Advertisement
E-Paper

কম বাজেটেও টেক্কা দিতে প্রস্তুত ছোট পুজো

বাজেট কম তো কী হয়েছে, নিত্যনতুন থিমের জাদুতে টেক্কা দিচ্ছে শহরের ছোট পুজোগুলি। বাজেট অল্প হওয়ায় স্থানীয় ডেকরেটর নয়, আর্ট কলেজের পড়ুয়া এমনকী গ্রাম বাংলার শিল্পীদেরও মণ্ডপ সাজানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাবুই পাখি, প্রজাপতি, শিবের রুদ্ররূপ থেকে শান্তরূপে প্রত্যাবর্তন- এমনই নানা অভিনব চিন্তা দর্শকদের ভাল লাগবে, আশায় পুজো উদ্যোক্তারা।

দেবমাল্য বাগচী

শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৫ ০২:২৩
সেজে উঠছে প্রজাপতির আদলে খড়্গপুরের প্রান্তিক ক্লাবের পুজো মণ্ডপ। —নিজস্ব চিত্র।

সেজে উঠছে প্রজাপতির আদলে খড়্গপুরের প্রান্তিক ক্লাবের পুজো মণ্ডপ। —নিজস্ব চিত্র।

বাজেট কম তো কী হয়েছে, নিত্যনতুন থিমের জাদুতে টেক্কা দিচ্ছে শহরের ছোট পুজোগুলি। বাজেট অল্প হওয়ায় স্থানীয় ডেকরেটর নয়, আর্ট কলেজের পড়ুয়া এমনকী গ্রাম বাংলার শিল্পীদেরও মণ্ডপ সাজানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাবুই পাখি, প্রজাপতি, শিবের রুদ্ররূপ থেকে শান্তরূপে প্রত্যাবর্তন- এমনই নানা অভিনব চিন্তা দর্শকদের ভাল লাগবে, আশায় পুজো উদ্যোক্তারা।

খড়গপুরে ছোটবড় মিলিয়ে মোট ১০৩টি দুর্গাপুজো হয়। এগুলির অধিকাংশই ছোট বাজেটের। শহরের পুজোর মূল আকর্ষণ বলতে প্রেমবাজার, মথুরাকাটি, অভিযাত্রী, সেবাসমিতির মতো বড় পুজোগুলি। তবে এ বার বড় পুজোগুলিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে শহরের বেশ কয়েকটি স্বল্প বাজেটের পুজোও। তার প্রস্তুতিও চলছে জোর কদমে। মালঞ্চর বালাজি মন্দির পল্লি উন্নয়ন সমিতির দুর্গাপুজোর মণ্ডপ তৈরি করছেন বেলদার শিল্পী সুনীল বেরা। পুজোর বাজেট ৬ লক্ষ টাকা। বিশ্বশান্তির বার্তা দিতেই কাল্পনিক বৌদ্ধ মঠের আদলে গড়ে উঠছে মণ্ডপ। মণ্ডপের সাদা রঙের ওপরে গাছের পাতা দিয়ে সবুজের সমাহারে বোঝানো হবে পরিবেশরক্ষার কথা। আর মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই প্রতিমারও রং হবে সবুজ। পুজো কমিটির সম্পাদক সমীর গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, “গত বছর আমরা পুলিশের দেওয়া মাঝারি বাজেটের সেরা পুজো বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছিলাম। তাই এ বারও দর্শক টানতে অল্প বাজেটেই অন্যরকম কিছু করার কথা ভেবেছি।’’

মালঞ্চর বিবেকানন্দপল্লির পুজোর এ বার ৪৬তম বর্ষ। থিম রুদ্ররূপী শিবের শান্তরূপে প্রত্যাবর্তন। থিম রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছেন ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজের দুই প্রাক্তনী কলকাতার দুই বাসিন্দা সৃষ্টা গঙ্গোপাধ্যায় ও সোমেন দাসের উপর। শিবের রক্তচক্ষু দিয়েই মণ্ডপে প্রবেশ করতে হবে। মণ্ডপের ভিতরে দেখা যাবে, পৃথিবী শান্ত হচ্ছে ও তার উপরে রুদ্ররূপী শিবমূর্তি। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আর্তনাদরত মানুষ, শিবের ডুগডুগি, গাঁজার কলকে। সৃষ্টা ও সোমেনের কথায়, “অল্প বাজেটের মধ্যেও নিজেদের ভাবনা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। আশা করি, দর্শকদের খুব ভাল লাগবে।”

বাবুই পাখির বাসা বানিয়ে তাক লাগাতে চায় শহরের আদি পুজো কমিটি। আকাদেমি অফ ফাইন আর্টসের প্রাক্তনী ঝাড়গ্রামের শিল্পী তপন মাহালির কথায়, ‘‘পরিবেশ থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসা বাবুই পাখি রক্ষার বার্তা দিতেই এই ভাবনা।’’ চট, খসখস, প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে গড়ে উঠছে ৪৭ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট মণ্ডপ। মণ্ডপ চত্বরে থাকছে জলাধার।’’ পুজোর কর্মকর্তা গৌরব মুখোপাধ্যায়ের কথায়, “ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি। পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ।’’

ইন্দার প্রান্তিক ক্লাব সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির এ বারের থিম প্রজাপতি। প্লাই, ফাইবার, থার্মোকল দিয়ে তৈরি হচ্ছে ৩৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট প্রজাপতির আদলে মণ্ডপ। মণ্ডপে থাকবে ব্যাঙের ছাতা, ছোট প্রজাপতি, ফড়িং। রাতে এলইডি আলোয় ফুটে উঠবে প্রজাপতির আসল রূপ। মণ্ডপের পরিকল্পনা করেছেন খড়্গপুরের শিল্পী মীর নওসাজ। পুজোর সভাপতি রাজা রায় বলেন, “শহরে বড় বাজেটের অনেক ভাল পুজো হয়। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই একই ঘরানার স্থাপত্য মণ্ডপ তুলে ধরা হয়। কম বাজেটে এত সব করা যায় না।’’ তাঁর কথায়, ‘‘স্বল্প বাজেটের মধ্যেও মণ্ডপে অভিনবত্ব আনার চেষ্টা করছি। আশা করছি, দর্শকদের ভাল লাগবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy