Advertisement
E-Paper

হাল ফেরাবে ঘরের ছেলে দিলীপ, আশা

রাজ্য সভাপতি পদে ভূমিপুত্রের অভিষেককে ঘিরে উচ্ছ্বসিত জঙ্গলমহলের গেরুয়া শিবির! হওয়ারই কথা। শুক্রবারই বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি পদ থেকে রাহুল সিংহকে সরিয়ে নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে দিলীপ ঘোষের নাম ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৫ ০০:৪০

রাজ্য সভাপতি পদে ভূমিপুত্রের অভিষেককে ঘিরে উচ্ছ্বসিত জঙ্গলমহলের গেরুয়া শিবির! হওয়ারই কথা। শুক্রবারই বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি পদ থেকে রাহুল সিংহকে সরিয়ে নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে দিলীপ ঘোষের নাম ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাহুল বিরোধী গোষ্ঠীর নেতারা তাহলে কী এবার ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে চলেছেন? জঙ্গলমহলের গেরুয়া রাজনীতিতে জল্পনা শুরু।

আরএসএস-এর প্রচারক দিলীপবাবুর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলিয়াবেড়া ব্লকের কুলিয়ানা গ্রামে। সংগঠনের কাজে বেশিরভাগ সময়টা বাইরে কাটালেও বছরে কয়েকবার নিয়ম করে কুলিয়ানা গ্রামের বাড়িতে পরিজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এমনকী এলাকার ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। দিলীপবাবুর সঙ্গে জঙ্গলমহলের সঙ্ঘ পরিবারভুক্ত নেতা-কর্মীদের যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। জঙ্গলমহলে বিজেপির গোষ্ঠী রাজনীতির সমীকরণে কিছুদিন আগে পর্যন্ত সঙ্ঘ পরিবারের প্রাধান্য ছিল। বছর দু’য়েক আগে বিজেপি’র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটিকে ভেঙে দিয়ে পৃথক ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলা কমিটি গঠন করা হয়। ঝাড়গ্রাম জেলার সভাপতি হন রাহুল গোষ্ঠীর পঞ্চানন হাঁসদা। কিন্তু পঞ্চাননবাবুর নেতৃত্ব মানতে অস্বীকার করে সঙ্ঘ পরিবার ঘনিষ্ঠ নেতারাই কার্যত জঙ্গলমহলে দলের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন। ফলে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তুমুল সংঘাত শুরু। গত দু’বছরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রভাব পড়ছে সাংগঠনিক কাজকর্মেও। দলীয় বৈঠকে রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। গোপীবল্লভপুর, বেলিয়াবেড়া ও নয়াগ্রাম ব্লকের কয়েকটি অঞ্চল ছাড়া বাদবাকি এলাকায় দলীয় সংগঠন কার্যত তলানিতে ঠেকেছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঝাড়গ্রাম জেলা কমিটির দুই গোষ্ঠীর নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি-র দলীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। কিন্তু গত অক্টোবরে ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পঞ্চাননবাবুকে সরিয়ে দিয়ে ফের রাহুল গোষ্ঠীরই শুভাশিস পালকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেন রাজ্য নেতৃত্ব। শুভাশিসবাবু অবশ্য সঙ্ঘ পরিবারভুক্ত নন। শুভাশিসবাবু জেলা সভাপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার পরে বার কয়েক জেলা কমিটির বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে সিংহভাগ সদস্য হাজির হননি। বিজেপি সূত্রের খবর, সঙ্ঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ বিজেপি-র ঝাড়গ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক অবনী ঘোষ, সহ-সভাপতি সুশীল ঘোষ, সুকেশ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম শহর সভাপতি সুখময় শতপথীর মতো নেতারা রাজ্য নেতৃত্বকে সাফ জানিয়ে দেন, তাঁরা শুভাশিসবাবুর নেতৃত্ব মানতে রাজি নন। ফলে, দিলীপবাবু রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরে এখন শুভাশিসবাবুর প্রস্থান সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে। শুভাশিসবাবু বলেন, “আমাদের জেলার একজন নেতা রাজ্য সভাপতি হয়েছেন। এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। দিলীপদার নির্দেশমত কাজ করব।”

Advertisement

শুভাশিসবাবুর বিপক্ষ গোষ্ঠীর সঙ্ঘ পরিবার ঘনিষ্ঠ বিজেপি-র ঝাড়গ্রাম জেলা সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ, জেলা সাধারণ সম্পাদক অবনী ঘোষ-রা বলছেন, “দিলীপদা রাজ্য সভাপতি হওয়ায় ব্লকে-ব্লকে কর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইয়ে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত।” বিজেপি-র যুব মোর্চার ঝাড়গ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক সুমন সাহু বলেন, “দিলীপদা জানেন, ঝাড়গ্রামে কারা, কীভাবে সংগঠনের কাজটা করে চলেছেন।” আগামী জানুয়ারিতে ঝাড়গ্রামে এক দলীয় সমাবেশে দিলীপবাবুকে সংবর্ধনা দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন সঙ্ঘ পরিবার ঘনিষ্ঠ নেতারা।

বিধানসভা ভোটের আগে জঙ্গলমহলে বিজেপির ছন্নছাড়া সংগঠন কতটা চাঙ্গা হয় দেখার।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy