একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য তথ্য যাচাই শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। ইতিমধ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে যাঁদের সুপারিশ পত্র দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৫৫ জনকে আগামী ১৬ ও ১৭ এপ্রিল ডাকা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ওই দু’দিন বেলা ১২টায় বিধাননগরে ডিরোজিও ভবনে উপস্থিত থাকতে হবে শিক্ষক পদপ্রার্থীদের। পর্ষদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই সংক্রান্ত দু’টি পৃথক বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ দিন পর খানিক স্বস্তির শ্বাস নিচ্ছেন তাঁরা।
কিন্তু যাঁরা ২০১৬-এ নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছিলেন, কিন্তু এ বার পারলেন না— তাঁদের জন্য মন খারাপ চাকরি পাওয়া প্রার্থীদেরও। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে গেল।
স্কুল সার্ভিস কমিশন সূত্রের খবর, গত মার্চ থেকে দফায় দফায় কাউন্সেলিং শুরু চলছে। ধাপে ধাপে সেই তালিকা পৌঁছচ্ছে পর্ষদের কাছে। তার ভিত্তিতেই আপাতত ১৫৫ জনকে ডেকে নেওয়া হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে একটি পুলিশি যাচাইকরণের ফর্ম প্রার্থীদের পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল সার্ভিসের সুপারিশ পত্র, সচিত্র পরিচয়পত্র, নিজের ছবি-সহ একাধিক তথ্য চাওয়া হয়েছে।
গত বছর এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ এসএসসি প্যানেল বাতিল হয়ে যায়। প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি যায়। যোগ্য-অযোগ্য মিলিয়ে নবম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজারের বেশি শিক্ষকের চাকরি চলে যায়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফের পরীক্ষা নেয় এসএসসি। ফলপ্রকাশ হয় নভেম্বরে। এরপরে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার শেষে স্কুল সার্ভিস কমিশনে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু হয়। তার ভিত্তিতেই এই তথ্য যাচাই চলছে।
যাঁরা অধিকারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই চাকরি পাচ্ছেন। পাচ্ছেন না অনেকে। কাজে যোগ দেওয়া নিয়েও সংশয় রয়েছে গিয়েছে এখনও। যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের তরফ থেকে ধীতীশ মণ্ডল বলেন, ‘‘ইতিমধ্যে যাঁরা তথ্য যাচাইয়ের জন্য বা কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডাক পেয়েছেন তাঁরা আদৌ সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজে যোগ দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে ২০১৬-য় নিজের যোগ্যতায় যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই এ বার আর ডাক পেলেন না। তাঁরা একটি অসম প্রতিযোগিতায় হেরে গেলেন। এ লজ্জা আমাদের সকলের। পাশাপাশি আমরা চিন্তিত ওঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।”