Advertisement
E-Paper

বোমার শব্দে অসুস্থ বিধায়ক হাসপাতালে

বিজেপির অভিযোগ, শুক্রবার ঘাটালের মনসুকায় দলীয় এক সমর্থকের বন্ধ দোকান খুলতে স্থানীয় বাঘানালা গ্রামে গিয়েছিলেন বিধায়ক। সেই সময় তৃণমূলের লোকজন বোমাবাজি করে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২১ ০৬:০৩
দলীয় বিধায়ক শীতল কপাটের সঙ্গে কথা বলছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘাটাল সুপার স্পেশালিটিতে। ছবি: কৌশিক সাঁতরা

দলীয় বিধায়ক শীতল কপাটের সঙ্গে কথা বলছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘাটাল সুপার স্পেশালিটিতে। ছবি: কৌশিক সাঁতরা

বোমাবাজির শব্দে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। শুক্রবার রাতে তাঁকে ঘাটাল সুপার স্পেশালিটিতে ভর্তি করা হয়। শনিবারও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিধায়ক। সেএ দিন তাঁকে দেখতে আসেন বিজেপির রাজ্য নেতা তুষার মুখোপাধ্যায়, ঘাটাল সাংগাঠনিক জেলা সভাপতি তন্ময় দাস-সহ অন্য নেতৃত্ব। বিধায়ক স্থিতিশীল রয়েছেন বলে ঘাটাল হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।।

বিজেপির অভিযোগ, শুক্রবার ঘাটালের মনসুকায় দলীয় এক সমর্থকের বন্ধ দোকান খুলতে স্থানীয় বাঘানালা গ্রামে গিয়েছিলেন বিধায়ক। সেই সময় তৃণমূলের লোকজন বোমাবাজি করে। আহত না হলেও বোমাবাজির শব্দে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিজেপি বিধায়ক। শীতলের অভিযোগ, “আমাকে লক্ষ্য করে বোমাবাজি করা হয়েছিল। বোমা কাছাকাছি পড়েনি। তবে দলীয় কর্মী-সহ আমাকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করেছিল তৃণমূলের বাহিনী। বোমাবাজির শব্দের দাপটেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি।” তৃণমূলের অবশ্য দাবি, শুক্রবার বাঘানালা গ্রামে বোমাবাজি হয়নি। পাশাপাশি কোনও গ্রামে পটকা ফাটতে পারে। তার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই।

অসুস্থ বিধায়ককে দেখতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী শনিবার ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এসেছিলেন। তারপর তিনি যান ঘাটাল থানায়। দু'জায়গাতেই করোনার বিধি-নিষেধ মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। থানা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘ভোটের ফল প্রকাশের পর টানা সন্ত্রাস চলছে। বিজেপি বিধায়ক মনসুকা গিয়েছিলেন। তাকে লক্ষ্য করে বোমাবাজি করা হয়েছে। আতঙ্কে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বিধায়ক। এখনও বহু কর্মী ঘরছাড়া। থানায় সব জানানো হল।’’

বিজেপি সূত্রের খবর, ভোটের ফল প্রকাশের পর ঘাটাল বিধানসভা জুড়ে রাজনৈতিক হিংসায় দলীয় বহু কর্মী ঘরছাড়া ছিলেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেয়েছেন বিধায়ক। চারজন নিরাপত্তা রক্ষী পাওয়ার পরই ঘরছাড়া কর্মীদের ঘরে ফেরাতে উদ্যোগী হন তিনি। শুক্রবার মনসুকার বাঘানালা গ্রামে দলীয় এক সমর্থকের বন্ধ থাকা দোকান খুলতে গিয়েছিলেন। তখনই বিধায়ক ও দলীয় কর্মীদের লক্ষ্য করে পাশাপাশি একাধিক গ্রামে তৃণমূলের লোকজন বোমাবাজি শুরু করে বলে অভিযোগ। বিজেপির ঘাটাল সাংগাঠনিক জেলা সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, “ফল প্রকাশের পর ঘাটাল জুড়ে টানা চাপা সন্ত্রাস চালাচ্ছে তৃণমূল। সেখানে এ বার দলের বিধায়ককেও নিশানা করা হচ্ছে।”

তৃণমূলের পাল্টা দাবি বিধায়কের পুরোটাই মিথ্যা বলছেন। বাঘানালা থেকে সোজা বিধায়ক ঘাটাল থানায় এসেছিলেন। সেখানে ওসির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ তাঁর কথা হয়। তখন তিনি ঠিকই ছিলেন। তৃণমূলের আরও অভিযোগ, শুক্রবার বাঘানালা গ্রামে গিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপি বিধায়ক। করোনার বিধি-নিষেধ ভেঙে বৈঠক করায় বিধায়কের বিরুদ্ধে দলীয় ভাবে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই আতঙ্কেই বিধায়ক হাসপাতালে ভর্তির নাটক করছেন। ঘাটালের তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর দোলইয়ের কথায়, “বিধায়কের সঙ্গে তো চারজন কেন্দ্রীয় নিকাপত্তা রক্ষী রয়েছেন। কই, তাঁরা তো কেউ অসুস্থ হননি? আর বোমাবাজি হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী কী করছিল?’’ জেলা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, “এলাকায় পুলিশি টহল ছিল। একটা অভিযোগ এসেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।”

BJP TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy