দুপুর থেকেই শুরু হয়েছিল বৃষ্টি। ইচ্ছা থাকলেও মাঠে আসা হয়নি অনেকের। তাতে কি! নিজেদের সেরাটি তুলে ধরতে কুণ্ঠাবোধ করেননি ফুটবলাররা। ছোট ছোট পাস কিংবা লম্বা শট— বৃষ্টি ভেজা মাঠে খেলার মজা যেন তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছিলেন প্রত্যেকে।
শুক্রবার বিকেলে মেদিনীপুর শহরের অরবিন্দ স্টেডিয়ামে জেলা মহিলা ফুটবল লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল হয়েছিল ঢ্যাঙাশোল শ্রীদাম একাদশ ও শালবনি জাগরণ ফুটবল কোচিং একাডেমি। ৪-১ গোলে লিগ জিতে নেয় ঢ্যাঙাশোল শ্রীদাম একাদশ। বৃষ্টির জন্য খেলা অবশ্য ১০ মিনিট কমিয়ে ৪০ মিনিটের করে দেওয়া হয়।
শুরু থেকেই বলের দখল রেখেছিল চ্যাম্পিয়ন দল। খেলা শুরুর ছ’মিনিটের মাথায় প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন শ্রীদাম একাদশের গীতা দাস। ফের ৯ মিনিটে তিনি আরও একটি গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর ৭ মিনিটে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় রাজশ্রী হাঁসদা গোল শোধ করেন। কিন্তু ১৩ মিনিটের মাথায় ফের একটি গোল করে বসেন ঢ্যাঙ্গাশোল শ্রীদাম একাদশের সঙ্গীতা বাসফোরে। ১৭ মিনিটে সর্বশেষ গোলটি করে নিজের হ্যাট্রিক সম্পন্ন করে গীতা। খেলা শেষে তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হয় সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। গোটা লিগে ‘ফেয়ার প্লেয়ার’ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় সুপ্রিয়া চালকের হাতে। ১০ বছরের সুপ্রিয়া জামবেড়িয়া সবুজ সঙ্ঘের হয়ে খেলেছিল লিগে।
দু’দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আইএফএ-র মহিলা ফুটবল সাব কমিটির চেয়ারপার্সন দুর্গা রায়। উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক বিনয় দাস মাল। খেলা দেখে আশাবাদী দুর্গাদেবী। তিনি বলেন, ‘‘মেদিনীপুরে এসে মেয়েদের খেলা দেখা ভাল লাগল। এখানে বহু প্রতিভাবান মহিলা ফুটবলার রয়েছে। ভাল প্রশিক্ষণ পেলে এরাও অনেক দূর এগোতে পারবে। মহিলা ফুটবলের প্রসারে জেলাকে আমরা সব রকম সহযোগিতা করব।’’
তখনও চলছে মহিলা ফুটবল লিগের ফাইনাল। শুক্রবার অরবিন্দ স্টেডিয়ামে।
দুর্গাদেবী জানিয়েছেন ফাইনালে পাঁচ জন মেয়ের খেলা তাঁর খুবই ভাল লেগেছে। তা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজনকে কলকাতায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর নয়, রাজ্যের সব জেলাতেই ভাল মহিলা ফুটবল দল তৈরি করতে বলা হয়েছে। স্কুল গুলিতেও মেয়েদের ফুটবল টিম করতে বলা হয়েছে। বিনয়বাবু বলেন, ‘‘জেলায় মহিলা ফুটবলের প্রসারে আমরাও সবরকম চেষ্টা করছি। প্রয়োজনীয় সব পরিকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে।’’
৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছিল মহিলা ফুটবল লিগ। মেদিনীপুর সদর মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে মোট ১২ টি দল নিয়ে শুরু হয়েছিল খেলা। গ্রামেগঞ্জে মেয়েদের মধ্যে ফুটবল খেলায় আগ্রহ বেড়ছে বলেই এই লিগ চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থা। এ দিন খেলা শুরুর আগে দু’দলের ফুটবলারদের গোলাপ দিয়ে অর্ভ্যথনা জানান ক্রীড়া কর্তারা। সদর মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জিত তোরই এবং সন্দীপ সিংহ বলেন, এবার ১২ টি দল খেলল, পরের বার যাতে আরও বেশি দল খেলতে পারে তার জন্য সব রকম চেষ্টা করা হবে।
— নিজস্ব চিত্র।