পুরুষাঙ্গের কোনও রকম সমস্যা হলে কখনও লজ্জায়, কখনও আবার নিছকই সামান্য বিষয় ভেবে অনেকেই এড়িয়ে যান। আর এই অসবাধানতা থেকেই দিন দিন বাড়ছে পুরুষাঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি।
পুরুষাঙ্গের ক্যানসার বা পেনাইল ক্যানসারে লিঙ্গের ত্বকে বা টিস্যুতে ক্ষতিকারক কোষ তৈরি হয়, এবং অনিয়ন্ত্রিত হারে তা বাড়তে থাকে। এটি সাধারণত লিঙ্গের মাথা বা চামড়ার নিচে শুরু হয়। এইচসিজি ক্যানসার হাসপাতালের চিকিৎসক গৌরব আগরওয়াল বলেন, “একটা সময় পেনাইল ক্যানসার বিরল হলেও ইদানীং এই রোগে আক্রান্ত রোগীর হার তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। এই রোগ রোগীর শারীরিক ও মানিসক অবস্থার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ ক্ষেত্রে লিঙ্গের কার্যক্ষমতা বজায় রেখে চিকিৎসা সম্ভব হয়।’’
ভারতে প্রতি এক লক্ষ পুরুষের মধ্যে ৩ জন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতি বছর প্রায় নতুন ১০ হাজার পেনাইল ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হচ্ছেন।
আরও পড়ুন:
কোন কোন লক্ষণ সাধারণ মনে হলেও পেনাইল ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে?
১) পুরুষাঙ্গে কোনও শক্ত পিণ্ড
২) পুরুষাঙ্গের কোনও অংশ ফুলে যাওয়া বা ফোলা অংশ থেকে রক্তপাত
৩) পুরুষাঙ্গ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত তরল নিঃসরণ
৪) পুরুষাঙ্গের উপরের চামড়া শক্ত হয়ে যাওয়া
৫) পুরুষাঙ্গের উপরের চামড়ার রঙে হঠাৎ পরিবর্তন আসা
কাদের ঝুঁকি বেশি?
পুরুষাঙ্গের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন হল স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা। যৌনাঙ্গের অপরিচ্ছন্নতা, বয়স এবং ধূমপান এই ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। এই রোগের আরও একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)। পেনাইল ক্যানসারে আক্রান্ত অনেক রোগীর দেহে এইচপিভি-১৬-এর অ্যান্টিবডি পাওয়া গিয়েছে। সাধারণত বয়স ৬০ পেরোলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তবে এখন তরুণদের মধ্যেও এই রোগ ধরা পড়ছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ ধরা পড়লে সুস্থতার হার অনেকটাই বেশি। চিকিৎসক গৌরব জানান, সম্প্রতি নিউটাউনের এইচসিজি ক্যানসার হাসপাতলে ৬২ বছরের এক বৃদ্ধ আসেন যিনি স্টেজ টু পেনাইল ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। তবে প্রাথমিক পর্যায় ধরা পড়ার কারণে তাঁরা রোবটিক সার্জারির সাহায্যেই তাঁকে আপাত ভাবে ক্যানসারমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। কোনও রকম কেমো, রেডিয়েশন ছাড়াই তিনি একেবারে সুস্থ জীবনে ফিরে গিয়েছেন। রোবটিক অস্ত্রোপচারে রোগীর পুরুষাঙ্গ বাদ দেওয়ারও প্রয়োজন পড়েনি। তবে সকলের ক্ষেত্রেই যে এমনটা করা সম্ভব, তা নয়। সময় মতো রোগনির্ণয় সম্ভব হলেই এই রোগের সঙ্গে সহজে লড়াই সম্ভব।