প্রত্যাশা মতোই রেলশহরে পুরবোর্ড গঠনে তৃণমূল ও বিজেপিকে সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নিল বামেরা। তৃণমূলকে সমর্থনে অনীহা দেখাচ্ছে বিজেপিও। এই অবস্থায় পুরবোর্ড গঠনে তুলনায় এগিয়ে কংগ্রেস।
৩৫ আসনের পুরসভায় ১১টি করে আসন পেয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল। বিজেপি ৭ ও বামেরা ৬টি ওয়ার্ডে জিতেছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি-র সমর্থন পেলেই একমাত্র নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেতে পারে কংগ্রেস বা তৃণমূল (১১+৭=১৮)। শুক্রবারই জেলবন্দি রেল মাফিয়া শ্রীনু নায়ডুর সঙ্গে দেখা করেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা এ বারও জয়ী জহরলাল পাল। শ্রীনুর স্ত্রী পদ্ম-প্রতীকে জেতা পূজার সমর্থন আদায় করতেই এই পদক্ষেপ বলে সরব হয়েছে বিজেপি। যদিও পূজা বলছেন, “আমি কখনও তৃণমূলের সঙ্গে যাব না।’’ কিন্তু আপনার দল তৃণমূলের সঙ্গে জোট করলে? পূজার জবাব, “তখন আমি একা মানুষের জন্য কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করব।’’ ভোটের এক সপ্তাহ পরেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেনি বিজেপি। দলের জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের কাছে কেউ সমর্থনের আবেদন জানায়নি। সুষ্ঠু পুর-পরিষেবার জন্য যদি কাউকে সমর্থন করতে হয় ভাবব। তবে তৃণমূলকে কোনও ভাবেই সমর্থন করব না।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বামেদের সমর্থনে তৃণমূল বা কংগ্রেসও বোর্ড গঠন করতে পারে। তবে বাম-তৃণমূল জোটের সম্ভাবনা কম। ফলে, দৌড়ে এগিয়ে থাকছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের বিদায়ী পুরপ্রধান তথা কাউন্সিলর রবিশঙ্কর পাণ্ডে বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে শপথ গ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার কথা। তাই বিজ্ঞপ্তি জারি হলেই এই বিষয়ে ভাবব। এখন চুপ করে গ্যালারিতে বসে সকলের খেলা দেখছি।”
বাম শিবির যদিও কাউকে সমর্থনের কথা স্পষ্ট ভাবে বলছে না। সিপিএমের শহর জোনাল সম্পাদক অনিতবরণ মণ্ডল বলেন, “আমরা এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারিনি। তবে তৃণমূল ও বিজেপি যদি বোর্ড গড়ে তার বিরোধিতা সবসময় করব।’’ তৃণমূলের শহর সভাপতি দেবাশিস চৌধুরীরও দাবি, “এখনও পুরবোর্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারিনি।’’