বৈশাখ যতই তপ্ত হোক, সাজগোজে খামতি থাকলে চলবে না! বৈশাখী সাজে পাটভাঙা তাঁত কিংবা সিল্কের সঙ্গে রূপটান হতেই হবে মানানসই। সে না হয় মেকআপের কারিকুরি হল, কিন্তু চুলের কী হবে?
পেশাদারদের মতো চুল বাঁধা তো সহজ কথা নয়! চুল খোলা থাকবে না কি বাঁধবেন, অথবা হাতখোঁপাতেই মানাবে সাজ, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন? শিখে নিন এমন কিছু কেশসজ্জা, যা নিজেই করতে পারবেন, সময়ও লাগবে না বেশি, আবার মানানসই হবে শাড়ির সঙ্গেও।
ছোট চুলে কেতা
ছোট চুলও বাঁধা যায়। কায়দা জানলে, তা দিয়েই নজর কাড়তে পারেন। ছবি: ইউটিউব।
ছোট চুল নিয়ে দিশেহারা! শাড়ির সঙ্গে কোন কেতা হবে মানানসই, ভাবনায় পড়েছেন? চুল যদি মসৃণ এবং সোজা হয় তা হলে ‘লো বান’ কেশসজ্জা বেশ মানাবে। মাঝখান থেকে সিঁথি করে চুল ভাল করে আঁচড়ে নিন। দুই অংশের বেশ কিছুটা চুল পেঁচিয়ে এনে মাথার পিছনের ঠিক মাঝ বরাবর রাবার ব্যান্ড দিয়ে আটকে দিন। এ বার বাঁদিকের (পিছনের অংশের) কিছুটা চুল বাঁধা অংশের ভিতর দিয়ে ঢুকিয়ে দিতে হবে। একই ভাবে ডান দিকের চুলও রাবার ব্যান্ডের বাঁধা অংশের ভিতর দিয়ে কায়দা করে ঢুকিয়ে দিতে হবে। একেবারে শেষে লেজের মতো যে অংশটি থাকবে, সেটি রোল করে ববি পিন দিয়ে আটকে দিন। খোঁপা নয়, অথচ চুল সুন্দর করে বাঁধা হয়ে থাকবে। ঘাড় খোলা থাকবে বলে তপ্ত বৈশাখেও গরম লাগবে কম। চুলের সামনের দিকটি টেল কম্বের সাহায্যে একটু ফাঁপিয়ে দিন। চাইলে হালকা লকসের মতো ছোট চুল বার করে রাখতে পারেন।
মাঝারি চুলের বাহারি সাজ
একপাশে সিঁথি করে, হাতের কায়দায় সহজে চুল বেঁধে নিন। ছবি: ইউটিউব।
একপাশে সিঁথি করতে চাইলে এমন কেশসজ্জা মানাবে। চাইলে এটি চুল পাফ করে বা খানিকটা ফুলিয়েও করতে পারেন। প্রথমেই চুল খুব ভাল করে আঁচড়ে নিন। কিছুটা খোলা থাকবে বলেই সিরাম লাগিয়ে নিন, এতে মসৃণ দেখাবে চুল। সামনের দিকের চুল ২-৩ ইঞ্চি ছেড়ে মাথার সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে সিঁথি কাটুন। পিছনের অংশের চুলটি টেল কম্বের (বিশেষ ধরনের চিরুনি) সাহায্যে অল্প ফাঁপিয়ে রাবার ব্যান্ড দিয়ে আটকে ববি পিন দিয়ে মাথার পিছন দিকে আটকে দিন। এবার সামনের আলাদা করা চুলটি ভাল করে আঁচড়ে নিয়ে অল্প ফাঁপিয়ে আঙুলের সাহায্যে পাকিয়ে নিয়ে কানের পাশে ববি পিন দিয়ে আটকে নিন। একই ভাবে সিঁথির অন্য দিকের চুলটিও পাকিয়ে নিয়ে কানের পাশে ববি পিন দিয়ে আটকে নিন। এ বার রাবার ব্যান্ডের সাহায্যে বাকি চুল বেঁধে নিন। চাইলে ফুলের মালা গজরার মতো করে জড়াতেও পারেন।
লম্বা চুলের সহজ শৈলী
লম্বা, মাঝারি দৈর্ঘ্য— দুই ধরনের চুলেই খুব সহজে এই ভাবে কেশসজ্জা করা যায়। ছবি: ইউটিউব
চুল ভাল করে আঁচড়ে পিছনের দিকে টেনে বেঁধে নিন। তার পরে আলগা বিনুনি করে খোঁপার মতো ববি পিন এবং ক্লিপ দিয়ে মাথার পিছনে আটকে নিন। চাইলে ফুলের ছোঁয়া রাখতে পারেন কিংবা কোনও চুলের অলঙ্কারও ব্যবহার করতে পারেন। সামনে থেকে খানিকটা চুল লকসের মতো বার করে দিন।
কোঁকড়া চুলের সাজকথা
কোঁকড়া চুলও কায়দা করে বাঁধা যায়। ছবি: সংগৃহীত।
মসৃণ চুলে নানা রকম কেশসজ্জা করা যায়। তবে চুলের ধরন কোঁকড়া হলে ঝক্কিও বাড়ে। প্রথমত এমন চুল বড় ফুলে থাকে, তার উপর রুক্ষ হলে তাকে বাগে আনা কঠিন হয়ে যায়। প্রথমেই এমন চুল ভাল করে তেল মাসাজ় করে শ্যাম্পু করে নিন। কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। তার পরে মাখতে হবে সিরাম। এতে চুল কিছুটা নরম থাকবে। ফোলা ভাবও কমবে।
চুল কাঁধ ছাপানো হলে মাথার উপর দিকে অর্ধেক চুল নিয়ে খোঁপা করতে পারেন। চুল আঁচড়ে উপরের দিক থেকে বেশ কিছুটা চুল নিয়ে পেঁচিয়ে খোঁপা করে নিন। খোঁপা থাকবে মাথার উপরে কিন্ত পিছন দিকে।
ঢেউ খেলানো চুলে কোন বাহার
চুল সোজা মসৃণ হোক বা ঈষৎ ঢেউখেলানো গরমের দিনে শাড়ির সঙ্গে বেশ মানাবে এমন সাজ। ছবি:ইউটিউব।
চুল পুরোপুরি মসৃণ বা সোজা নয়, আবার ঠিক কোঁকড়াও নয়, এমন চুলের সজ্জার ধরন শিখে নিন। একপাশে সিঁথি কেটে নিন। টেল কম্বের সাহায্যে কানের পাশ থাকে সমান্তরাল ভাবে চুল ভাগ করে নিন। ভাল করে চুলের ভাগ করা অংশ আঁচড়ে হালকা ফাঁপিয়ে টুইস্ট করে মাথার পিছনে আটকে দিন। দুই পাশেই একই ভাবে চুল টুইস্ট করে আটকাতে হবে। চাইলে খোলা চুলের নীচের অংশে আউটকার্ল করে নিতে পারেন।