সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্ত রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ প্রায় সাত মাস পরে ধরা পড়েছেন। সোমবার রাতে নিউ টাউনে মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এক পথচারীকে ধাক্কা মেরে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। কিন্তু এই প্রশান্তই এত দিন পুলিশের কাছে ছিলেন ‘ফেরার’। তাঁকে কেন ধরা যাচ্ছে না, সেই প্রশ্ন উঠেছিল। প্রশান্তের সূত্রেই এ বার সার্বিক ভাবে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারির সুরে পুলিশের উদ্দেশে দিলীপের বার্তা, ‘‘হয় পাল্টে যান। না হলে মানুষই পাল্টে দেবে।’’
দিলীপ বলেন, ‘‘পুলিশ তো কাউকে খুঁজে পায় না। তাদের সঙ্গে সন্ধ্যাবেলা বসে খায়, তার পর বলে খুঁজে পাচ্ছি না। সব জায়গায়, মেদিনীপুরেও এই সমস্যা আছে। পুলিশের অভ্যাস না-পাল্টালে, পাবলিক পাল্টে দেবে।’’ উল্লেখ্য, দিলীপ পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর সদরের বিধায়ক। ২০১৯-২০২৪ পর্যন্ত তিনি ছিলেন মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ।
এখানেই থামেননি দিলীপ। তৃণমূল জমানায় পুলিশ যে জায়গায় পৌঁছেছিল, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশের অনেক দিন ধরে এই ধরনের বদভ্যাস রয়েছে। মিথ্যা কথা বলা, নেতাদের সঙ্গে গা ঘষে-ঘষে চলা, চোর-ডাকাতদের সঙ্গে শেয়ার করা— এগুলো পাল্টানোর দরকার আছে। পাবলিক যে ভাবে অ্যাগ্রেসিভ হয়ে বেরিয়ে আসছে, তার পর কে কাকে বাঁচাবে? পুলিশ লোককে বাঁচাবে, পুলিশকে কে বাঁচাবে?’’
আরও পড়ুন:
পুলিশের সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন মন্ত্রী দিলীপ। না-হলে গণরোষ আছড়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দিলীপ বলেন, ‘‘পুলিশের সাবধান হওয়া উচিত। এত দিন অত্যাচারের পরে লোক খেপে গিয়েছে। সব জায়গায় অপরাধের সঙ্গে পুলিশ জড়িয়ে রয়েছে। সে খবরও আসছে আমাদের কাছে। তাই পুলিশ নিজের দায়িত্ব পালন করুক। না হলে জনরোষ এমন হবে যে, কেউ কাউকে বাঁচাতে পারবে না।’’
কেন পুলিশ ও সরকারি আধিকারিকদের একাংশ এই পর্যায়ে চলে গিয়েছেন, তারও ব্যাখ্যা দেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ওসি, আইসি, বিডিওরা বিগড়েছেন কেন? কারণ, তাঁদের খারাপ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ধীরে ধীরে তাঁরা সেটাকে স্বাভাবিক মনে করেছেন। এখন তো ঠিক হওয়া উচিত। না হলে এঁদেরকে গ্যারাজ করা হবে। আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’’
বিরোধী পরিসরে থাকার সময়ে প্রায়ই পুলিশের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যেত দিলীপকে। কিন্তু প্রশান্তের ঘটনায় দিলীপ বুঝিয়ে দিলেন, বিরোধী পরিসর থেকে তিনি রাজ্যের মন্ত্রী হলেও অবস্থানে বদল হয়নি। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রী হিসাবে গত ৯ মে ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া আরও চার জন শপথ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম দিলীপ। প্রাথমিক ভাবে দফতর বণ্টনের পরে শুভেন্দুর হাতেই রয়েছে স্বরাষ্ট্র তথা পুলিশ দফতর। কিন্তু একাংশের পুলিশকে বার্তা দিলেন মন্ত্রী দিলীপও।