Advertisement
E-Paper

ক্ষীরাইয়ের বাঁধ ভাঙল পাঁশকুড়ায়

বৃষ্টিপাতের কিছুটা কমেছে ঠিকই। কিন্তু তাতেও প্লাবনের আশঙ্কা কমেনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় পাঁশকুড়ার ক্ষীরাই নদীর বাঁধ ভেঙে জল ঢুকতে শুরু করেছে বিভিন্ন গ্রামে। পাঁশকুড়ার বিডিও অরুণাভ পাল জানান, বাঁধের প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে যায়। ফলে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে চৈতন্যপুর-১-এর বেশ কয়েকটি গ্রাম।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০১ অগস্ট ২০১৫ ০১:৩৮
টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন নম্দকুমার ব্লক। ছবি: পার্থপ্রতিম দাস।

টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন নম্দকুমার ব্লক। ছবি: পার্থপ্রতিম দাস।

বৃষ্টিপাতের কিছুটা কমেছে ঠিকই। কিন্তু তাতেও প্লাবনের আশঙ্কা কমেনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় পাঁশকুড়ার ক্ষীরাই নদীর বাঁধ ভেঙে জল ঢুকতে শুরু করেছে বিভিন্ন গ্রামে। পাঁশকুড়ার বিডিও অরুণাভ পাল জানান, বাঁধের প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে যায়। ফলে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে চৈতন্যপুর-১-এর বেশ কয়েকটি গ্রাম।

কংসাবতী ব্যারাজের ছাড়া জলে কাঁসাই ও চণ্ডীয়া জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে চরম বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে। ফলে পাঁশকুড়া ও ময়না এলাকায় নদীবাঁধ ভেঙে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। কোলাঘাটে রূপনারায়ণ নদের বাঁধে একাধিক জায়গায় ধসের জেরে বাঁধের পরিস্থিতি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।

শুক্রবারও সকাল থেকে জেলার তমলুক, হলদিয়া, কাঁথি ও এগরা মহকুমার সর্বত্র দফায় দফায় বৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার রাতে কাঁথি-২ ব্লকের ইটাবেড়িয়া ও জুখিয়া এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাওয়ায় প্রচুর ঘড়বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে কাঁথি-১ ব্লকের সাবাজপুট, নয়াপুট, খেজুরি -১ ব্লকের কামারদা এলাকায় বৃহস্পতিবার প্রবল ঝড়ের জেরে বেশকিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁথির মহকুমাশাসক সরিৎকুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার রাতে ভগবানপুর-২ ব্লকের ইটাবেড়িয়া, জুখিয়া এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৪৫০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও কাঁথি-১ ব্লকের সাবাজপুট ও নয়াপুট, কাঁথি-৩ ব্লকের দেবেন্দ্র গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা, খেজুরি-১ ব্লকের কামরদা, খেজুরি-২ ব্লকের খেজুরি, নিচকসবা এলাকায় ঝড়ে বেশকিছু বাড়ি, গাছপালা ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’’ পটাশপুর-২ ব্লকের মথুরা, পটাশপুর-১ ব্লকের বড়হাট এলাকায় বেশ কয়েকটি গ্রামে ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে ঘরবাড়ি ও বিদ্যুতের খুটি উপড়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পূর্ব মেদিনী পুরের জেলাশাসক অন্তরা আচার্য এদিন ভগবানপুর-২ ব্লকের ইটাবেড়িয়া এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান। তাঁর কথায়, ‘‘ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য শিবির খোলা হয়েছে। জেলায় মোট ১৫ টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে।’’

Advertisement

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃহস্পতিবার জেলার উপকূলবর্তী এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড় বা সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস না হলেও প্রবল বৃষ্টি-সহ দুর্যোগ চলছেই। জেলা প্রশাসনের তরফে সব ব্লক প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এগরা মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে ব্লকের বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সেচ, পূর্ত, বিদ্যুৎ, ত্রাণ দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন মহকুমাশাসক। দিঘা, মন্দারমনি এলাকায় শুক্রবার জলোচ্ছ্বাস না হওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে।

জেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবল বৃষ্টির জেরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মঙ্গলবার ও বুধবার জেলায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮০ মিলিমিটার। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আরও প্রায় ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র তিন দিনেই জেলায় গড়ে মোট প্রায় ২৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অধিকাংশ এলাকায় আমন ও আউশের রোয়া ধানজমি ও বীজতলা জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে। চাষ জমি ছাড়াও জেলার বেশ কিছু এলাকায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি জলে ডুবে গিয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক বাসিন্দা বাড়ি ছেড়ে স্থানীয় স্কুলবাড়িগুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) একটি দল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাঁশকুড়ায় এসেছে। রূপনারায়ণ নদীর কোলাঘাটের কাছে দেনান এলাকায় বৃহস্পতিবার ধসের পর শুক্রবার সকালে সেখান থেকে দু’কিলোমিটার দূরে কোলাঘাট শহরের পীরতলা ও স্কুলমোড়ে বাঁধে ধস নামে । পরিস্থিতি সামাল দিতে সেচ দফতর দ্রুত বাঁধ মেরামতির কাজে নামে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy