নিজের জেলায় প্রচারেও মুর্শিদাবাদ প্রসঙ্গ টেনে আনলেন তৃণমূল সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী। সরাসরি কটাক্ষ করলেন অধীর চৌধুরীকেও। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই শুক্রবার মেচেদায় জেলার তিনটি ব্লক নিয়ে উন্নয়নী সভা করেন শুভেন্দুবাবু। এ দিন শান্তিপুর নবীন সঙ্ঘ ফুটবল ময়দানে শহিদ মাতঙ্গিনী, কোলাঘাট ও পাঁশকুড়া ব্লকের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জমায়েত হয়েছিল। সভামঞ্চ থেকে সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘মানুষের আশীর্বাদে তৃণমূল এই জেলায় শক্তিশালী হয়েছে। শিশির অধিকারীর নেতৃত্বে পূর্ব মেদিনীপুরে দল সুংগঠিত। কোনও শক্তি এখানে তাকে ভাঙতে পারবে না।’’ আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দুবাবু এখন বেশে ভাবছেন মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর নিয়ে। সম্প্রতি তিনি একাধিকবার মুর্শিদাবাদে সভা করেছেন।
গত সপ্তাহেই মেদিনীপুর পুরসভার এক কাউন্সিলরের স্মরণ সভায় যোগ দিতে এসেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। সেখানেই পিংলার সাসংদ মানস ভুঁইয়া জানিয়েছিলেন, ভোটের চ্যালেঞ্জে অধীরবাবু পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে একাধিক সভা করতে চান। জন্য উপযুক্ত সময় ও স্থান নির্বাচন করবে কংগ্রেস। এ দিনের সভা থেকে শুভেন্দুবাবু সেই মন্তব্যকেও কটাক্ষ করেন। অধীর চৌধুরীর উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, ‘‘কংগ্রেসের নেতারা বলেছেন শুভেন্দুবাবু যেহেতু মুর্শিদাবাদ জেলায় যাচ্ছেন তাই অধীরবাবু নাকি এখানে পাঁচটি সভা করবেন। কংগ্রেসের নেতাদের বলব পাঁচটা কেন পাঁচশোটা সভা করো। পূর্ব মেদিনীপুরে একটি বুথেও জিততে পারবে না। কারণ তোমরা মানুষের পাশে ছিলে না। আজও নেই।’’ পাশাপাশি অধীর চৌধুরীর কড়া সমালোচনাও করেন শুভেন্দুবাবু। তিনি বলেন, ‘‘নন্দীগ্রাম জমিহারা পরিবারগুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ৬০০ জন চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু উনি রেলের রাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পরে নন্দীগ্রামের রেল প্রকল্প বন্ধ হয়েছে।’’ এ দিনের সভায় কোলাঘাট থেকে নির্বাচিত সিপিএম জেলা পরিষদ সদস্য সঞ্জয় মাইতি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেন। আগামী ১৭ ডিসেম্বর তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রতিষ্ঠা দিবস স্মরণে হলদিয়ায় এক লক্ষ মানুষের সমাবেশ করার কথা ঘোষণাও করেন শুভেন্দুবাবু।