অবস্থান মঞ্চে গিয়ে বিডিও আলোচনায় বসলেও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকল মলিহাটির গ্রামবাসীরা। তাই মঙ্গলবারও ডেবরার মলিহাটি পঞ্চায়েত অফিস বন্ধ করেই অবস্থান চলল। আন্দোলনকারীদের দাবি, জল নিকাশি সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান চলবে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে দীর্ঘক্ষণ বিডিও জয়ন্ত দাস আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বৈঠকে বিডিও আন্দোলনকারীদের অবস্থান তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিন দিনের মধ্যে নিকাশির জন্য হিউম পাইপের (চোঙ) মুখ খুলে সমস্যার সমাধান করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তবে আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দেয়, সমস্যার সমাধানের হলে তবেই অবস্থান তোলা হবে। ১৩ অগস্ট থেকে মলিহাটি পঞ্চায়েত অফিস বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ওই পঞ্চায়েতের চকতাতার, মধুবনপুর, নরহরিপুর-সহ ১৭টি গ্রামের বাসিন্দারা। এর জেরে টানা ছ’দিন ধরে পঞ্চায়েত অফিস বন্ধ রয়েছে। ফলে পঞ্চায়েত অফিসে কাজে এসে অনেকে ফিরে যাচ্ছেন।
গ্রামবাসীদের দাবি, বর্ষায় গোলগ্রাম অঞ্চলের পশ্চিম দিকে বড়গেড়িয়া, কাঁটাগেড়িয়া, কুল্যা গ্রামের দিক থেকে মলিহাটি অঞ্চলে জল ঢুকছে। নিয়ম অনুযায়ী, ওই মলিহাটি অঞ্চলের ওপর দিক দিয়ে নিচুর দিকে জল বয়ে ফের গোলগ্রাম অঞ্চলের পূর্ব দিকে চকপলমল, চকপ্রয়াগ, খাজুরি হয়ে ভসরার খালে গিয়ে পড়ে। অভিযোগ, গোলগ্রাম অঞ্চলের পূর্বদিকের ওই গ্রামগুলি হিউম পাইপের মুখ বন্ধ রাখায় মলিহাটি অঞ্চলেই জল আটকে যাচ্ছে। মলিহাটির বাসিন্দা শক্তি ঘোষ, জহর বারিক, সুশীলকুমার পাত্ররা দাবি করেন, হিউম পাইপের মুখ আগে খুলতে হবে, তার পরে তাঁরা অবস্থান তুলে নেবেন। বিডিও জয়ন্ত দাস বলেন, “আমি আলোচনা করে অবস্থান তুলে পঞ্চায়েত অফিস খুলতে গিয়েছিলাম। প্রশাসনিকভাবে তিন দিনের মধ্যে ওই হিউম পাইপের মুখ খোলা হবে বলে আশ্বাসও দিই। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তা মানতে চাননি।” বুধবার বিডিও অফিসে গোলগ্রাম ও মলিহাটির অধিবাসীদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে।