E-Paper

তালিকায় উদ্বেগ সুনালীর পরিবারের, নিশ্চিন্ত আমির

নিশ্চিন্ত মালদহের আমির শেখ। কালিয়াচকের সুজাপুর বিধানসভার ভোটার আমির। সেখানে ২ লক্ষ ৫১ হাজার ১৮৬ জন ভোটারের মধ্যে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫১৮ জন ‘বিবেচনাধীন’। তবে পরিবারের কারও নাম বিবেচনাধীন না থাকায় স্বস্তিতে আমির।

দয়াল সেনগুপ্ত 

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৮:২৩

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভিন্ন ছবি দুই জেলার তিন পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারে। তিন জনকেই অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে পাঠানো হয়েছিল বাংলাদেশে। দেশে ফিরতে পেরেছেন মালদহের আমির শেখ ও বীরভূমের সুনালী খাতুন। এখনও ফেরা হয়নি বীরভূমের সুইটি বিবি ও সুনালীর স্বামী দানিশ শেখের।

সুনালী খাতুনের মা, সুইটি বিবির মায়ের নাম ‘বিবেচনাধীন’ থাকায় উদ্বেগে পরিবার। সুনালীর বাবা, পাইকরের ভদু শেখ জানান, তাঁর ও তাঁর স্ত্রী জ্যোৎস্না বিবির নাম ছিল ২০০২-এর ভোটার তালিকায়। ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির’ কারণ দেখিয়ে শুনানিতে জ্যোৎস্নাকে ডাকে কমিশন। ভদু বলেন, ‘‘পেট চালাতে কাজে যেতে হয়। তাই স্ত্রী বাইরে ছিল। আমিই সব নথি জমা দিয়েছিলাম। এখন দেখছি স্ত্রীর নামের উপরে ছাপ মারা।’’ তবে ভদু, তাঁর পুত্র ও পুত্রবধূর নাম তালিকায় রয়েছে। বিএলও সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘জোৎস্না বিবির নামের বানানে ভুল ছিল। শুনানিতে ডাকা হয়। নথিও জমা দেন। কেন বিবেচনাধীন বুঝতে পারছি না।’’

দিল্লিতে কর্মরত অন্তঃসত্ত্বা পরিযায়ী শ্রমিক সুনালী, তাঁর স্বামী দানিশ, তাঁদের নাবালক ছেলে এবং একই এলাকার বাসিন্দা সুইটি বিবি ও তাঁর দুই নাবালক পুত্রকে বাংলাদেশি বলে গত জুনে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয় বলে অভিযোগ। সুনালী এবং তাঁর নাবালক পুত্রকে ডিসেম্বরে দেশে ফিরিয়েছে কেন্দ্র। তবে সুনালীর নাগরিকত্ব বিচারাধীন থাকায় বীরভূমে ভোটার তালিকায় নাম তোলার পদক্ষেপ করা হয়নি বলে প্রশাসন সূত্রের দাবি। জেলার ভোটার তালিকায় নাম নেই দানিশেরও। তবে তাঁর মা দিলরুবা বিবি জানান, তাঁর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আছে।

সুইটির মা লাজিনা বিবির শ্বশুরবাড়ি ঝাড়খণ্ডে হলেও তিনি বীরভূমের ভোটার। ‘বিবেচনাধীন’ তাঁর নামও। একই ভাবে ‘বিবেচনাধীন’ এসেছে সুইটির মামাতো ভাই আমির খান-সহ একাধিক পরিজনের নাম। আমির বলেন, ‘‘পিসির (লাজিনা বিবি) নামের বানানে ভুল ছিল। আমাদের পাঁচ ভাই এবং বাবার নামও বিবেচনাধীন। চিন্তা হচ্ছে।’’

তবে নিশ্চিন্ত মালদহের আমির শেখ। কালিয়াচকের সুজাপুর বিধানসভার ভোটার আমির। সেখানে ২ লক্ষ ৫১ হাজার ১৮৬ জন ভোটারের মধ্যে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫১৮ জন ‘বিবেচনাধীন’। তবে পরিবারের কারও নাম বিবেচনাধীন না থাকায় স্বস্তিতে আমির। বলেন, “চূড়ান্ত তালিকায় সবার নাম ওঠায় স্বস্তি হচ্ছে। আশা করছি, এ বার আমারও নাম ভোটের তালিকায় উঠবে। আবেদন করেছি।” আমিরের বাবা জিয়েম শেখ বলেন, ‘‘বাবা, ঠাকুরদা এ দেশেই জন্মেছেন। আমরা এ দেশের নাগরিক। সব নথি দেখানোর পরেও যে ভাবে ছেলেকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল, তাতে তালিকায় নাম ওঠা না পর্যন্ত স্বস্তি ছিল না। এখন চিন্তামুক্ত।”

সহ প্রতিবেদন: অভিজিৎ সাহা

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR Election Commission

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy