×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৯ জুন ২০২১ ই-পেপার

সপুত্র পরিযায়ীর মৃত্যু বাড়ির পথে

নিজস্ব সংবাদদাতা
দাসপুর ২৫ এপ্রিল ২০২১ ০৭:১০
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।
ফাইল চিত্র

কখনও কর্মস্থলে। কখনও আবার কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে। পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যু অব্যাহত।

ভিন্ রাজ্য থেকে দাসপুরে বাড়ি ফেরার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় শিশুপুত্র-সহ মৃত্যু হল এক পরিযায়ী শ্রমিকের। দুঘটনাটি ঘটে শুক্রবার ভোরে। শনিবার দেহ গ্রামে আসে। এ দিনই দাসপুরের চাঁইপাটে মৃত্যু হয়েছে আরেক পরিযায়ীর। তিনি কর্মসূত্রে সেকেন্দ্রাবাদে থাকতেন। দিন চারেক আগে তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছত্তীসগঢ় থেকে গাড়ি ভাড়া করে বাড়ি ফিরছিলেন দাসপুরের উদয়চকের বাসিন্দা স্বর্ণশিল্পী সুমিত জানা (৩৮)। ওই গাড়িতে সুমিতের স্ত্রী, পুত্র-সহ মোট ছয় জন ছিলেন। শুক্রবার ভোরের দিকে ছত্তীসগঢ়ের কাছাকাছি সড়াইপালি সীমানায় গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান সুমিত ও তাঁর পুত্র আয়ুষ জানা (৭)। মৃতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে খবর, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ছত্তীসগঢ়ের পরিস্থিতি জটিল। সেখানে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফিরে আসছেন। সুমিতেরা প্রথমে ট্রেনের টিকিট কাটার চেষ্টা করেন। না পেয়ে একটি গাড়ি ভাড়া করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রওনা দেন। গাড়িতে সুমিত ও তাঁর পুত্র ছাড়াও স্ত্রী টিয়া, ভাই সঞ্জিত-সহ দু’জন কারিগর ছিলেন। সড়াইপালি সীমানায় ট্রাকের সঙ্গে গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের। বাকিরাও কমবেশি আহত হন। সুমিতের বাবা মানিকলালের আক্ষেপ, ‘‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাতি ফোন করে বলল, দাদু আমরা রাস্তায়। তোমরা সব ঠিকঠাক তো। কিছুক্ষণ পরই খবর এল,সব শেষ!”

Advertisement

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রের খবর, শনিবার প্রদীপ দাস (৩৮) নামে আরেক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দিন চারেক সেকেন্দ্রাবাদ থেকে বাড়ি ফিরে ‘হোম আইসোলেশনে’ ছিলেন তিনি। তাঁর শ্বাসকষ্ট ছিল। বৃহস্পতিবার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন। কিন্তু রিপোর্ট আসার আগেই মারা গেলেন তিনি।

দাসপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রতিমা দোলই মানছেন, “গত কয়েক দিনে দাসপুরে পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার নিয়ে ১২-১৩ জনের মৃত্যু হল।” দাসপুর-২ এর বিডিও অনির্বাণ সাহু বলেন, “ছত্তীসগঢ় থেকে বাড়ি ফেরার পথে সন্তান-সহ এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে কয়েকজন পরিযায়ী স্বর্ণশিল্পীর মৃত্যুর খবর এসেছে। সবাই এখানকার বাসিন্দা।”

Advertisement