেই হবে না। সংবিধানের মূল মন্ত্র এবং স্বীকৃত অধিকার যাতে অক্ষত থাকে, তা দেখতে হবে। এই সূত্রেই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘‘দেশের সংবিধান গ্রহণ করেছেন দেশের জনগন। সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘উই দ্য পিপল’ কথাটার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে সে কারণে। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের গৃহীত সেই সংবিধানকেই নানা ভাবে দুরমুশ ও বিকৃত করা হচ্ছে এখন। কেড়ে নেওয়া হচ্ছে মানুষের সংবিধান স্বীকৃত অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতাকে।’’ সেলিমের আরও বক্তব্য, ‘‘লড়াই করে আদায় এবং প্রতিষ্ঠা হয়েছিল সকলের জন্য, সর্বজনীন ভোটাধিকার। এখন এসআইআর-এর নামে সেই অধিকারের ধারণা পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এই অভিসন্ধি থেকে জ্ঞানেশ কুমার (মুখ্য নির্বাচন কমিশনার) এবং নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছেন বর্তমান রাষ্ট্রের পরিচালকরা। সংবিধান স্বীকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করা এদের উদ্দেশ্য।’’ ধর্মের ‘সাইনবোর্ড’ সামনে এনে রাজনীতি চলছে বলে অভিযোগ করে তার জন্য বিজেপি এবং এ রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসকেও নিশানা করেছেন বাম নেতৃত্ব। ধর্মনিরপেক্ষতা, ঐক্য ও সম্প্রীতি রক্ষার জন্য জোটবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। এন্টালির সভায় ছিলেন সিপিএমের সূর্যকান্ত মিশ্র, রবীন দেব, দলের কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার, আরএসপি-র সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভট্টাচার্য, সিপিআইয়ের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ফরওয়ার্ড ব্লকের দেবব্রত রায় প্রমুখ। সারা রাজ্যেই শপথ পাঠের কর্মসূচি পালন করছে বামেরা।

পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাটে এ দিনই বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘‘তৃণমূলের এক সাংসদকে তথ্য না-দেওয়ার জন্য শুনানিতে ডাকা হলে চোখ দেখানো শুরু হয়ে যায়। আইন সবার জন্য এক। সে কোন হরিদাস পাল, যে তাকে ডাকা হবে না? দুর্নীতির জন্য দিল্লি, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী গ্রেফতার হতে পারে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে কেন ডাকা যাবে না? এর আগে তৃণমূলের অনেকেই দুর্নীতির জন্য জেলে গিয়েছে। আরও কিছু নাম ‘ওয়েটিং লিস্ট’-এ রয়েছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

CPIM West Bengal SIR

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy