Advertisement
E-Paper

মমতার আশপাশের ‘চোর-ডাকাতদের’ সরিয়ে নিচ্ছে বিজেপি, কেন শুভেন্দুকে ধন্যবাদ? বিতর্কে ব্যাখ্যা দিলেন মহুয়া

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের শুদ্ধিকরণের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন মহুয়া মৈত্র। শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও দিয়েছিলেন। শুভেন্দু তৃণমূলে থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে সুসম্পর্ক ছিল মহুয়ার।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ২০:৩১
কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। —ফাইল চিত্র।

তৃণমূলের টালমাটাল পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তবে কি তিনিও বিরোধী ব্লকে নাম লেখাতে চলেছেন? এ প্রশ্ন অবধারিত ছিল। বিতর্কের মধ্যেই নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন মহুয়া। কেন তিনি শুভেন্দুকে ধন্যবাদ দিয়েছেন, তা বিস্তারিত জানিয়েছেন। দাবি, তৃণমূলের ‘শুদ্ধিকরণে’ সাহায্য করছে বিজেপি। যা মমতা পারেননি, তা শুভেন্দু করে দেখাচ্ছেন!

সম্প্রতি বিবিসি হিন্দি-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে শুদ্ধিকরণের প্রসঙ্গ তোলেন মহুয়া। জানান, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে তাঁর দলনেত্রী যাচাই না করেই অনেক নেতাকে ভোটের টিকিট দিয়েছিলেন। অযোগ্যদেরও বাদ দিতে পারতেন না। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পরাজয়ের পর সেই নেতারা একে একে সরে যাচ্ছেন। এতে তৃণমূল ‘শুদ্ধ’ হচ্ছে। এর নেপথ্যেও শুভেন্দুর হাত রয়েছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। বুধবার সে প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মহুয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘যে কাজটা দিদি নিজের আবেগ, কর্মীদের প্রতি ভালবাসার কারণে করতে পারতেন না, সেটা শুভেন্দু করে দিয়েছেন। কী ভাবে? আমাদের দলে যত ভুয়ো লোক ছিলেন, ঋতব্রতের মাধ্যমে সবাইকে আমাদের দল থেকে তিনি সরিয়ে নিয়েছেন।’’

মহুয়া আরও বলেন, ‘‘বিজেপিই তো এত দিন বলত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাল। তাঁর আশপাশের লোকজন খারাপ। আশপাশের লোকজন চোর-ডাকাত। এটা আমার কথা নয়। বিজেপিরই কথা। এখন তাঁদের ওরা নিয়ে নিয়েছে। এই জন্য জন্য আমি ওঁকে (শুভেন্দুকে) ধন্যবাদ দিয়েছি। ওঁদের সংখ্যা যত বাড়ছে, আমাদের তত শুদ্ধিকরণ হচ্ছে।’’

এর আগে সাক্ষাৎকারে মমতার নীতি নিয়ে সমালোচনার সুর শোনা গিয়েছিল মহুয়ার গলায়। তিনি বলেছিলেন, ‘‘তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখতে পছন্দ করতেন মমতা। সব ধরনের নেতাদের এই দল জায়গা দিয়েছে, এমনকি যারা অযোগ্য, অকর্মণ্য, তাঁদেরও। এটাই এই দলের ব্যর্থতা। এঁরা আদৌ নিজেদের ক্ষমতায় ভোটে জিততে পারেন কি না, মমতার তা যাচাই করে দেখা উচিত ছিল।’’ বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের পার্থক্যও তুলে ধরেছিলেন মহুয়া। বলেছেন, ‘‘বিজেপির শক্তিশালী কর্মীবৃন্দ রয়েছেন, তাঁরা সুশৃঙ্খল ভাবে কাজ করেন। তাঁদের হিন্দুত্ববাদী আদর্শ স্পষ্ট। ওই দল কোনও এক জনের উপর নির্ভরশীল নয়।’’

শুভেন্দুর সঙ্গে একসময় মহুয়ার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল ছিল। পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, ২০১৪ সালে দলের টিকিট না পেয়ে সারা রাত তিনি কেঁদেছিলেন। সেই সময়ে একমাত্র শুভেন্দু তাঁর পাশে ছিলেন। তাঁকে বুঝিয়েছিলেন। করিমপুরে মহুয়া যখন প্রথম বার ভোটে লড়েন, শুভেন্দুই একা তাঁর হয়ে প্রচার করেছিলেন। কৃষ্ণনগরের সাংসদ বলেন, ‘‘আমি আবেগতাড়িত রাজনীতিবিদ। দলকে পরিবার মনে করি। ব্যক্তিগত ভাবে শুভেন্দু আমার খুব ভাল বন্ধু। এক দলে থাকার সময়ে ও আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল। করিমপুরে আমার হয়ে প্রথম প্রচার করতে এসেছিল শুভেন্দুই। টিকিট না পেয়ে সারা রাত কেঁদেছিলাম। একমাত্র ও বলেছিল, না বোন, সব ঠিক হয়ে যাবে। এখন শুভেন্দু অন্য দলে আছে। এখন আর তেমন কথা হয় না।’’ মহুয়ার এই মন্তব্যের পর বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। বিতর্কের মাঝে তাই বুধবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।

Suvendu Adhikari BJP TMC Mahua Moitra

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy