মাস খানেক আগের ঘটনা। নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে রোমাঞ্চের হাতছানিতে সাড়া দিয়ে মন্দারমণিতে প্যারাসেলিং করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল এক পর্যটকের। আবার সেই একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এ বার বারণ না শুনে উত্তাল সমুদ্রে স্নান করতে গিয়ে প্রাণের দাম দিলেন পর্যটক।
বুধবার সকালে মন্দারমণির সৈকতে সমুদ্রস্নান করতে নেমে তলিয়ে যান আশিস দে (২৩) নামে এক যুবক। কিছুক্ষণ পরেই তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গিয়েছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা আশিস কলকাতার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ওই সংস্থার তরফেই মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল মন্দারমণির এক হোটেলে। সংস্থার ১১০ জন কর্মীর সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বুধবার সকালেই হোটেল ছাড়ার কথা ছিল। তার আগে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বেশ কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে সমুদ্রে নেমেছিলেন আশিস। খারাপ আবহাওয়ায় সমুদ্র সে সময় উত্তাল ছিল, সেই সঙ্গে ছিল প্রবল ভাঁটার টান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ আসা ঢেউয়ে টাল সামলাতে না-পেরে ভেসে যান আশিস।
বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁর দেহ ভেসে আসে পাড়ের দিকে। আশিসের সহকর্মীরাই তা উদ্ধার করে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসকরা আশিসকে মৃত ঘোষণা করেন। এ দিকে যে হোটেলে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা উঠেছিলেন তার মালিক বলেন, ‘‘এত বৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্রের অবস্থা ভাল নয়। এমন অবস্থায় সমুদ্রে স্নান করতে বারবার নিষেধ করেছিলাম আমরা।’’ কিন্তু মন্দারমণি ছাড়ার আগে স্নান করবেনই বলে বদ্ধপরিকর ছিলেন জনা দশেক যুবক। নিষেধ উড়িয়েই তাঁরা জলে নামেন। রামনগর থানার পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে মৃতদেহ। কাঁথি থানায় একটি অস্ববাভিক মৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগেও মন্দারমণির সৈকতে নিষেধা়জ্ঞা না মেনে প্যারাসেলিংয়ের সময় প্যারাশ্যুট হাওয়ার তোড়ে বাতিস্তম্ভে আটকে মৃত্যু হয়েছিল তরুণ ঘোষ (৩৬) নামে এক পর্যটকের। আর এ বার সেই রোমা়ঞ্চের হাতছানিই ফের মৃত্যু ডেকে আনল আনল আর এক পর্যটকের জীবনে।