মাস খানেক আগের কথা। গরমে তখন নাজেহাল মেদিনীপুর মেডিক্যালের রোগীরাও। কারণ, এই হাসপাতালের সব ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পাখা নেই। যে ক’টি আছে, তার কয়েকটি আবার অচল। পরিস্থিতি দেখে সটান হাসপাতাল সুপারের দফতরে লিখিত আর্জি জানিয়েছিলেন বৃদ্ধা নাবিয়া খাতুন। সুপারের কাছে এই রোগিণীর আর্জি ছিল, হয় তাঁর শয্যার পাশে পাখার ব্যবস্থা করা হোক, না হলে বাড়ি থেকে আনা পাখা চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক।
দিন কয়েক আগে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা আচমকা হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেও নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখেন। ওই পরিদর্শক দলের অভিজ্ঞতা ছিল, শুধু পর্যাপ্ত পাখার অভাবই নয়, মেদিনীপুর মেডিক্যালে রোগী স্বাচ্ছন্দ্যের বেশ কয়েকটি দিকই অবহেলিত। সে দিকে নজর দিতে ইতিমধ্যে হাসপাতালকে সতর্কও করা হয়েছে। জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনার নির্দেশ, রোগী স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে আরও বেশি নজর দিতে হবে। পরিষেবা এবং পরিকাঠামোর মানোন্নয়নও করতে হবে। নির্দেশ মতো পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতাল সুপার তন্ময়কান্তি পাঁজা।
মঙ্গলবার বিকেলে জেলাশাসকের দফতরে এক বৈঠক হয়। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি বৈঠকে ছিলেন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্তারা। পরিদর্শনে কী কী ত্রুটি-বিচ্যুতি নজরে এসেছে তা হাসপাতাল কর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের কর্তাদের স্পষ্ট বার্তা, মেদিনীপুরের এই হাসপাতাল জেলার সবথেকে বড় হাসপাতাল। এখানে রোজ প্রচুর মানুষ আসেন। হাসপাতালে আসা মানুষদের স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে নজর রাখতেই হবে।
মেডিক্যালে শয্যা রয়েছে ৬৬০টি। গড়ে রোগী ভর্তি থাকেন ৭৫০-৮০০ জন। মাসে বহির্বিভাগে রোগী আসেন গড়ে ১৫,৯০০ জন। জরুরি বিভাগে গড়ে মাস রোগী আসেন ৬,৫৭০ জন। এই হাসপাতালে এ বার যেমন পরিদর্শন হয়েছে, তেমনটা এর আগে মেডিক্যালে হয়নি। জেলাশাসক তথা মেদিনীপুর মেডিক্যালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান জগদীশপ্রসাদ মিনার নির্দেশেই এক সন্ধ্যায় চার-চারটি পরিদর্শক দল হাসপাতালে গিয়েছিল। প্রতিটি দলের মাথায় ছিলেন এক-একজন অতিরিক্ত জেলাশাসক। এই চারটি দল চার জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। একটি দল যায় পুরনো ভবনে, একটি দল যায় নতুন ভবনে। জেলা প্রশাসনের পরিদর্শক দল যে এ ভাবে আচমকা পরিদর্শনে আসবে তা জানা ছিল না হাসপাতাল কর্তাদের। ফলে, সব কিছু গুছিয়ে নেওয়ার সময় মেলেনি!
কী কী অব্যবস্থা নজরে আসে?
পরিদর্শকদের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, বিভিন্ন ওয়ার্ডে শৌচাগার বেহাল। কয়েকটি ব্যবহারের অযোগ্য। সব শয্যায় চাদর, মশারি নেই। ওয়ার্ডের আশেপাশে যত্রতত্র দাহ্যবস্তু পড়ে। আর অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র অকেজো। কয়েকটি ওয়ার্ডের মেঝেতে খানাখন্দ মেরামত করা হয়নি। বিভিন্ন অব্যবস্থা দেখে অসন্তোষ গোপন করেননি পরিদর্শকেরা। পরিদর্শক দলে ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (পঞ্চায়েত) মধুসূদন চট্টোপাধ্যায়, অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) অরিন্দম নিয়োগী, মেদিনীপুরের মহকুমাশাসক (সদর) দীননারায়ণ ঘোষ, জেলা পরিকল্পনা ও উন্নয়ন আধিকারিক সুমন্ত রায় প্রমুখ। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলছিলেন, “কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে। মেদিনীপুর মেডিক্যালের মতো বড় হাসপাতালে এ সব থাকা অনুচিত। ফের আচমকা পরিদর্শন হবে। গাফিলতি নজরে এলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’