সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। তা নজরে রেখে কিছু দিন আগে পূর্ব মেদিনীপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ‘পাড়া’য় জনসভা করে গিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এক সপ্তাহের মধ্যে সেই কাঁথিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে বেকায়দায় শাসকদল। দলের উপরতলার নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে পদত্যাগ করলেন কাঁথি ১ নম্বর ব্লকের দুলালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান ও অঞ্চল সভাপতি-সহ মোট ৮ জন। তৃণমূল সূত্রে খবর, দলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তাঁরা।
দলের জেলা সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি শেখ আনোয়ারউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রথমে দলীয় পদ ছাড়েন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি মলয় সামন্ত। ঠিক তার পরেই পদত্যাগ করেন কাঁথির দুলালপুর পঞ্চায়েতের প্রধান সুপ্রভা নায়েক এবং উপপ্রধান রামকৃষ্ণ গিরি-সহ দুলালপুর পঞ্চায়েতের সাত জন সদস্যও ইস্তফা দেন শনিবার। তাঁদের দাবি, জেলা নেতা হয়েও পঞ্চায়েতের সমান্তরাল প্রশাসন চালাতে চাইছেন আনোয়ারউদ্দিন। মলয় বলেন, ‘‘আমাকে আনোয়ারউদ্দিন চাপ দিচ্ছিলেন। দলের বর্তমান পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধানকে বাদ রেখেই কাজ করতে বলছিলেন। কিন্তু আমি কোনও ভাবেই সেটা করতে পারব না বলেই সরে দাঁড়িয়েছি।’’
মলয়ের আরও দাবি, অভিষেকের সভার প্রস্তুতির সময়েও তাঁকে নামে ‘কুকথা’ বলা হয়েছে এলাকায়। জেলা স্তরের অন্য নেতাদের বিষয়টি জানানোর পরেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। রামকৃষ্ণও বলেন, ‘‘আমরা আপাতত দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। এতেও অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে প্রয়োজনে বিডিও অফিসে গিয়েও পঞ্চায়েতের সমস্ত পদ থেকে আমরা ইস্তফা দেব।”
এ বিষয়ে কাঁথি-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি গণেশ মহাকুড় বলেন, ‘‘বড় দলে এমন সমস্যা হয়। এগুলো দলের অন্দরে বসে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া হবে। তবে কয়েক জন নেতা ক্ষোভ থেকে এই কাজ করেছেন।।’’
এই ঘটনায় শাসকদলকে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে বিজেপি। দলের রাজ্য কমিটির সদস্য অনুপকুমার চক্রবর্তী বলেন, “রাজ্যে তৃণমূলের কঙ্কালসার অবস্থা প্রকট হচ্ছে। কাটমানির বিরুদ্ধে এখন দলের নেতারাই সরব হচ্ছেন। আসলে সাধারণ মানুষকে জবাব দিতে পারছে না বলেই ওঁরা পদত্যাগ করলেন।”