Advertisement
E-Paper

বিশ্বভারতী-কাণ্ডে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি কমিশনের

বিশ্বভারতীতে পর পর উঠছে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ। বিশেষত ভিন্‌-রাজ্যের ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনে অভিযুক্তদের আড়াল করার অভিযোগও উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তারই প্রেক্ষিতে বুধবার রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ক্ষোভ জানালো রাজ্য মহিলা কমিশন। রাষ্ট্রপতির কাছে উপাচার্য সুশান্ত দত্তগুপ্ত এবং কলাভবনের অধ্যক্ষ শিশির সাহানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করেছে তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০৩:৪১
অভিযোগ জানাতে যাচ্ছেন নির্যাতিতা ছাত্রী (স্কার্ফ মাথায়) ও বাবা-মা। —নিজস্ব চিত্র।

অভিযোগ জানাতে যাচ্ছেন নির্যাতিতা ছাত্রী (স্কার্ফ মাথায়) ও বাবা-মা। —নিজস্ব চিত্র।

বিশ্বভারতীতে পর পর উঠছে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ। বিশেষত ভিন্‌-রাজ্যের ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনে অভিযুক্তদের আড়াল করার অভিযোগও উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তারই প্রেক্ষিতে বুধবার রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ক্ষোভ জানালো রাজ্য মহিলা কমিশন। রাষ্ট্রপতির কাছে উপাচার্য সুশান্ত দত্তগুপ্ত এবং কলাভবনের অধ্যক্ষ শিশির সাহানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করেছে তারা।

মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন সুনন্দা মুখোপাধ্যায়ের দাবি, “একটা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বার বার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে, এটা অভিপ্রেত নয়। রাষ্ট্রপতি বিশ্বভারতীর পরিদর্শক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতিতে তাঁর প্রতিনিধি আছেন। তাই তাঁকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।” রাষ্ট্রপতির কাছে উপাচার্য এবং কলাভবনের অধ্যক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন।

বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতা ভিন্‌-রাজ্যের ছাত্রীর বাবাও। এ দিনই বোলপুরে ফিরেছে পরিবারটি। এক ঝাঁক ছাত্রছাত্রীর মাঝে জোড়হাতে গৌরপ্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “বিশ্বভারতীতে কোনও ছাত্রীর সঙ্গে যাতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, আর কোনও অভিভাবককে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এহেন আচরণ এবং ব্যবহারের শিকার হতে না হয়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট জায়গায় জানাব। মেয়েকে আর এখানে পড়াবো না।” তাঁর মেয়ে এ দিন পুলিশের কাছে বিশ্বভারতীর তিন ছাত্র এবং বোলপুরের এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের নামে তাঁকে যৌন হেনস্থা করার লিখিত অভিযোগ জানান। আজ, বৃহস্পতিবার, বোলপুর আদালতে মেয়েটির গোপন জবানবন্দি দেওয়ার কথা।

কলাভবনের ঘটনা নিয়ে বিশ্বভারতীর উপাচার্য সুশান্ত দত্তগুপ্তের সঙ্গে কথা বলে
বেরিয়ে আসছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখন আকছার যৌন-নিগ্রহ, ধর্ষণের চেষ্টা, ধর্ষণ এবং ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ শোনা যায়। রাজ্য মহিলা কমিশন কি সব ক’টি ক্ষেত্রেই সমান দ্রুততায় সুপারিশ করার স্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়? সুনন্দাদেবীর জবাব, “না।” তবে সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন: এ ধরনের কোনও ঘটনা জানতে পারলেই নিজে থেকে মামলা শুরু করে দেয় কমিশন। পরে সে সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণের জন্য সাহায্য নেওয়া হয় পুলিশের। অনেক ক্ষেত্রে কমিশনের প্রতিনিধি দলও যায় ঘটনাস্থলে সরেজমিনে তদন্তে।

বিশ্বভারতীতে এই ভিন্‌-রাজ্যের ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তে এ পর্যন্ত মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যাননি। তা হলে কমিশন এত দ্রুত সুপারিশের স্তরে পৌঁছল কী করে? প্রশাসন সূত্রের দাবি, এর পিছনে একাধিক কারণ রয়েছেক) বিশ্বভারতীতে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু সে সব ঘটনায় নির্যাতিতারা সুবিচার পাননি বলে পরে জেনেছে কমিশন। খ) ভিন্‌-রাজ্যের মেয়েটির বাবার কাছ থেকে কমিশন যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ চেপে যেতে জোরাজোরি করছিলেন বলে অভিযোগ পেয়েছে। গ) বিশ্বভারতীর উপাচার্য সুশান্ত দত্তগুপ্তর বিরুদ্ধেও একাধিকবার যৌন নিগ্রহ করার অভিযোগ রয়েছে কমিশনের কাছে। ঘ) ভিন্‌-রাজ্যের মেয়েটির ঘটনা জানাজানি হতেই কলাভবনের আর এক ছাত্রীকে যৌন নিগ্রহের ঘটনা সামনে এসেছে। ঙ) নির্যাতিতা ছাত্রী যে রাজ্যের বাসিন্দা, সেখানকার মহিলা কমিশন এ রাজ্যের মহিলা কমিশনে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছে, কেন এমন হল এবং সেই সঙ্গে তাঁদের রাজ্যের বাসিন্দা ছাত্রীটির পাশে দাঁড়ানোর আর্জি জানিয়েছে।

—নিজস্ব চিত্র।

viswabharati university student 's assultation case state women commission president of india state news latest news online news onine latest news
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy