পাবদা ৭০০, চিংড়ি ৮০০, ইলিশ ১২০০। দোকানি দাম হাঁকছে নাকি নিলাম ডাকছে, বোঝাই দায় গেরস্তের। ভাইফোঁটায় শাকসব্জি থেকে শুরু করে ফল, মিষ্টি, মাছ-মাংসের দাম শুনেই চমকে যাচ্ছে পিলে। ভাইদের পাতে হরেক ব্যঞ্জন ও সুস্বাদু আমিষ পদের আয়োজন করতে গিয়ে কাঁচুমাচু মুখ বোনেদেরও। বচ্ছরকার দিনে চড়াদামে ‘মাছ, মিষ্টি অ্যান্ড মোর’ কিনতে বাঙালির ব্যাঙ্ক ব্যালান্সের দশা ডেঙ্গিরোগীর প্লেটেলেটের মতো। দ্রুত নামছে নিচের দিকে।
তবুও এই বিশেষ দিনটির জন্য বাজেটে কাটছাঁট করে সাধ্যমতো আয়োজন করতেই হচ্ছে। এক সময় ভাইফোঁটার দুপুরে ভাইয়ের পাতে ভেটকির পাতুরি, গলদা চিংড়ির মালাইকারি, চিতল মাছের মুইঠ্যা কিংবা পাবদার মাখো মাখো সর্ষেঝাল দিয়ে আহ্লাদে আটখানা হতেন বোনেরা। কিন্তু এখন ইচ্ছে থাকলেও উপায় তো নেই!
শিলিগুড়ি: ভাইফোঁটার তিন দিন আগে থেকেই মাছ ও শাকসব্জির দাম চড়ে গিয়েছে। কয়েকদিন আগে যে ইলিশ মাছ ৭০০-৮০০ টাকা কেজি দরে মিলেছিল, সেই মাছই বিধানমার্কেটে এদিন কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দর বেড়েছে চিতলের পেটিরও। মুড়ো ও ল্যাজ বাদ দিয়ে এক একটি চিতল পেটি বিক্রি হয়েছে হাজার টাকায়! শিলিগুড়ির এক পাইকারি মাছ বিক্রেতা প্রদীপ দত্ত বলেন, “যে কোনও উত্সবের সময়েই মাছের চাহিদা বাড়ে। জোগান তো আর বাড়ে না। সে কারণে দর চড়ে যায়। আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।” পাল্লা দিয়ে দাম বেড়েছে সব্জিরও। সব্জি বা মাছ বিক্রেতারা সকলেই পাইকারি বাজারকেই দায়ী করেছেন। বিধান মার্কেটের সব্জি বিক্রেতা প্রহ্লাদ বর্মন বলেন, ‘‘গত কাল থেকেই পাইকারি বাজার চড়তে শুরু করেছিল। জোগানও কম ছিল। সে কারণে দর বেড়েছে।’’
দুর্গাপুর: একই ছবি দক্ষিণবঙ্গে। ভাইফোঁটার আগের দিনে দুর্গাপুরের বাজারগুলিতে পাবদা ও চিংড়ির দাম বেশ চড়া। সত্তর থেকে একশো গ্রাম ওজনের পাবদার কেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। গলদা চিংড়ির দাম চলছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। তুলনায় কিছুটা ছোট মাপের গলদা মিলছে ৭০০ টাকা কেজি দরে। বাগদার কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে। বেনাচিতি বাজারের মাছ ব্যবসায়ী কালীপদ ধীবর বলেন, “ভাইফোঁটার দিনে এই সব মাছের দাম আরও বাড়তে পারে। অনেক ক্রেতা তাই আগে থেকে মাছ কিনে নিচ্ছেন।”
সিউড়ি: বীরভূমের সাঁইথিয়া বাজারে এদিন ভেটকি ও পাবদার যোগান ছিল না। তবে সিউড়ির বাজারে ৬০০ টাকা কেজি দরে এক কিলো ওজনের ভেটকির দেখা মিলেছে।
বাঁকুড়া: শহরের বাজারে ছোট সাইজের গলদা চিংড়ির দর ছিল কেজি প্রতি ৮০০ টাকা। ভেটকি ৫০০ ও পাবদা কিলো প্রতি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বাঁকুড়ার মাচানতলার মাছ ব্যবসায়ী বাসুদেব ধীবর ও ঝাড়গ্রামের জুবিলি বাজারের মাছ ব্যবসায়ী চিত্তরঞ্জন রাউতের কথায়, “সারা বছরই পাবদা, গলদা ও ভেটকির দর চড়া থাকে। উত্সব-পার্বণে দাম আরও বাড়ে।”
হলদিয়া: ভাইফোঁটার আগের দিন বৃহস্পতিবার থেকে হলদিয়ায় ভেটকি, পাবদা, চিংড়ি-সহ সব মাছেরই দাম এক লাফে অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। একদিন আগে ছোট বাগদা চিংড়ি বিক্রি হয়েছিল ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে। এ দিন সেই চিংড়িই ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ দিন ভেটকি ও পাবদার দর ছিল ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। একশো গ্রাম বেশি ওজনের গলদার দর ছিল ৮০০ টাকা কেজি।
ঝাড়গ্রাম: জুবিলি বাজারে এ দিন গলদা চিংড়ি বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা কিলো দরে। ছ’শো গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৮০০-৯০০ টাকা কেজি দরে। পাবদার দর ছিল ৬০০ টাকা।
খড়্গপুর: খড়্গপুর বাজারে এ দিন ভেটকি ৫০০, বাগদা ৪০০ ও মাঝারি মাপের পাবদা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিকিয়েছে। খড়্গপুরের মালঞ্চ এলাকার বধূ পাপিয়া সেন বলেন, “দাদা ও মামাতো ভাইদের ফোঁটা দিই। মাছের বাজারের দরদামের অবস্থা দেখে আগেভাগে এ দিন ৫০০ গ্রাম ভেটকি আর তিনশো গ্রাম চিংড়ি কিনেছি। অন্য দিনের তুলনায় দামটা কিন্তু বেশি মনে হল।”