গত বছর ছিল মধুবালা, আনারকলি। এ বার ঈদের বাজার মাতাচ্ছে আফগান চুড়িদার।
সামনেই ঈদ। হাতে এক সপ্তাহেরও কম সময়। তাই সিমাই, লাচ্চা কিনতে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক, রাধামনি বাজার, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কাঁথি, ভগবনাপুরের বিভিন্ন ছোট-বড় বাজারে ভিড় হচ্ছে চোখে পড়ার মতো।
বৃষ্টির জেরে মাঝে-মধ্যে কেনাকাটায় ছেদ পড়ছে। তবে বৃষ্টি থামলেই বাজারগুলিতে ফের ভিড় জমছে। সোমবার তমলুক শহরের জুম্মা মসজিদ পাড়া, বাদামতলা, পুরনো পঞ্জাব ব্যাঙ্কের মোড় এলাকায় চোখে পড়ছে কেনাকাটার ভিড়। নজর কাড়ছে হরেক ডিজাইনের ও রঙের আফগান চুড়িদার। ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর ক্রেতাদের নজর কেড়েছিল মধুবালা ও আনারকলি চুড়িদার। এ বার তার জায়গা নিয়েছে আফগান চুড়িদার।
আফগান চুড়িদারের বিশেষত্ব কি?
তমলুক শহরের পুরনো পঞ্জাব ব্যাঙ্কের মোড়ের বস্ত্র ব্যবসায়ী আশরাফ মল্লিক জানান, ‘‘এই চুড়িদারের উপর থাকে একটি জ্যাকেট। ওই জ্যাকেটের উপর নানা জরির কাজ রয়েছে। ফলে অনেক বেশি আকর্ষণীয় লাগে এই চুড়িদার।’’ তিনি বলেন, ‘‘অন্য চুড়িদারের মতো আফগান চুড়িদারের দামও ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা।’’ আসরাফ আরও জানান, এ ছাড়াও গাউন চুড়িদারেরও ভাল চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন রঙের গাউন চুড়িদারের দাম ২-৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।
বাজারে ভালই চাহিদা আফগান চুড়িদারেরও।
তমলুক শহরের পাঁশকুড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি পোশাকের দোকানে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছিলেন গৃহবধূ চায়না বিবি ও তাঁর স্বামী রসিদ হাসান। হাসি মুখে চায়না বলেন, ‘‘গত বছর ঈদের সময় আনারকলি চুড়িদার কিনেছিলাম। এ বার এসে দেখলাম নতুন ডিজাইনের আফগান চুড়িদার এসেছে। এই ধরনের চুড়িদারে একটু নতুনত্ব আছে। তাই এ বার আফগান চুড়িদারই কিনলাম।’’ দোকানদার অজয় দে বলেন, ‘‘গত দু’বছর ধরে বাজারে মধুবালা, আনারকলি চুড়িদারের চাহিদা ছিল বেশি। তবে এ বার আফগান চুড়িদারের চাহিদা ভালই।’’
সোমবার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঈদের কেনাকটা করতে তমলুক শহরে এসেছিলেন নন্দকুমারের বহিচবেড়িয়া গ্রামের গৃহবধূ আসপিয়া বিবি, তমলুকের চনশ্বরপুর গ্রামের নাইয়ারা বেগম, রেহানা বেগম। তাঁদের কথায়, ‘‘ঈদে আমরা নিজেরা নতুন শাড়ি পরলেও মেয়েদের পছন্দ চুড়িদার। দাম একটু বেশি হলেও মেয়েদের পছন্দমতো এ বার আফগান চুড়িদারই কিনেছি।’’ যুবকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ন্যারো জিন্স প্যান্ট আর টি-শার্ট বা ফুলহাতা জামা। অনেকে পাঞ্জাবি-পাজামাও কিনছেন।
শুধু পোশাক নয়, ঈদ উপলক্ষে বাজারে এসেছে লাড্ডু লাচ্চা, পাটনাই সিমাই, পাল্লি সিমাইও। তমলুক জুম্মা মসজিদের কাছে লাচ্চা-সিমাইয়ের দোকান করেছেন শেখ ইউনুস। ইউনুস জানান, ‘‘প্রচলিত লাচ্চার পাশাপাশি এ বার বাজারে এসেছে নতুন ধরনের লাড্ডু লাচ্চা। উত্তরপ্রদেশের লখনউ থেকে সরু সুতোর গোলার আকারে এই লাড্ডু লাচ্চা তৈরি হয়ে আসছে। দাম প্রতি কিলোগ্রাম ১০০ টাকা। বাজারে এই লাচ্চার চাহিদা বেশি।’’
শেখ ইউনুস আরও জানান, লাচ্চার পাশাপাশি বাজারে ভাল চাহিদা পাটনাই সিমাইয়ের। এটি লখনউতে তৈরি অত্যন্ত সরু সিমাই। সাধারণ সিমুইয়ের দাম যেখানে ৪৫ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম। পাটনাই সিমাইয়ের দাম সেখানে ১২০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম। এ ছাড়াও সরু আকারের পাল্লি সিমাইও বাজার মাতাচ্ছে। পাল্লি সিমাইয়ের দাম প্রতি কিলোগ্রাম ৮০ টাকা। এ ছাড়াও বিভিন্ন নামী ব্রান্ডের লাচ্চা, সিমাইয়েরও ভাল চাহিদা।
তমলুকে ঈদের কেনাকাটা করতে এসে নতুন ধরনের লাড্ডু লাচ্চা-সিমাই কিনছিলেন পাঁশকুড়ার শেখ তৈমুর। তিনি বলেন, ‘‘প্রতি বছরই আত্মীয়-বন্ধুদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে দামি লাচ্চা-সিমাই খাইয়ে আপ্যায়ন করি। এ বার নতুন ধরনের এই লাচ্চা কিনেছি।’’
ঈদের বাজার জমে উঠেছে কাঁথিতেও। রবিবার সন্ধ্যায় সিমাই, লাচ্চা, পোশাক কেনার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। শহরের রাজাবাজারের এক দোকানদারের বক্তব্য, গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিতে বাজার তেমন জমেনি। তবে শনিবার থেকে আকাশ পরিষ্কার হতেই ঈদের বাজার জমে উঠেছে। বিক্রিও হচ্ছে ভাল। আগামী দু’তিন দিনে বিক্রি আরও বাড়বে বলেই মনে হয়।
কাঁথি শহরের ধর্মদাসবাড়ের শেখ ওহিদ সপরিবারে ঈদের বাজার করতে বেরিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘ঈদ উপলক্ষে প্রিয়জনদের জন্য কিছু জামাকাপড় কিনেছি। আরও কিছু কেনাকাটা বাকি রয়েছে। সে জন্য আবার এক দিন আসতে হবে।”
ছবি: পার্থপ্রতিম দাস।
(তথ্য সহায়তা: সুব্রত গুহ)