Advertisement
E-Paper

ঘণ্টাখানেকের রুদ্ধশ্বাস নাটক, কাঁথি আদালত চত্বর থেকে পালাল আসামি, গুলি করে ফের পাকড়াও

বৃহস্পতিবার সকাল সওয়া এগারোটা নাগাদ পুলিশের গাড়িতে করে কাঁথি আদালত চত্বরে নিয়ে আসা হয় চার দাগী আসামীকে। কিন্তু, গাড়ি থেকে ওই আসামীদের নামানো মাত্রই একটি বাইক থেকে দুই যুবক এলোপাথাড়ি বোমা ছুড়তে থাকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০১৮ ১৪:২৩
এই বাইকে চড়েই পালানোর ছক কষেছিল কর্ণ ও তার শাগরেদরা। গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

এই বাইকে চড়েই পালানোর ছক কষেছিল কর্ণ ও তার শাগরেদরা। গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

ঠিক যেন কোনও হিন্দি সিনেমা। কাঁথি আদালত চত্বর থেকে পুলিশের গাড়ি করে জেল হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বিচারাধীন কয়েক জন বন্দিকে। গাড়িতে তোলার আগেই ধুন্ধুমার। বোমা এবং গুলির আওয়াজ। সঙ্গে ধোঁয়া। তার মধ্যেই পালিয়ে গেল তিন দাগী আসামী। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় এলাকারই এক পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে এক আসামি কর্ণ বেরাকে গুলি চালিয়ে গ্রেফতার করল পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। গোটা ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল সওয়া এগারোটা নাগাদ পুলিশের গাড়িতে করে কাঁথি আদালত চত্বর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল চার বিচারাধীন আসামিকে। কিন্তু, গাড়িতে তোলার আগেই দুই যুবক এলোপাথাড়ি বোমা ছুড়তে থাকে। সঙ্গে গুলি চালানো হয় বলেও অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে গোটা চত্বর ধোঁয়ায় ভরে যায়। গুরুতর জখম হন তিন পুলিশ কর্মী। আর তার মধ্যেই পালিয়ে যায় কর্ণ বেরা, শেখ মুন্না এবং সুরজিৎ গুড়িয়া নামের তিন আসামি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যে যুবকরা এসেছিল তাদের হাতে বোমার ব্যাগ এবং পিস্তল ছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে পড়েন ওই বন্দিদের নিরাপত্তারক্ষীরা। কয়েক জন বোমায় জখম হন। আর সেই ফাঁকেই তারা পৌঁছে যায় পোস্ট অফিস মোড়ে। এক যুবকের বাইক ছিনতাই করে তাতে উঠে পড়েন কর্ণ। বাকি দুই বন্দি এ দিক ও দিক দৌড়ে পালায়। কিন্তু, বাইকে ওঠার পর সেটা আর স্টার্ট হয়নি। বেশ কয়েক বারের চেষ্টায় স্টার্ট না হওয়ায় তিন জনেই দৌড়ে পালায়।

দেখুন সেই রুদ্ধশ্বাস ভিডিয়ো

আরও পড়ুন: দাড়িভিটে আজ কি মানবাধিকার দল

তত ক্ষণে স্থানীয়রা কর্ণের পিছনে ধাওয়া করেছে। এ গলি ও গলি পেরিয়ে কর্ণ রথতলা মোড়ের কাছে একটি পাঁচিল ঘেরা পরিত্যক্ত বাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে কাঁথি থানা থেকে বিশাল বাহিনী ওই এলাকায় পৌঁছয়। হ্যান্ডমাইকে তাকে আত্মসমর্পণের জন্য ঘোষণা করা হতে থাকে। কিন্তু, তাতে কোনও কাজ হয়নি। এর পর এক পুলিশ কর্মী ওই পাঁচিলের উপরে উঠে তাঁর সার্ভিস রিভালভার থেকে কর্ণকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। সেই গুলি গিয়ে লাগে কর্ণের পায়ে। এর পর তাকে ফের গ্রেফতার করে কাঁথি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় উত্তেজিত জনতা কর্ণকে মারধর করার চেষ্টা করে।

তবে, পুলিশের হাত থেকে কর্ণ এই প্রথম পালায়নি। এর আগে সে তিন বার একই কাজ করে এবং পরে ধরাও পড়ে। ২০১৭-র ১ মে কাঁথি উপ-সংশোধনাগার থেকে পালিয়েছিল বন্দি কর্ণ। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে রাতে টহলদারি পুলিশ কনস্টেবল খুন এবং একাধিক ব্যাঙ্ক ডাকাতি, পেট্রোল পাম্পে লুঠের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিল কর্ণ। কর্ণ তার আগেও দু’বার সংশোধনাগার ও আদালত থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। জেলের জানলার রড কেটে সে বার পালিয়েছিল সে।

আরও পড়ুন: কোন পথে তৃণমূলের নরেশ দেবনাথের হাতে এল কার্বাইন?

২০১৬-র ১২ জানুয়ারি কাপাসএড়্যায় ৪১ নম্বর জাতীয় সড়কে টহল দেওয়ার সময় দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারান মহিষাদল থানার কনস্টেবল নবকুমার হাইত। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত ছিল কর্ণ। সাক্ষীরা জানিয়েছিলেন কর্ণই ওই পুলিশকর্মীকে গুলি করে মারে। ওড়িশা-ঝাড়খণ্ডের অপরাধ জগতেও কর্ণ পরিচিত। পেটুয়াঘাট মোড়ে পেট্রোল পাম্পে ডাকাতিতে তার নাম জড়িয়েছিল। ২০১৫-র ৩ ফেব্রুয়ারি বাড়ঘাসিপুর থেকে ধরা পড়ে কর্ণ। ওই বছরের ৭ অক্টোবর পুলিশের চোখে ধুলে দিয়ে এই কাঁথি আদালত থেকে পালায় সে।

তবে, এমন এক জন অপরাধীর ক্ষেত্রে পুলিশ কী ভাবে এতটা অসতর্ক থাকল তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

Kanthi Purba Medinipur Kanthi court Prisoner কাঁথি
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy