Advertisement
E-Paper

WB Municipal election 2022: প্রশাসনের প্রশংসা বিজেপি বিধায়কের, সঙ্গে অবরোধও

ভোটের দু’দিন আগেও শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে বহিরগতদের দিয়ে ভোট লুটের আশঙ্কায় সরব হয়েছিল বিরোধীরা।

অভিজিৎ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০৭:১৯
ভোটারদের বুথে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন যুযুধান প্রার্থীরা। ঘাটালের যোগদা সৎসঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে।

ভোটারদের বুথে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন যুযুধান প্রার্থীরা। ঘাটালের যোগদা সৎসঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে। ছবি: কৌশিক সাঁতরা

বহিরাগতদের দিয়ে শাসকদলের ভোট লুটের আশঙ্কায় সরব ছিল বিরোধীরা। অভিযোগ ছিল পুলিশ-তৃণমূল আঁতাতেরও। কিন্তু ভোটের শেষে এ ধরনের কোনও অভিযোগ মুখে আনল না বিজেপি-সিপিএম কোনও পক্ষই। বিজেপির বিধায়ক শীতল কপাটের মুখে শোনা গেল পুলিশের প্রশংসাও। তবে দিনের শেষে চন্দ্রকোনা এবং ক্ষীরপাইয়ে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে ঘাটালের কুশপাতায় সার্ভিসিং সেন্টারের কাছে পথ অবরোধ করল বিজেপি। ভোট লুটের অভিযোগ তুললেন বিজেপির জেলা সভাপতি।

রবিবার সকাল থেকেই ঘাটালের আকাশ কিছুটা মেঘলা ছিল। ভোট শুরুর পর থেকেই ঘাটাল শহরে কম-বেশি সব বুথেই ভোটের লম্বা লাইন দেখা যায়। সকাল ন’টার সময় ঘাটালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বসন্তকুমারী বালিকা বিদ্যালয়ে সামনে মহিলাদের বড় লাইন চোখে পড়ে। শুকচন্দ্রপুর, গম্ভীরনগর, রামচন্দ্রপুর-সহ ঘাটালের গ্রামীণ এলাকাতেও সকাল থেকেই ভালই ভোট হয়েছে। বেশ কিছু বুথে ইভিএম বিভ্রাটে ভোট দেরিতে শুরু হলেও, দুপুর ১২টার মধ্যেই ৪৫ শতাংশ ভোট পড়ে যায় ঘাটাল পুর-এলাকায়।

ভোটের দু’দিন আগেও শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে বহিরগতদের দিয়ে ভোট লুটের আশঙ্কায় সরব হয়েছিল বিরোধীরা। কিন্তু ভোটের দিন ঘাটাল পুর-এলাকার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রের বাইরে ক্যাম্পে শাসক এবং বিরোধী— সব পক্ষকেই কাছাকাছি বসে থাকতে দেখা যায়। পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাউলি প্রাথমিক স্কুলে বিজেপি প্রার্থী তাপস মণ্ডল, সিপিএম প্রার্থী কৌশিক চক্রবর্তী এবং তৃণমূলের শ্যামলেন্দু মণ্ডলের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সুষ্ঠু ভাবে ভোট পরিচালনার ছবি চোখে পড়ে। পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপাড়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গম্ভীরনগর হাটপাড়ায় সবপক্ষের ক্যাম্পগুলিই ছিল মুখোমুখী। ঘাটাল শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুশপাতার এক তরুণী মহুয়া মিশ্র বলছিলেন, “সকালেই ভোট দিয়েছি। অপেক্ষা করতেও হয়নি।”

অন্য দিকে খড়ার, রামজীবনপুর পুরসভাতেও একই ছবি। খড়ার পুর-এলাকা ক’দিন ধরেই উত্তপ্ত ছিল। সেখানে এ দিন অশান্তি ছাড়াই ভোট মিটেছে। খড়ার পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এক ভুয়ো ভোটার এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থী শম্ভু মালিককে চড় মারার অভিযোগ উঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। রামজীবনপুরে এ দিন সকাল ১১টার মধ্যে সেখানে ৪০ শতাংশ ভোট হয়ে যায়। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে গণেশ জননী প্রাথমিক স্কুলের ফাঁকা বুথ পেয়ে তৃণমূল প্রার্থী কল্যাণ তিওয়ারি এবং বিজেপি প্রার্থী তপন চক্রবর্তী একসঙ্গে বসে গল্পও করেন। তপনের কথায়, “কল্যাণের সঙ্গে আমার কাকা-ভাইপোর সম্পর্ক।” পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থী শিবরাম দাস ও তৃণমূল প্রার্থী শম্ভু দাস হাতে হাত মিলিয়ে ভোটকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে লাইন ‘ম্যানেজ’ করেন। ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, “পুলিশ-প্রশাসন নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করেছে।” বিধায়কের ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, ভোটের পরে ব্যক্তিগত ভাবে পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি তন্ময় দাসের অভিযোগ, ‘‘ক্ষীরপাই ও চন্দ্রকোনার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোট লুট হয়েছে। ছাপ্পা ভোট হয়েছে ঘাটালেও।’’

সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য অশোক সাঁতরা বলেন, “ঘাটালে ভোট নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই।” তৃণমূলের ঘাটাল সাংগাঠনিক জেলা সভাপতি আশিস হুতাইত বলেন, “তৃণমূল সব সময় শান্তির পক্ষে।”

BJP TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy