রাজ্য সরকার বাজেটে ৩ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও, তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বড় একটা অংশ। বাজেট পেশের পরই তাঁরা এই সামান্য ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘ভিক্ষার দান’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকারের যে ডিএ ঘাটতি রয়েছে, তা অবিলম্বে পূরণ করারও দাবি তোলেন তাঁরা। আজ এ বিষয়ে রাজ্য প্রশাসনের উপর চাপ বাড়াতে বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছিল সরকারি কর্মচারীদের ৩০টি সংগঠন। এর পাশাপাশি, মিছিল করে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচিও নিয়েছিলেন সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। কিন্তু মিছিল বিধানসভা চত্বরে যাওয়ার আগেই ধর্মতলার কাছে আটকে দেয় পুলিশ।
আরও পড়ুন:
বকেয়া ডিএ-র দাবিতে কয়েক মাস ধরেই ধারাবাহিক আন্দোলন করছেন সরকারি কর্মীদের একাংশ। ট্রাইব্যুনাল, হাই কোর্ট পেরিয়ে ডিএ মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। কেন্দ্রীয় হারে ডিএর দাবিতে শহিদ মিনার ময়দানে অবস্থানে বসেন কর্মচারীদের একটি সংগঠনের সদস্যেরা। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ রিলে অনশন শুরু করেন। কেন্দ্রীয় হারে বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবিতে ইতিমধ্যেই আগামী সোম এবং মঙ্গলবার রাজ্যে ৪৮ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন কর্মচারীদের সংগঠন ‘যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ’। শুক্রবার রাজ্য জুড়ে ‘ধিক্কার মিছিল’-এরও ডাক দেওয়া হয়। সপ্তাহের প্রথম দুই কাজের দিনে তাই সরকারি কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা। ডিএ বৃদ্ধির দাবিতে সব কর্মচারী সংগঠনকেই শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছে মঞ্চ। শুক্রবারের মিছিলে শামিল হয়েছিল কোঅর্ডিনেশন কমিটি, ১২ জুলাই কমিটি। পাশাপাশি, যোগ দিয়েছিলেন সংগ্রামী মঞ্চের সদস্যেরাও।
অন্য দিকে, সুপ্রিম কোর্টে এই ডিএ মামলা এখনও বিচারাধীন। আগামী ১৫ মার্চ মামলাটির পরবর্তী শুনানি। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর মামলাটি প্রথম বার শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টে ওঠে। পরে শুনানির দিন পিছিয়ে ১৪ ডিসেম্বর করা হয়। পাশাপাশি, এই মামলা শুনানির জন্য নতুন করে ডিভিশন বেঞ্চও গঠিত হয়। সেখানে ছিলেন দুই বাঙালি বিচারপতি— বিচারপতি হৃষীকেশ রায় এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। কিন্তু ওই দিনই মামলাটি থেকে বিচারপতি দত্ত সরে দাঁড়ান। ফলে মামলার শুনানি হয়নি। জানুয়ারিতে আবার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। সেই মতো ১৬ জানুয়ারি, সোমবার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক হয়। শেষ পর্যন্ত তা-ও হয়নি। ২০২২ সালের মে মাসে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ৩১ শতাংশ হারে ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। তাদের যুক্তি, হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত মেনে ডিএ দিতে হলে প্রায় ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা খরচ হবে। যা রাজ্য সরকারের পক্ষে বহন করা কঠিন।