E-Paper

নন্দীগ্রাম পুনরুদ্ধার, ইঙ্গিত শাসক-রিপোর্টে

কেশব মান্না

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৫২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

যে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী গত বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন সেই নন্দীগ্রামেই নাকি এ বার তাঁকে তৃণমূল প্রার্থী, দলবদলু পবিত্র কর-এর কাছে হারতে হতে পারে! এমনকি, শুভেন্দুর নিজের এলাকা উত্তর এবং দক্ষিণ কাঁথিতে হাল ফিরবে তৃণমূলের! এমন চমকপ্রদ রিপোর্ট সম্প্রতি তৃণমূলের তরফে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কোন যাদুমন্ত্রে এমন হতে পারে, তার ব্যাখ্যা অবশ্য তৃণমূলের তরফে প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে তৃণমূলের সমীক্ষার দাবি উড়িয়ে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি আনন্দময় অধিকারী পাল্টা দাবি করেছেন,"নন্দীগ্রাম এবং কাঁথি নিয়ে দিবাস্বপ্ন দেখছে তৃণমূল।’’ তৃণমূলের মতো বিজেপি-ও দলীয় ভাবে ভোটপূর্ব সমীক্ষা চালিয়েছে। সেখানে উঠে এসেছে উল্টো চিত্র।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে এক প্রতিনিধি দল জেলার ১৬টি বিধানসভা এলাকায় ঘুরে প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠিয়েছে দিল্লিতে। জেলা বিজেপি সূত্রের খবর, ওই রিপোর্টে চণ্ডীপুর এবং পাঁশকুড়া-পশ্চিম বিধানসভা ব্যতীত বাকি ১৪টি আসনে পদ্ম ফুটবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে জিতছেন শুভেন্দুই। আবার গত ১৮ মার্চ ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রামনগর, উত্তর এবং দক্ষিণ কাঁথি আর খেজুরি বিজেপির দখলে থাকবে।

ভোটের আগে প্রচারে বেরিয়ে প্রার্থীরা কেমন সাড়া পাচ্ছেন, মানুষের প্রতিক্রিয়া কী, এ সব নিয়ে বিভিন্ন ভোট-সমীক্ষক সংস্থার হিসেব-নিকেশ চলছে। গোয়েন্দা দফতরেও প্রতিনিয়ত বিধানসভা ভোটের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, ভোটের ফল কী হতে চলছে, তা নিয়ে দলের জেলা নেতৃত্বের পাশাপাশি দলের সহায়ক ভোটকুশলী সংস্থা এবং অভিষেকের দফতর থেকে নিয়মিত রিপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি তৃণমূলের তরফে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে যে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬ টি আসনের মধ্যে ৯ টিতে নিশ্চিত ভাবে ঘাসফুলের প্রার্থীরা জয়ী হচ্ছেন। অর্থাৎ, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল তারা ধরে রাখতে সমর্থ হচ্ছে। যদিও রিপোর্টে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের জয়ের ভবিষ্যৎবাণী সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বলে মনেকরা হচ্ছে।

তৃণমূলের সমীক্ষার রিপোর্টে এগরা এবং মহিষাদল কেন্দ্রে জোর লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেওয়া গিয়েছে। চণ্ডীপুর ও পটাশপুরে তৃণমূল প্রার্থীরা জিতবেন এবং ময়না, ভগবানপুরে শাসক দলের ভাল ফল হবে বলে জানানো হয়েছে।

আবার গত বৃহস্পতিবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল জেলার সব পদ্মপ্রার্থী এবং বিজেপির জেলা পদাধিকারীদের নিয়ে বৈঠক করেন। তাতে কার, কোথায়, কী সমস্যা হচ্ছে এবংকী ভাবে সেই সমস্যার সমাধান করতে হবে, তাই নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Nandigram TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy