Advertisement
E-Paper

উপপ্রধানের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের নালিশ প্রধানের

কিছুদিন আগেই তৃণমূলের গোষ্ঠী বিবাদে পঞ্চায়েত অফিসে হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগ উঠেছিল। এ বার ওই পঞ্চায়েতেরই উপ-প্রধানের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের অভিযোগ তুললেন প্রধান। ঘটনাটি নারায়ণগড় ব্লকের বেলদা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চায়েত প্রধান সবিতারানি সাউ নারয়ণগড়ের বিডিও ও বেলদা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০১৫ ০১:৩৫

কিছুদিন আগেই তৃণমূলের গোষ্ঠী বিবাদে পঞ্চায়েত অফিসে হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগ উঠেছিল। এ বার ওই পঞ্চায়েতেরই উপ-প্রধানের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের অভিযোগ তুললেন প্রধান। ঘটনাটি নারায়ণগড় ব্লকের বেলদা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চায়েত প্রধান সবিতারানি সাউ নারয়ণগড়ের বিডিও ও বেলদা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, একশো দিনের কাজে শৌচাগার নির্মাণে উপভোক্তাদের থেকে সংগৃহীত প্রায় ১ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন উপপ্রধান মঙ্গল সিংহ। তিনি সেই টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। পাঁচ মাসের বেশি হল তিনি পঞ্চায়েত অফিসেও আসছেন না। যদিও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপপ্রধান মঙ্গলবাবু। বিডিও লীনা মণ্ডল ছুটিতে রয়েছেন। তবে যুগ্ম বিডিও শক্তিপদ সেন বলেন, ‘‘চিঠি এখনও দেখিনি। হাতে পেলে দেখে ব্যবস্থা নেব।’’

স্থানীয় সূত্রে খবর, গত বিধানসভা নির্বাচনে ব্লক তৃণমূল নেতা সূর্য অট্ট প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই আর এক নেতা মিহির চন্দের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে চিড় রয়েছে। ২০১২ সালে মিহিরবাবু তৃণমূলের ব্লক সভাপতি হন। আর ২০১৩-তে পঞ্চায়েত ভোটে জিতে সূর্যবাবু জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ হয়েছেন। এরপর থেকে বারবার প্রকাশ্যে এসেছে সূর্য ও মিহির গোষ্ঠীর কোন্দল। একাধিক বার সংঘর্ষ বেধেছে। কলেজ নির্বাচন নিয়েও কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে।

কয়েকমাস ধরেই বেলদা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০ জন তৃণমূল সদস্যের মধ্যে বিভাজন লক্ষ করা যাচ্ছে। সূর্য ‘ঘনিষ্ঠ’ পঞ্চায়েত প্রধান সীতারানিদেবীর সঙ্গে মিহির অনুগামী উপপ্রধান মঙ্গলবাবুর মধ্যেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। গত ২৩ সেপ্টেম্বর পঞ্চায়েত অফিসেই চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল মিহির চন্দ অনুগামীদের বিরুদ্ধে। জখম হয়েছিলেন সূর্য অনুগামী চারজন। সেই রাতেই আবার স্থানীয় ব্যাঙদা গ্রামে পাল্টা হামলার অভিযোগ ওঠে সূর্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। জখম হন একজন। গ্রেফতার হন দু’জন। টাকা তছরুপের অভিযোগ ঘিরে ফের প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব।

Advertisement

পঞ্চায়েত সূত্রে খবর, ১৪২ জন শৌচাগারের জন্য আবেদন করেছিল। ১২৮ জনের নাম অনুমোদন হয়। ঠিক হয়, উপভোক্তারা ৯০০ টাকা করে দেবেন। আর একশো দিনের প্রকল্পের শ্রমিক ও বাকি টাকা দেবে পঞ্চায়েত। উপভোক্তাদের থেকে টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপপ্রধানকে। প্রধানের অভিযোগ, উপপ্রধান ১৪২ জনের থেকে নগদে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৮০০ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু তা পঞ্চায়েত অফিসে জমা করেনি। প্রধান সবিতাদেবীর কথায়, “এতগুলি টাকা নিয়ে উপপ্রধান পঞ্চায়েত অফিসে পাঁচ মাসের উপর আসছেন না। লোকে আমাকে এসে ধরছে। বাধ্য হয়ে বিডিওকে এবং থানায় জানিয়েছি।” যদিও উপপ্রধান মঙ্গলবাবুর দাবি, “আমি ওই টাকা প্রধানকে দিয়েছি। তার প্রমাণও আমার কাছে আছে।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘‘কয়েকমাস ধরে প্রধানের নেতৃত্বে আমাদের ৫ জন পঞ্চায়েত সদস্যকে হেনস্থা করা হচ্ছে। তাই আমরা পঞ্চায়েতে যেতে পারছি না।”

তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মিহিরবাবুর বক্তব্য, “উপপ্রধান আমাকে জানিয়েছেন তিনি ওই টাকা প্রধানের কাছে জমা দিয়েছেন। মনে হচ্ছে কারও উস্কানিতে প্রধান এমন অভিযোগ করছেন।” প্রধান সবিতাদেবীর অবশ্য দাবি, “আমি টাকা পাইনি। যদি কারও কাছে প্রমাণ থাকে তবে সেটা ভুয়ো।” তৃণমূল নেতা সূর্যবাবু বলেন, “ওই টাকা উপপ্রধান আত্মসাৎ করেছেন। ব্লক সভাপতি ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। মিহিরবাবু পাশে থাকাতেই উপপ্রধান সাহস পাচ্ছেন। আমি চাই প্রশাসনিক তদন্ত হোক।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy