Advertisement
E-Paper

সুপার স্পেশ্যালিটি নামেই, চিকিৎসা পেল না জখম শিশু

ভোটের আগে তড়িঘ়ড়ি করে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর ও বালুরঘাট হাসপাতালকে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল হিসেবে উদ্বোধন করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেগুলির যে কেবল তকমাই সার, তা আরও একবার বোঝা গেল সোমবার রাতে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৬ ০৪:১৬
ট্রেন থেকে পড়ে আহত বৃষ্টি টুডুকে আনা হয়েছে গঙ্গারামপুর হাসপাতালে। মঙ্গলবার অমিত মোহান্তর তোলা ছবি।

ট্রেন থেকে পড়ে আহত বৃষ্টি টুডুকে আনা হয়েছে গঙ্গারামপুর হাসপাতালে। মঙ্গলবার অমিত মোহান্তর তোলা ছবি।

ভোটের আগে তড়িঘ়ড়ি করে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর ও বালুরঘাট হাসপাতালকে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল হিসেবে উদ্বোধন করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেগুলির যে কেবল তকমাই সার, তা আরও একবার বোঝা গেল সোমবার রাতে।

ওই দিন রাতে ট্রেনে বালুরঘাট থেকে হাওড়া যাচ্ছিলেন বালুরঘাটের পারিয়ালের বাসিন্দা রঞ্জিত টুডু। পেশায় পুলিশকর্মী রঞ্জিতবাবুর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও ছোট মেয়ে। গরমের জন্য ট্রেনের স্লিপার ক্লাসের এমার্জেন্সি জানলাটি খোলাই ছিল। জানলার পাশেই বসে ছিল ছোট্ট লিজা ওরফে বৃষ্টি। রামপুর স্টেশনের কাছে জানলা দিয়ে উঁকি দিতে গিয়েই চলন্ত ট্রেন থেকে সে নীচে পড়ে যায়। বাবা-মার চিৎকার শুনে সহযাত্রীরা চেন টেনে ট্রেনটি থামিয়ে রেল লাইনের ধার থেকে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করেন। তাকে কাছাকাছি গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু গুরুতর আহত বৃষ্টিকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে মালদহে রেফার করে দেওয়া হয়। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঞ্জিতবাবু তাঁর মেয়েকে নিয়ে সোজা কলকাতা রওনা হয়ে যান। মালদহ মেডিক্যালে বৃষ্টিকে নিয়ে যাওয়া হয়নি। শিশুটির শারীরিক অবস্থা কী, তা নিয়ে রাত পর্যন্ত ধোঁয়াশা রয়েছে।

কিন্তু মাস খানেকেরও বেশি আগে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালকে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল করার পরেও কেন সেখানে জখম শিশুকন্যার যথোপযুক্ত চিকিৎসা করা গেল না? দক্ষিণ দিনাজপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে স্বীকার করেন, ‘‘এই হাসপাতালের পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে।’’ এই হাসপাতালে এখনও কাউকে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা করা যায় না। কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও নেই। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বৃষ্টির মাথায় গুরুতর চোট ছিল। তার চিকিৎসার জন্য নিউরো সার্জেনকে দেখানোর দরকার ছিল। সেই জন্যই তাকে মালদহ মেডিক্যালে ‘রেফার’ করা হয়। সুকুমারবাবু জানান, মালদহ থেকেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সপ্তাহে একবার করে এই সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে এসে চিকিৎসা করার কথা, তবে তা নিয়মিত হয় না। সুকুমারবাবুর কথায়, ‘‘সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের পরিকাঠামো তৈরি করতে এখানে আরও কয়েক মাস লাগবে।’’

সম্প্রতি গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন স্থানীয় সাংসদ অর্পিতা ঘোষ। তাঁকেও প্রাথমিক চিকিৎসার পরে কলকাতায় ‘রেফার’ করে দেওয়া হয়েছিল। এ বার ছোট্ট বৃষ্টির ক্ষেত্রেও তাই হল। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, তা হলে ঘটা করে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল উদ্বোধন করা হল কেন?

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy