Advertisement
E-Paper

সাত বছরের টালবাহানায় শহিদ স্মারক আজও প্রস্তাব

চব্বিশটি মেহগনি গাছ দাঁড়িয়ে আছে তাঁদের নামে— শিলদার নতুন ইএফআর ক্যাম্পে। কিন্তু সাত বছর পরেও নিহত ইএফআর জওয়ানদের স্মৃতিতে মূল জায়গায় স্মারক অথবা শহিদ স্তম্ভ তৈরি করা যায়নি। সারা বছর জঞ্জালে ভরে থাকে শিলদা নিমতলা চক লাগোয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরটি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০০:১৯
অস্থায়ী শহিদ বেদি। নিজস্ব চিত্র।

অস্থায়ী শহিদ বেদি। নিজস্ব চিত্র।

চব্বিশটি মেহগনি গাছ দাঁড়িয়ে আছে তাঁদের নামে— শিলদার নতুন ইএফআর ক্যাম্পে। কিন্তু সাত বছর পরেও নিহত ইএফআর জওয়ানদের স্মৃতিতে মূল জায়গায় স্মারক অথবা শহিদ স্তম্ভ তৈরি করা যায়নি। সারা বছর জঞ্জালে ভরে থাকে শিলদা নিমতলা চক লাগোয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরটি। এখানেই ছিল পুরনো ইএফআর ক্যাম্প। যেখানে মাওবাদী হানায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৪ জন জওয়ান। সেটা ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি।

তারপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা আশ্বাস দিয়েছেন, এখানে তৈরি হবে শহিদ স্মারক। এমনকী বাদ যাননি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বছর তিনেক আগে শিলদার এক প্রশাসনিক জনসভায় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মূল জায়গাটিতে একটি শহিদ স্মারক ও শহিদ উদ্যান করা হবে। তারপর প্রস্তাবিত সেই স্মারক স্তম্ভের জন্য ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করে রাজ্য পুলিশ। জেলা পুলিশের একটি সূত্রের অভিযোগ, অত কম টাকায় স্মারক তৈরি করা যায়নি। ফলে টাকা ফিরে যায়। রাজ্য পুলিশের মর্ডানাইজেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন বিভাগে সংশোধিত প্রকল্প বরাদ্দ প্রস্তাব পাঠায় ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ। তাও প্রায় দু’বছর আগের কথা। কিন্তু বরাদ্দ আসেনি, স্মারকও তৈরি হয়নি।

প্রতি বছরই এই দিনটিকে মনে রেখে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়। সাদা কাপড় দিয়ে ঘিরে হয় শোক প্যারেড। তৈরি হয় অস্থায়ী শহিদবেদি। কিন্তু ওই এক দিনই। তারপর আবার জঞ্জালের স্তূপ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ পর্যটকরা এসেও শিলদার ক্যাম্প দেখতে চান। নোংরা আবর্জনা দেখেই ফিরে যান। তবে আশ্বাসের অভাব হয়নি কোনও দিন।

Advertisement

২০১৫ সালে শিলদা-স্মরণ অনুষ্ঠানে এসে তৎকালীন আইজি (পশ্চিমাঞ্চল) সিদ্ধিনাথ গুপ্ত জানিয়েছিলেন, শীঘ্রই মূল জায়গায় একটি শহিদ মিনার করা হবে। গত বছরও তৎকালীন আইজি (পশ্চিমাঞ্চল) জ্ঞানবন্ত সিংহ বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে গত বছর জানানো হয়েছিল, শিলদা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র লাগোয়া ওই জায়গাটি স্বাস্থ্য দফতরের আওতাধীন। তাই তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে।

২০১০ সালে ওই ঘটনার পরই শিলদা বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বর থেকে ইএফআর ক্যাম্পটি তুলে নেওয়া হয়। পরে বেশ কিছুটা দূরে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের স্ট্র্যাকো জওয়ানদের ক্যাম্প করা হয়। ক্যাম্পেই নিহত জওয়ানদের স্মরণে ২৪টি মেহগনি গাছের একটি শহিদ স্মৃতি উদ্যান তৈরি করা হয়েছে। মূল জায়গায় প্রারম্ভিক অনুষ্ঠানে নিহতদের স্মরণে শোক-প্যারেডের পরে নতুন ক্যাম্পের ভিতর বাকি অনুষ্ঠান হয়।

আজ, শিলদা-কাণ্ডের সপ্তম বর্ষ পূর্তিতে শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানে শিলদায় যোগ দিতে আসার কথা রাজ্য পুলিশের বর্তমান আইজি (পশ্চিমাঞ্চল) রাজীব মিশ্র, ডিআইজি (মেদিনীপুর রেঞ্জ) বাস্তব বৈদ্য, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার তথা ঝাড়গ্রামের ভারপ্রাপ্ত এসপি ভারতী ঘোষ প্রমুখ। থাকবেন জেলা প্রশাসনের কর্তা ও ইএফআর কতারাও।

Martyr’s corner
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy