Advertisement
E-Paper

টেবিল ম্যাট থেকে মতরঞ্জি, শুরু মাদুর মেলা

পটের পর এ বার মাদুর। সবংয়ের মাদুরকে বিশ্ব বাজারে জনপ্রিয় করতে মেলার আয়োজন করছে ‘বাংলা নাটক ডট কম’। মাদুর শিল্পে রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার প্রাপ্ত পুষ্পরানি জানা ও অলোককুমার জানার গ্রাম সবংয়ের সারতাতে শুক্রবার মেলার উদ্বোধন করেন বিধায়ক মানস ভুঁইয়া, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৬ ০১:০৫
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মানস ভুঁইয়া। — নিজস্ব চিত্র

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মানস ভুঁইয়া। — নিজস্ব চিত্র

পটের পর এ বার মাদুর। সবংয়ের মাদুরকে বিশ্ব বাজারে জনপ্রিয় করতে মেলার আয়োজন করছে ‘বাংলা নাটক ডট কম’।

মাদুর শিল্পে রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার প্রাপ্ত পুষ্পরানি জানা ও অলোককুমার জানার গ্রাম সবংয়ের সারতাতে শুক্রবার মেলার উদ্বোধন করেন বিধায়ক মানস ভুঁইয়া, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি। মেলা চলবে আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

পিংলার নয়া গ্রামের পটের খ্যাতি এখন বিশ্বজোড়া। ফি বছর বিদেশিরাও মেলা দেখতে হাজির হন। পটে প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার,পুরাণ কাহিনী থেকে পটচিত্রের আধুনিক ব্যবহার— প্রশিক্ষণ দিয়ে চিত্রকরদের এ সবই শিখিয়েছিল ‘বাংলা নাটক ডট কম’। এ বার তাঁদের উদ্যোগেই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে সবংয়ের সারতা তারকনাথ ইন্সটিটিউশনের মাঠে।

Advertisement

সবংয়ের মাদুরের খ্যাতি আরও ছড়িয়ে দিতে, বিদেশিদের কাছে আরও জনপ্রিয় করতেই এই মেলার আয়োজন। বছর দেড়েক আগে থেকেই এই মেলার পরিকল্পনা। তখন থেকেই ‘বাংলা নাটক ডট কম’-এর সহযোগিতায় রাজ্য সরকারের খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ মাদুর শিল্পীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। তার ফলে শিল্পে বৈচিত্র্য আনা গিয়েছে বলেই সংস্থার দাবি।

শুধু মাদুর নয়, মেলায় বিক্রি হচ্ছে রংবেরঙের টেবিল ম্যাট, মেঝেতে পাতার প্রো ফ্লোর ম্যাট, রকমারি মতরঞ্জি। নকশা করা রংবেরঙের সূক্ষ্ম কাঠির মাদুরই মতরঞ্জি নামে পরিচিত। হাতের মুঠোয় বিশ্বকে পেতে শিল্পীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যাতে কম্পিউটারে ক্লিক করেই শিল্পীরা দেখে নিতে পারেন, কোন দেশে কী ধরনের মাদুরের চাহিদা, তাঁরা কী রং পছন্দ করেন।

মেলার আয়োজক সংস্থার সদস্য অমিত ঘোষ বলেন, “দেড় বছরে দুই মেদিনীপুরে ৪৪৩২ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মেলার পর সবংয়ে মাদুরের ইতিহাসে নব দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেই আমাদের আশা।” মাদুর শিল্পী ঝিকুরিয়ার গুরুপদ মানার কথায়, “আগেও মতরঞ্জি বানাতাম। প্রশিক্ষণ পেয়ে টেবিল ম্যাট, ফ্লোর ম্যাট ও উন্নত মতরঞ্জি বানাচ্ছি। ইন্টারনেটের সাহায্যে বিশ্বের বাজার সম্বন্ধে খোঁজখবর রাখতে, মাদুরের বিভিন্ন মডেল দেখছি।”

শেখার পর নিত্যনতুন পদ্ধতিতে মাদুর তৈরি হল। কিন্তু বেশি দামে তা কিনবে কে? আকর্ষণীয় মাদুরের দাম তো অনেক বেশি। গ্রামেগঞ্জে কি সেগুলি বিক্রি হবে? অমিতবাবু জানান, বিশ্ববাংলা হাট থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন বড় বড় মেলাতে এই শিল্পীদের তৈরি মাদুর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দিল্লি, গুজরাত, চেন্নাই, কর্নাটক মেলায় গিয়েছিলেন সবংয়ের মাদুর শিল্পীরা।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি জানান, মাদুরের চাহিদা বাড়ে গ্রীষ্মে। শীতে, বর্ষার চাহিদা নেই। ফলে সে সময় উৎপাদিত মাদুরগুলি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। সে জন্য শহরেও খাদির মাধ্যমে স্টল করার ভাবনা চিন্তা চলছে।

Bangla natok.com
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy