সকলের প্রিয় শুভ নেই। পাড়ার দুর্গা প্রতিমার বিসর্জনও তাই হল সাদামাটা ভাবে। ছিল না কোনও জৌলুস নেই। অথচ, এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। গেল বারও তো হয়নি।
শহর মেদিনীপুরে দুর্গা প্রতিমার বিসর্জন মানেই হইহুল্লোড়, সাউন্ড বক্স, আলোর গেট, ঢাকির দল নিয়ে মস্ত শোভাযাত্রা। শুধু প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে পাড়ায় পাড়ায় যে খুশির আমেজ তৈরি হয়, তা দশমীর বিষাদ ছাপিয়ে যায়। কিন্তু একটা অকাল মৃত্যুতে সব বদলে গেল। তার জেরেই ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুজোগুলির প্রতিমা বিসর্জন হল নমো নমো করে।
এই ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর ছিলেন কৌস্তভ বন্দ্যোপাধ্যায় (ডাক নাম শুভ)। গত শুক্রবার মানিকপাড়ায় হাতির পালের ছবি তুলতে গিয়েছিলেন কৌস্তভ। দাঁতালের আক্রমণেই মৃত্যু হয় তার। আকস্মিক এই ঘটনায় উৎসবের ছন্দপতন হয়। কৌস্তভের ওয়ার্ডে পাঁচটি সর্বজনীন দুর্গাপুজো হয়। রবিবার সব পুজো কমিটিই বিসর্জন-পর্ব সেরেছে একেবারে সাদামাটা ভাবে। শুধু মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে গিয়ে কংসাবতীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেরোয়নি কোনও শোভাযাত্রা। নতুনবাজার সর্বজনীনের অন্যতম উদ্যোক্তা নির্মলেশ্বর দত্ত বলেন, “নবমীর দিন পাড়ায় খাওয়াদাওয়া ছিল। কৌস্তভ সব কিছুর তদারকি করেছে। সেই কৌস্তভ নেই, ভাবতেই পারছি না।” নির্মলেশ্বরবাবু আরও জানালেন, পুজোর পরেও কিছু অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। তাও বাতিল করা হয়েছে। আর এক পুজোর উদ্যোক্তা সন্দীপ ঘোষের কথায়, “দশমীর দুপুরে ওর এখানে আসার কথা ছিল। ফোনে বলেছিল, ‘একটু পরেই যাচ্ছি।’ বড্ড তাড়াতাড়ি ও আমাদের ছেড়ে চলে গেল।”
যুব সম্প্রীতি ক্লাবের উদ্যোগে এলাকায় সর্বজনীন দুর্গোত্সব হয়। পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা প্রসেনজিত্ মাইতি বলছেন, “বিসর্জনের জন্য অনেক কিছুই বায়না করা হয়েছিল। সব বাতিল করা হয়েছে। বিসর্জনের শোভাযাত্রা হোক, এটা কেউই চাননি। সকলেরই মন খারাপ।” বিদ্যাসাগরপল্লি অ্যাথলেটিক ক্লাবের নিজস্ব ঠাকুর দালান রয়েছে। সোমবার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা গেল, দুই বন্ধু সুমন দেব ও সৌপ্তিক বসু বসে রয়েছে। দু’জনই দশম শ্রেণির ছাত্র। রবিবার এখানকার প্রতিমাও বিসর্জন হয়েছে সাদামাটা ভাবে। সুমন বলছিল, “শুভদা নেই। শোভাযাত্রা হবে কী করে।”
নিজের পাড়ায় কৌস্তভ নেই। আবার আছেনও। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোড়ে মোড়ে, সে বিদ্যাসাগরপল্লি হোক, নতুনবাজার, পাথরঘাটা বা অন্য কোথাও, সর্বত্র কৌস্তভের ছবি-সহ ব্যানার। শোকপ্রকাশ করে যে ব্যানারে লেখা, ‘মেদিনীপুর পুরসভার জনপ্রিয় তরুণ কাউন্সিলর ও যুব নেতা কৌস্তভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (শুভ) অকাল প্রয়াণে আমরা গভীর ভাবে শোকাহত এবং মর্মাহত।’
সৌমেশ্বর মণ্ডলের তোলা ছবি।