Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৬ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

হাসিমুখে মুকুল-পুত্র, খাসতালুকে ‘আক্রান্ত’ অর্জুন সিংহ

বিতান ভট্টাচার্য
ব্যারাকপুর ২৬ এপ্রিল ২০১৫ ০৩:২০
খোশমেজাজে। তৃণমূল প্রার্থী শুভ্রাংশু রায় এবং সিপিএম প্রার্থী দীপাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। শনিবার কাঁচরাপাড়ায়। ছবি: রণজিৎ নন্দী।

খোশমেজাজে। তৃণমূল প্রার্থী শুভ্রাংশু রায় এবং সিপিএম প্রার্থী দীপাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। শনিবার কাঁচরাপাড়ায়। ছবি: রণজিৎ নন্দী।

কাঁচরাপাড়া ও ভাটপাড়া। দুই পুরসভায় শাসক দলের দুই নেতার ভিন্ন চেহারা দেখলেন ভোটাররা।

কাঁচরাপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ড। পাশাপাশি বসে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। লাল-সবুজের এই মেলবন্ধন সচরাচর দেখা যায় না। এখানে ব্যতিক্রম। অন্য ওয়ার্ডে তাঁর ইচ্ছে-অনিচ্ছের উপর বিরোধীদের থাকা, না-থাকা অনেকটাই ঠিক হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। ব্যতিক্রম নৈহাটিও। শিল্পাঞ্চলে যখন গুলি, বোমা, বুথ দখল, ছাপ্পার অভিযোগ, তখন বামেদের হারানো দুর্গে নিরুপদ্রবে ভোট হচ্ছে। এ সবই মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের কৌশলে। শনিবার সকালে তাঁকে দেখা গেল তাঁর একমাত্র প্রতিপক্ষ সিপিএমের দীপাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে ঢুকেছেন। এই সৌহার্দ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ কী? প্রশ্নটা বোধ হয় ভোটারদের মনেই সবচেয়ে বেশি উঁকি দিয়েছে।

বাবা পরামর্শ দিয়েছিলেন— ‘মাথা ঠান্ডা রেখো, তবেই জয় হবে’। পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে মেনেছেন। এ দিন শুভ্রাংশু নিজেই বলেন, ‘‘অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে, একটু ভাল ব্যবহার অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। দীপাঞ্জন ভাল মানুষ। আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই।’’ হাসি দীপাঞ্জনের মুখেও। সারা বছরই কি হাত ধরাধরি করে থাকেন? তবে পাঁচটা বুথে এজেন্ট দিতে পারল না কেন সিপিএম? দীপাঞ্জন বলেন, ‘‘সম্পর্ক সুন্দর বলেই তো হাত মেলানো। রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণার বাইরে বাকিটা ব্যক্তিগত। এজেন্ট দাঁড় করানো যায়নি লোক মেলেনি বলে।’’

Advertisement

কাঁচরাপাড়ায় গত পুরভোটে তৃণমূলের ঝড় সামলেও ২৪টার মধ্যে ১২টা বামেরা ছিনিয়ে নেয়। এ বার এজেন্টই মিলছে না! নাকি পর্দার আড়াল থেকে বাজিমাত করতে চাইছেন স্বয়ং মুকুল রায়! এ বার মুকুলের জায়গায় উপস্থিত তাঁর ছেলে। যিনি বলেন, ‘‘সকলের সঙ্গে সুব্যবহার আর কাজ করাই আমার লক্ষ্য। মানুষ যাঁকে চাইবেন, তিনিই নির্বাচিত হবেন।’’ গত পঞ্চায়েত ও বিধানসভা ভোটের আগে চরম বিরোধী অর্জুন সিংহের পিঠে হাত রেখে মুকুলকে ‘আমার ভাই’ বলতেও শোনা গিয়েছে। অর্জুন মুখর হলেও নিরুত্তাপ থেকেছেন মুকুল। যেমন এখন। নিজের এলাকায় ভোটের দিন নেই মুকুল। বরং পতিত জমিতে আবাদ শেখাচ্ছেন ছেলেকে।

উল্টো চিত্র ভাটপাড়ায়। এত দিন নিজের দাপটেই ভোট করিয়েছেন বিধায়ক অজুর্ন সিংহ। এ দিন তাঁর গলায় অন্য সুর। তাঁকে লক্ষ্য করে নাকি গুলি চালিয়েছে বিরোধীরা। কনভয়ে বোমা পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন, এ কি আদৌ সম্ভব! ভোটার থেকে পুলিশ, এমনকী, তৃণমূল নেতাদের একাংশও অবাক। জগদ্দল থানার পাশে একটি গুমটিতে দাঁড়িয়ে দাপুটে অর্জুন মুখ শুকিয়ে সাংবাদিক ডেকে আক্রান্ত হওয়ার কাহিনিই বলেন। অভিযোগ, ভাটপাড়ার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের দু’টি বুথে পৌনে ১১টা থেকে বোমা পড়তে শুরু করে। সেখানেই ঢুকেছিলেন বিধায়ক। বিরোধীদের অভিযোগ, বিধায়কের দলবলই বোমাবাজি-হাঙ্গামা করেছে। বিরোধীদের পার্টি অফিস ভেঙে ভোট লুঠ করেছে। অভিযোগের মুখ ঘোরাতেই আক্রান্ত হওয়ার গল্প ফেঁদেছেন অর্জুন। প্রশাসনও অর্জুনের অভিযোগ মানতে চায়নি। বরং বলেছে, ওই ওয়ার্ডে নাকি কমিশনের ক্যামেরা লাগানো একটি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে।

শিল্পাঞ্চলের দুই ‘দাদা’র দুই মেজাজ। এলাকার বাসিন্দারা এখন দেখতে চান, সেই মেজাজে ভর করে শিল্পা়ঞ্চলে কার রাজত্বের বিস্তার ঘটে।

আরও পড়ুন

Advertisement