সরকারের ছুটির বার্তায় বাড়তি উন্মাদনা দেখা গেল করম পরবে। তৃণমূলের সঙ্গে মিলেমিশে উৎসবে যোগ দিলেন কুড়মি আন্দোলনের নেতারাও। এমনই ছবি দেখা গেল পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়ে। প্রায় সব জায়গাতেই উৎসবের রাশ ছিল শাসকদল তৃণমূলের হাতেই। পরবের আয়োজন থেকে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনাতেও তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য বা নেতাদের দেখা গিয়েছে। পূর্ণ দিবস ছুটি দেওয়ায় রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন কুড়মি নেতারা।
কুড়মি সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, 'সেকশনাল হলিডে' নয়, পূর্ণ দিবস ছুটি দিতে হবে করম পরবে। সেই দাবি এবার মঞ্জুর করেছে রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, সরকারি উদ্যোগে উৎসবের আয়োজনও হয়েছে। গোয়ালতোড়ে গড়বেতা ২ বিডিও অফিস চত্বরে করম পরব হয়।ছিলেন বিডিও কৃষ্ণনির্মাল্য ভট্টাচার্য, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীনবন্ধু দে প্রমুখ। গোয়ালতোড় কলেজে কুড়মি সেনার উদ্যোগেও দিনটি পালন করা হয়।
পাটাশোল, কাদোশোল, কেড়ুমারা, চৌরঙ্গি, কেনকানালি, ছাগুলিয়া, গোটসিংলা, ধরমপুর, কাকরিশোল, অদালিয়া প্রভৃতি এলাকায় কুড়মি সমাজ ও কুড়মি সেনার কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূলের নেতা-কর্মী, পঞ্চায়েত সদস্যেরা সক্রিয়ভাবে যোগ দেন। পিংবনি অঞ্চলের কুড়মি সম্প্রদায়ের এক তৃণমূল কর্মী বলেন, ‘‘সমাজের কর্মসূচিতে অংশ তো নেবই। তারপর এবার রাজ্য সরকার পূর্ণ দিবস ছুটি দিয়েছে। তাই বাড়তি উৎসাহে যোগ দিয়েছি।" গোয়ালতোড় ব্লকের (এ) তৃণমূলের সভাপতি ভাস্কর চক্রবর্তী বলেন, "করম পরবে আমাদের অনেক নেতা, পঞ্চায়েত সদস্যরা যোগ দিয়েছেন। তৃণমূল বরাবর কুড়মিদের পাশে ছিল। এখনও আছে। রাজ্য সরকারের পূর্ণাঙ্গ ছুটি ঘোষণা তারই প্রমাণ দেয়।"
করমের রাশ শাসক দলের হাতে থাকলেও, কুড়মি সংগঠনের নেতারা অব্শ্য এতে রাজনীতির যোগ দেখছেন না। একই সঙ্গে এদিন পূর্ণ দিবস ছুটি দেওয়ায় রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদও জানিয়েছে তাঁরা। গোয়ালতোড়ের কুড়মি সমাজের নেতা আশিস মাহাতো বলেন, "রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই করম পরবে পূর্ণ দিবস ছুটি দেওয়ার জন্য। সেই জন্য এবার বাড়তি উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে। তবে এই পরবের জন্য সরকারি স্তরে কোনও আর্থিক সাহায্য মেলেনি, নিজেরাই করম পরবের খরচ তুলেছি।" এদিন চন্দ্রকোনা রোডের কয়েকটি এলাকায় নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজ। ওই সংগঠনের রাজ্য কমিটির সদস্য মনোরঞ্জন মাহাতোও এদিন পূর্ণ দিবস ছুটি দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বিজেপির কুড়মি সম্প্রদায়ের যেসব নেতা বা কর্মী আছেন তাঁরা এদিন বিক্ষিপ্তভাবে পরবে যোগ দিলেও দলগতভাবে বিজেপির সক্রিয়তা ছিল না এদিন। কেন? বিজেপির গোয়ালতোড় দক্ষিণ মণ্ডলের সভাপতি স্বপন মান্না বলছেন, "দলগতভাবে কোনও নির্দেশ ছিল না। আর করম পরবে তৃণমূলের অতি সক্রিয়তা ভোটের রাজনীতির জন্য। লোকসভা ভোটে ভোট ব্যাঙ্ক ধরে রাখতে এই পথ নিচ্ছে তৃণমূল।"
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)